ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

10417441_10152849499591130_2588983055961003534_n
ক্যালিফোর্নিয়ায় গাঁজা বিক্রি চলছে দোকানে দোকানে। চাইলেই যে কেউ গাঁজা সেবন করতে পারবে। এক আউন্সের দাম ১২০ ডলার এর মতো। সৌদিতে আনন্দ উদযাপন করে আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে। এইরকম গুলি ছুড়ে বিমান ফাটিয়ে দেবারও ঘটনা আছে শেখ সাহেবদের দেশে ।

আমার দেশে ফানুস উড়ানো বন্ধ করলো প্রশাসন। মানুষের ফানুস উড়ানোর মতো আদিক্ষেতা বেশ পুরানো ব্যাপার । মানুষ গুলু শুধু ফানুসটা ঠুস্ করে উপরে ছেড়ে দিয়েই আনন্দ পায় । এটি যে একসময় নিভে গিয়ে আবার মাটিতে ছিটকে পড়বে তা মানুষগুলো ভাবে না । ভাববার মানুষগুলো আলাদা । পুলিশ প্রশাসন , ডি সি সাহেব । এরা অন্য ধরণের মানুষ । উড়ে যাওয়া ফানুসের চেয়ে ছিটকে পড়া ফানুসের প্রতি এই মানুষগুলোর আগ্রহ বেশ। তাই যুৎসই এক সিদ্ধান্ত। ফানুস উড়ানো বন্ধ ।

কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষগুলোকে নিয়ে ভাববার কেউ নেই। সমানে গাঁজা-কোকেইন এই সব ছাইপাশ খেয়েই যাচ্ছে। এখানকার মানুষগুলো চাইলেই সব পায়। এদের প্রশাসনের মানুষ গুলোও অন্য সবার মতো। আমাদের চেয়ে হয়তো একটু ব্যাতিক্রম। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে বিসিএস দিয়ে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ কমিশনার হয়ে তো আর নিজের ছেলেবেলা ভুলে থাকা যায় না? খোলা আকাশের দিকে তাকানোও যে পাপ ছিল উনাদের ছোটবেলায়।

চট্টগ্রামের ডিসি হিলে থাকেন আরেক জেলা প্রশাসক। অনেক উঁচু পাহাড়ের উপর উনার বাড়ি। গাড়ি নিয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উঠতে হয় বাড়িতে । ডিসি সাহেবকে পাহাড়ের নিচে দিয়ে যাতায়াত না করলেও চলে। উনার বাসার সামনে আছে হেলিপ্যাড। চাইলেই একটা হেলিকপ্টার এসে উনাকে নিয়ে উড়াল দিতে পারে । এই রকম পাহাড় ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসে ও আছে কিনা আমার জানা নেই। পাহাড়ের নিচে আছে একটা উন্মুক্ত মঞ্চ। গরিব প্রজারা সেখানে মাঝে মধ্যে ফানুস উড়ায়। বোকা মানুষগুলো জানে না ফানুষগুলো উপরে উঠে ডিসি সাহেবের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। সুতরাং বন্ধ করা হলো ডিসি হিলের উন্মুক্ত মঞ্চ।

ডিসি সাহেবের বাসার নিচেই থাকেন গণপূর্ত মন্ত্রী।  উনি আবার বিসিএস দেয়া মানুষগুলোর মতো না। উনিও হয়তো উনার ছোটবেলায় অনেক ফানুস উড়িয়েছেন । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উনি নিচে থেকে এতো উপরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠবেন কী করে? গরিব প্রজাদের কথা তো এতো উপর পর্যন্ত যায় না। যাই হোক মানুষ বা ফানুস যে কোনো একটা বেছে নিতে হবে। গত মাস খানেক ধরেই বন্ধ চট্টগ্রামের ডিসি হিলের সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেখার কেউ নেই। প্রজাগুলোও বেশ নিথর। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে শেষমেশ মনের ফানুস উড়ায় ফেসবুকে। এছাড়া তেমন কিছু করারও নেই।

নিউইয়র্কের রাস্তায় যখন কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চলে তখন ভাবি আমরা ক’জন জানি এই ব্যাপারটা। কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না পুলিশের সামনে কী করে লাইসেন্স ছাড়া ডলার ভ্যান নামক গাড়িগুলো চলে । এখানকার পুলিশ কি জানে না? ধীরে ধীরে জানলাম এদের পুলিশ সবই জানে। কিন্তু মানুষের প্রয়োজন এদের কাছে সবার আগে । এরা চাইলেই এক মুহূর্তে এই সব লাইসেন্স বিহীন ডলার ভ্যান নিমিষেই হাপিস করে দিতে পারে। ফলাফল মানুষ জনকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে বাস বা ট্রেন এর জন্য। যেহেতু ডলার ভ্যানগুলো মানুষের কাজে লাগছে তাই নিউইয়র্কের পুলিশ জেনেও না জানার ভান করে থাকে। এদের প্রশাসন জনগণের প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করে।

জনগণ যদি গাঁজা খেতে চায় খাবে । জনগণের সুবিধায় যদি কিছু লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চলে চলুক। চেক এন্ড ব্যালেন্স করার জন্য প্রশাসন তো আছেই। এটাই বোধহয় গনতন্ত্র। আর একারণেই আমার আপনার কাছে বা একটু দূরের কেউ না কেউ আমেরিকার মতো দেশে পরে আছে।

দেশে যখন কোনো উন্মুক্ত মঞ্চ বন্ধ হয়ে যায় সবার উচিত এক সাথে চিৎকার করে উঠা। এতে প্রশাসন আর জনগণের মাজে চেক এন্ড ব্যালেন্স হয়। না হয় এক সময় পাহাড়ের উঁচুতে ঘুমিয়ে থাকা ডিসি সাহেবরা জেগে উঠবেন তাদের ছেলেবেলা নিয়ে। আর চাপিয়ে দিতে চাইবেন আমাদের ছেলেবেলার উপর।