ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 


মেয়েটার জ্বর। মাথা ব্যথায় কাতরাচ্ছে। এই সময় বাবা হিসেবে আমার একমাত্র কাজ বাসার আইপি ক্যামেরা অন করে বসে থাকা। নিউ ইয়র্ক থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভবও না। মেয়েকে বোঝালাম এটা খুবই স্বাভাবিক একটা জ্বর। এই সময় গাছে গাছে ফুল ফুটবে, কাঁধে ঝোলা ঝুলানো লোকগুলো ফুলের মেলা করবে আর ফুলের রেনু থেকে জ্বর সর্দি কাশি হবে। এটাকে সিজনাল flu বলে। মেয়ে কি বুঝলো বুঝলাম না, ঘুমিয়ে পড়লো। চোখ ভিজে এলো আমার। এখানে থাকলে হয়তো flu শটটা দেয়া যেত। ১২০০০ মাইল দূরের বাবাদের অনেক কষ্ট।

এর মধ্যে আবার সটাং করে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলো। সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয় নাকি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এখন থেকে রাতের বেলা ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখবে। অস্বাভাবিক এই ঘটনা খুবই স্বাভাবিক দেশে। আগে থেকে কিছুটা আঁচ করতে পেরে একটা প্রক্সি আইপি কিনে রেখেছিলাম। বিধি বাম। পুরো ইন্টারনেটই বন্ধ। কিছুই করার নেই। ঠিক কি কারণে দেশে ইন্টারনেট বন্ধ বা কি কারণে প্রায় ভুলে যাওয়া একটা দলকে সরকার নিজে থেকে ব্র্যান্ডিং করে দিচ্ছে এইসব নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। কোন নেত্রী ডিভিশনাল সুযোগ-সুবিধা পেলো তার চেয়ে আমার মেয়েকে ডিভিশনাল সুযোগ করে দেয়াটাই মুখ্য।

শরণাপন্ন হলাম আমাজন ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্স এর। বাসার টিভিতে বসে মেয়েটা অফলাইনে যদি আমার সাথে কথা কথা বলতে পারে। জানিনা এতে দেশের আইনে কোনো বাধা নিষেধ আছে কিনা! তবে থাকলেও সমস্যা নেই। ম্যাডাম জিয়ার ডিভিশনের জন্য যদি রাস্তায় লোকজন জান দিয়ে দিতে পারে আমি আমার মেয়ের জন্য এটকু রিস্ক তো নিতেই পারি।

দেশে হঠাৎ করে ওয়াসার পানি বন্ধ হয়ে যাবে, গ্যাস বন্ধ হয়ে যাবে। জরুরি কাজ ভেবে চিন্তে করতে হবে। চাইলেই ধুম করে করে ফেলা যাবে না। দুই পা পেঁচিয়ে বাথরুম চেপে রাখার অভ্যেস করে নিতে হবে। এটাই স্বাভাবিক। এর জন্য বালতি করে পানি জমিয়ে রাখতে হবে বা রান্না-বান্না আগে ভাগে করে নিতে হবে। কিন্তু ইন্টারনেট তো আর বালতি করে জমিয়ে রাখা যায়না। তবে গেলে ভালো হতো। সবার বাসায় একটা করে ডিজিটাল বালতি থাকতো।

বাসায় ইন্টারনেট না থাকার যন্ত্রনা জব্বার ভাই বুঝবেন না। উনারা সবাই মিলে প্রায় অবসরপ্রাপ্ত এক মন্ত্রীর চাকরি বাঁচাতে ব্যস্ত। নয় ছয় বুঝিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ব্যস্ত সবাই। ভাগ্যিস পরিবেশ মন্ত্রী জানেন না ফুলের রেনু থেকে জ্বর-সর্দি-কাশি হয়। দেখা যাবে সব ফুল গাছ কেটে সাফ। অস্বাভাবিক মনে হলেও এটাই স্বাভাবিক। এটাকে নিউ নরমাল বলা হয়। যখন অস্বাভাবিক মানুষ জন নিজেদের আচরণ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে তখন এই রকম ঘটনা ঘটতেই পারে। অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মতো।

যাই হোক দেশ বা রাজনীতি কোনোটাই আমার বিষয় নয়। আপাতত আমার মেয়ের জ্বর সারানোর উপায় নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশ বা রাজনীতি উদ্ধারের জন্য রাতের বেলা টক্ শোতে মুখের ফেনা বের করে ফেলা লোকের অভাব নেই। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করে শিক্ষা মন্ত্রীর কি লাভ হবে আমার জানা নেই। আমি যে কোনো উপায়ে হোক দেশের আইন মেনে আমার মেয়েকে ডিভিশনাল সুযোগ দেবই। সামর্থের বাইরে হলেও করবো। কারণ এই মুহূর্তে আমার কাছে দেশের চেয়ে পরিবার আগে। কারণ সরকার আমার মেয়ের ডিভিশনাল সুযোগ-সুবিধা থেকে প্রায় ভুলে যাওয়া এক নেত্রীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে ব্যস্ত ।