ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Inu-press-con

গম থেকে ময়দা বানানোর প্রক্রিয়াটা বেশ জটিল। প্রথমে বাছাইকরা গম মেশিনে দিয়ে এক্সট্রাকশন রেট ঠিক করে দেয়া হয়।এরপর এই গমকে ভেঙে মেশিন থেকে বের হয় আটা ময়দা সুজি আর গো-খাদ্য ভুসি। একটা গম থেকে যে আটা ময়দা সুজি এইসব হয় তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। তবে জানলেও ক্ষতি নেই। ব্যাবসায়ীরা কোনো কিছু ফেলে দিবে না এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং আটা ময়দা বা সুজি বাজারজাতকরণে আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডিং প্ল্যান করা হয়। সমস্যাটা শুরু হয় আটা নিয়ে। সবচেয়ে পুষ্টিকর এই আটা কোনো ভাবেই এতদিন ধরে আমাদের দেশে খুব একটা চলছিল না। কারণ বেশির ভাগ আমাদের ধারণা আটা নিন্ম বৃত্তের খাবার। বৃত্তের এই জট কাটাবার জন্য দেশের নামকরা এক প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বাজারে নিয়ে এলো বিত্তবানের স্বাস্থকর আটা। শেষমেশ এক গম দিয়ে সব বৃত্তের সবাইকে সন্তুষ্ট করে ফেললো এই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি বাজারে এলো জাসদের নতুন মোড়ক। নতুন ভাবে এই রাজনৈতিক দলটি ব্র্যান্ডিং করা শুরু করলো। অজানা এক এক্সট্রাকশন রেটে জন্ম হওয়া ভুসি সমতুল্য এই দলটি ঠিক কি কারণে আড়মোড় ভেঙে জেগে উঠলো তা বোঝা গেলো না। ঢাকার রাস্তায় দেখা গেলো মার্ক্স্ আর লেনিন এর ছবি। যা হয়তো রুশ দেশেও এখন দেখা যায় না। যাই হোক হয়তবা উনাদের একটা ছোট খাটো হলেও বৃত্ত আছে। আর ব্যাবসায়ীদের মতো এই বৃত্তটিও ধরতে চাইছেন কেয় একজন। দলটির প্রায় প্রধান তত্ত্যমন্ত্রী ইনু ১০০ পয়সা আর ৮০ পয়সার এক্সট্রাকশন রেট দিয়ে যা বলছেন তাতে আসলে উনি নিজেদের অনেকটা ভুসির সাথে তুলনা করছেন। কারণ গম থেকে ২০ ভাগ ভুসিই বের হয়, ময়দা না। যাই হোক অন্তত উনার তুলনাটা বেশ অতুলনীয় পর্যায়ের। আত্ত্ব উপলব্দির পর্যায় থেকে।

পুরো গমের চালান থেকে কোনোভাবেই শতভাগ ময়দা হয় না। কিন্তু তাই বলে গো-খাদ্য যদি নতুন মোড়ক করে বাজারে তোলা হয় তবে ভোক্তা হিসেবে সবার বলার অধিকার আছে। দিন শেষে খাওয়ার দায়িত্ব তো আমাদের। অন্তত ভুসি জাতীয় খাবার এর পক্ষে আমি নই।

বড় রাজনৈতিক দল ভেঙে ছোটোখাটো দল হবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে ১৪ দল বা ৪ দল করে সবাইকে একই ব্র্যান্ড এর নামে চালিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বাছাইকৃত গমের মজুদ অনেক। ওনাদের স্যাম্পল গমের ধারণাদিলে বুজতে পারবেন। যেটা কিনা উনারা রিসার্ভ করে রাখেন পরবর্তী চালানের মান যাচাইয়ের জন্য। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে পাপন মুসাফিজ আর মাশরাফি কখন খেলবে তা নির্ধারণ করেন।তাজ উদ্দিন এর ছেলে সোহেল তাজ আমেরিকা বাংলাদেশ করতে করতে উনার লাগেজ হারিয়ে ফেলেন। এতো বড় মাপের নেতারা যদি খেলাধুলা আর লাগেজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তবে বুজতে হবে এখনো খাঁটি গমের মজুদ অনেক আছে আওয়ামী লীগ এ। দেশবাসীকে ভুসি জাতীয় পণ্যের উপর নির্ভর না হলেও চলবে। প্রয়োজন শুধু সময় মতো গম ভাঙ্গানো। একজন বিচক্ষণ ব্যবসায়ীর মতো প্রধানমন্ত্রী ঠিক সময়ে তা করবেন এটা সবার জানা।

বিএনপিকে নিয়ে কিছু বলার নেই। উনাদের গমের পুরো চালানটাই ভেজাল। এর থেকে সুজি বা ভুসির চেয়ে বেশি কিছু বের হবে না। তাই এই দলটির নতুন চালান আসা পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

বড় বড় আটা ময়দার কারখানায় ভুসি বিক্রি হয় বস্তার দামে। মানে আপনি যদি ভুষি কিনতে চান তবে আপনাকে বস্তা কিনে দিলেই হবে। কারখানা থেকেই বস্তা বোঝাই করে আপনাকে দিয়ে দেয়া হবে ভুসি। এরমানে হলো ব্যাবসায়ীরা শুধু মাত্র বর্জ অপসারণ থেকে রেহাই পেতে এই গো-খাদ্য বাজারজাত করে।

আওয়ামী লীগের মতো এতো বড় মাপের একটা দলের বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা থাকবে না এটা মানা যায় না । শুধুমাত্র চটের বস্তার জন্য এই দলটি জাসদের মতো একটি দলকে নিজদের ব্র্যান্ডিং করতে দিবে এটাও মেনে নেয়া কঠিন। যত বৃত্তের কথাই বলি না কেন গো-খাদ্য কোনো ভাবেই আমাদের কোনো বৃত্তের মাঝে পরে না। আশা করি বড় দলগুলো বুঝতে পারবে ।