ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

maxresdefault
ভদ্রমহিলার নাম সোফি না সোফিয়া আমার জানা নেই। সৌদি আরবের নাগরিক। সম্ভবত উনি মুসলিম। যেহেতু সৌদি নাগরিক। সমস্যাটা হলো উনি একটি রোবট। আসছে ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ আসছেন। চাইলে আপনি গিয়ে কুশলাদিও বিনিময় করে নিতে পারেন। দেখার বিষয় হলো সৌদি এই নাগরিক হিজাব পড়বেন কিনা ? কারণ যে কোনো সৌদি নারীর জন্য হিজাব পড়া বাধ্যতামুলুক। খুব বেশি ভাবতে গেলে তালগোল পাকিয়ে যেতে পারে। কারণ চিরচেনা সৌদি আরবের নাগরিকদের সাথে এই রোবট ভদ্রমহিলার বেশ পার্থ্যক্য থাকতে পারে ।দিনদিন সবকিছু বেশ তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলার হুজুরদের ওয়াজের কোনো কিছুই যেন মানতে চাইছে না কেও। আর বড় গলায় বলার কেও নেই। রোবটটি যেহেতু মাসুদ বিন সৌদের বংশধর সৃষ্টিকর্তাই জানেন এর শেষ কোথায় হবে ?

সম্ভবত সৌদি রোবটের হিজাব না পড়লেও চলবে। চালাক সৌদিরা চালাকি করে রোবটটির চুল ছেটে দিয়েছে। যেহেতু চুল নেই তাই হিজাবের এরও ফতোয়া নেই। অসাধারণ বুদ্ধি মত্তার পরিচয় দিলো সৌদিরা। কি অসাধারণ।

প্রযুক্তির অনেক যুক্তি। ঠিকই একটা না একটা যুক্তি বের হয়ে আসবে আমাদের আই সি টি দপ্তর থেকে। তবে সমস্যাটা হবে সোফিয়ার ভাষা নিয়ে । কারণ আমায় যদ্দুর জানি সোফিয়া ইংলিশ বোঝে বেশ ভালো। আর এই ইংরেজি সেই ইংরেজি না। কঠিন সাহেবি ইংরেজি ।আপনি যদি এইচকে ’হেইচ’ উচ্চরণ না করেন সোফিয়া বুঝতে পারবে না। আমার মনে হয় সোফিয়ার সাথে কথা বলার আগে ছোট-খাটো একটা ইংরেজি শিক্ষার কোর্স করে নেয়া যেতে পারে। টিভিতে দেখলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র সোফিয়াকে “হার” মানে স্ত্রীলিঙ্গ বলতে বলছে। কারণ যেহেতু সোফিয়া নারী তাই কোনো ভাবেই যেন এই রোবটটিকে “ইট” বা ইহা বলা না হয়। ইহাকেই বলে পরম করুনাময়ের চরম আলামত।

আলামত বেশ ভালো। ঘরে ঘরে রোবট থাকবে। সৌদি কোর্মা খেজুরের মতো একসময় সৌদি আরব থেকে আমাদের রোবট পাঠাবে । আমরা আরবিতে কথা বলবো ওই রোবটের সাথে। সহি হাদিসও হয়তো শিখিয়ে দিতে পারেন এই রোবট । আরব দেশের রোবট বলে কথা। লন্ডন আমেরিকায় রোবটরা আমাদের মতো মানুষের চাকরি খেয়ে ফেলছে। তবে সৌদি এই রোবটগুলো হুজুরদের চাকরি খাবে এটা নিশ্চিত। দেখা যাবে কোন এক সময় সৌদি থেকে কেউ হুজুর রোবট নিয়ে আসবে দেশে। বাকিটা আসলেই চিন্তার বিষয়।

আমার ধারণা যদি সুযোগ থাকতো তবে সোফিয়াকে আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলো মাঝ রাতের টক্ শোতে নিয়ে আসতো। সবচেয়ে বেশি টিআরপি পাওয়া যেত। যাই হোক আমি সোফিয়ার বিপক্ষে না। কিন্তু সমস্যা হলো সোফিয়ার নাগরিকত্ত্ব নিয়ে আর তার বাংলাদেশের ভিসা নিয়ে। যেহেতু সোফিয়া সৌদি আরবের নাগরিক। তার বাংলাদেশে আসতে হলে অবশ্যই ভিসা করতে হবে। ৬ই ডিসেম্বর যদি সোফিয়া বাংলাদেশ ভিসা ছাড়া আসে তবে তা হবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ব্যর্থতা। তথা জাতির । সৌদি আরব যদি একটা রোবটকে নাগরিকত্ব দিয়ে এতো সাড়া ফেলে দিতে পারে আমরা ওই পাসপোর্টে ভিসা দিয়ে আরো বেশি নাড়া দিতে পারি।

আসুন নাড়তে থাকি।