ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

David+Bergman
ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় লন্ডন থাকতে। ২০১০ এ। ডেভিড বার্গম্যান। আমার একটা আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করতে গিয়ে উল্টো বিশাল জামেলায় ফেলে দিলেন। সম্পর্কে ড: কামাল হোসেনের জামাই। মানে মেয়ের জামাই। তখন পরিচয় না জানলেও দেশে এসে জানলাম উনি একজন বিশাল কন্সপেরিসি মেকার। মানে উদ্ভট সব কল্পকাহিনী বানিয়ে ফেলেন মুহূর্তের মধ্যে। এরজন্য অবশ্য ব্রিটিশ এই ভদ্রলোককে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। হাজিরা দিতে হয় থানায় থানায়। কিন্তু ঠিক কি কারণে ব্রিটিশ এই ভদ্রলোক এখনো দেশে তা বোধগম্য নয়।উনার সর্বশেষ কল্পকাহিনী মোবাশ্বের সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি। ঠিক কোথা হতে খবরের উৎস তা না জানলেও খবর হিসাবে ছাপা হলো অনেক বিদেশি অনলাইন পোর্টালে। আধুনিক ভাষায় এর নাম ফেক নিউজ।

গেলো বছর আমেরিকার নির্বাচনে এই রকম ফেক নিউজ বেশ জনপ্রিয় ছিল। যার জন্য এখনো আমেরিকান সরকার নানান জটিলতার মধ্যে আছে। কোনো ভাবেই এই রকম ফেক কন্সপিরেসি নিউজ বন্ধ করতে পারছে না। আর এই ধরণের উত্তেজনাময় খবরের পাঠকও কিন্তু কম না। যারা অনলাইন এ যাই দেখেন তাই বিশ্যাস করার চেষ্টা করেন। ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের ভোট পরাজয়।

আমাদের দেশে এই রকম ফেক নিউজ অনলাইন পোর্টালের সংখ্যা খুব একটা কম না। তও আবার বিবিসি বা ডিডব্লিউ এর মতো বিদেশি পোর্টালগুলো। সাধারণ মানুষজন এমনিতেই সাদা চামড়ার মানুষের ভক্ত। আর সাদা চামড়া যদি মিথ্যে কথা বলে তাও অনেকের ভালো লাগে। সমস্যাটা সাদা চামড়ায় না। এর সাথে আমাদের যারা যোগ দিয়ে এই রকম খবরকে আরো আলোকিত করেন তারা। এদের বেশির ভাগ থাকেন দেশের বাইরে। ধরা ছোয়ার বাইরে থাকা এই দেশপ্রেমী মানুষগুলো ঠিক কি কারণে ফেক নিউজ ব্রডকাস্ট করে তা আমার জানা নেই। হয়তো কয়েকটা লাইক পেতে। কিন্তু একবারও ভাবেন না দেশের সাধারণ মানুষ এই ধরণের খবরকে কতটা গুরুত্ত্ব দিয়ে দেখে। ফলাফল ভোটের রাজনীতিতে।

অধ্যাপক মোবাশ্বের সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি। আমাদের এক তরুণ দেশপ্রেমী সুইডেনে বসে এই খবর পেলেন দেশ থেকে।খবর নিলে দেখা যাবে দেশপ্রেমী এই তরুণ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী সুইডেনে। উনি হয়তো নিজের কেস ফাইলের জন্য এই রকম খবর ছাপলেন। কিন্তু ডেভিড বার্গম্যান তো আর বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে নেই। উনি তো বিশাল ঘরের মেয়ের জামাই। ব্রিটিশ জামাই বলে কথা। স্বাভাবিক ব্রিটিশদের আচরণের বিপরীত এই ভদ্রলোক মানসিকভাবে একজন সরকার বিরোধী। হয়তো উনার শশুর বিরোধী তাই উনিও বিরোধী। কারণ ব্রিটিশ একজন সিটিজেন অন্য ঠিক কি কারণে সরকার বিরোধী হবেন আমার জানা নেই। কিছুদিন পরপর উনি এই রকম আজগুবি সব খবর প্রচার করেন আর হাজিরা দিতে যান থানায়। সরকার পড়েছেন বেশ বিপাকে। জামাই আদর করবেন না দেশ থেকে বের করবেন উনাকে তাই নিয়ে চলে চিন্তা ভাবনা।

একজন মানুষের যখন সুন্দর বা সুখময় কোন খবর ভালো লাগবে না বুজতে হবে উনি স্যাডিস্ট বা কন্সপেরিসি বিলিভার। এই দুই প্রকার মানুষের সংখ্যা ভোটার রাজনীতিতে বেশ মূল্যবান। কারণ এরা সবাই এক সময় ভোট দিবেন আর মনের মধ্যে পুষে থাকা কন্সপিরেসি তত্ত্বের এর প্রকাশ ঘটাবেন। গণতন্ত্রে এদের বাধা দেবার কোন সুযোগ নেই। কারণ মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। এই সামান্য কিছু উদ্ভট চিন্তা ধারার লোকজন বদলে দিতে পারে ভোটার ফলাফল। যেমনটি হয়েছিল ট্রাম্পের সময়। এখন যদিও সবাই বুজতে পারছে । কিন্তু এখন বুঝে কি লাভ? যা ক্ষতি হবার তা তো হয়েই গেছে?

বিবিসি বাংলা বা ডিডব্লিউ বাংলা অনলাইন পোর্টালগুলো যারা চালান তাদের বেশির ভাগই এমন।অদ্ভুত এক জগতে বসবাস তাদের। সুন্দর বা সাধারণ কোনো খবরে এদের মন ভরে না। চাই ট্যাবলয়েড খবর। ডেভিড বার্গমেন বা এই পোর্টালগুলোকে সরকার কিছুই করতে পারছে না। কারণ গণতন্ত্রে সবার বলার অধিকার আছে। এমনকি উন্মাদেরও। কিন্তু উন্মাদের যদি ভোটার অধিকার থাকে তাহলে ভোটে ফলাফল ভিন্ন হতেই পারে। সাধারণ আমরা যতদিন ফটোশপ আর অরিজিনাল ছবির পার্থক্য বুঝবো না ততদিন ডেভিড বার্গমেনরা কন্সপিরেসি তত্ত্বের সন্ধানে থাকবেই। সাথে থাকবে আমাদের বিদেশমুখী কিছু রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী।