ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

বায়োস্কোপ। একেবারে ছোটবেলায় বাড়ির উঠোনে বায়োস্কোপ ওয়ালার হাকডাকে ছুটে যেতাম। বাক্সের সামনে ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে কতো দৃশ্য দেখা যেত। সে কী বিস্ময়। ছোটবেলায় বায়োস্কোপ দেখার সেই অদ্ভুত ঘোরটা এখনো কাটেনি। এরপর যত বড় হচ্ছি, আজব যাদুর এই বাক্সটাও যেন হারিয়ে যেতে থাকল। এরপর যখন প্রথম টেলিভিশন দেখলাম, মনে করেছিলাম-বায়োস্কোপ বুঝি এখন এমন রূপ ধারন করেছে।

বায়োস্কোপ : বাংলা একাডেমির বেশাখী মেলায় নজরুল মঞ্চের পেছন থেকে তোলা ছবি
এরপরপরও বিস্ময়টা লেগেই ছিল। কৈশোর পেরিয়ে বিল্ডিংয়ের ভেতর যখন প্রথম ‘বড় বায়োস্কোপটা’ দেখলাম তখন মনে হয়েছিল-আমি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটাও বড় আকার ধারন করেছে। পড়ে বুঝলাম-এটি সিনেমা, বায়োস্কোপের আধুনিক সংস্করণমাত্র।

এরপর সেই সিনেমা হল থেকে সিনেপ্লেক্স হয়েছে, থ্রিডি, ফোর ডি ভার্সন বেরিয়েছে। তবে এখনো বায়োস্কোপের ঘোর কাটেনি। মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক জীবনের কোথায়ও সেই আজব বাক্সটা দেখলে থমকে দাঁড়াই।

২৩ এপ্রিল বাংলা একাডেমির বৈশাখী মেলায় দেখা মিলল হারিয়ে যাওয়া সেই বায়োস্কোপের। সামনের দিকটার ছিদ্রগুলোতে দর্শক চোখ, উপরি অংশের চাবি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বায়োস্কোপওয়ালা দিচ্ছেন দৃশ্যের ধারাভাষ্য। অন্য হাতে থাকা খঞ্জনের শব্দে সেই ধারাভাষ্য সুরে সুরে ছড়িয়ে যাচ্ছে বাতাসে। সত‌্যিই ২৩ এপ্রিল শনিবারের দুপুরটায় বাংলা একাডেমির বৈশাখী মেলায় বায়োস্কোপ দেখে হারিয়ে গিয়েছিলাম ফেলে আসা কিছু ভুলে যাওয়া, কিছু স্মৃতি ধরে রাখা সেই ছোট্টবেলায়।