ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বদরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ১৩ মার্চ। এরপর তাকে আদালতে নেওয়া হলে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা কারগারে রয়েছেন।

NU

খবরটি পুরনো এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি লজ্জার। এর সঙ্গে বড় একটা উদ্বেগ যোগ হয়েছে ১৯ মার্চ থেকে। এ উদ্বেগটা সারাদেশের লাখো শিক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবকদের। সারাদেশের কলেজ পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা ‘দেখভালের’ দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উদ্বেগ আর শঙ্কাটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

কী আছে সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে? এক কথায় বললে- দুর্নীতির অভিযোগে তাদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কারাগারে। সুতরাং আগে ঘোষিত ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের সব ধরনের স্নাতকোক্তর পরীক্ষা স্থগিত! মূল বিষয়টা হচ্ছে-একজন ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তার জন্য লাখো শিক্ষার্থী জিম্মী!

১৯ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘অনিবার্য কারণবশত আগামী ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত ও প্রাইভেট এমএ, এমএসএস, এমবিএ, এমএসসি ও এম মিউজ শেষ পর্ব (আইসিটিসহ) পরীক্ষা স্থগিত করা হল।’ কিছুদিনের মধ্যে উল্লিখিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হলেও সেই দিনটা কবে- সে প্রশ্ন অসহায় শিক্ষার্থীদের।

এ বিজ্ঞপ্তি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কপালে ভাঁজ পড়ার কথাই। কারণ যাদের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে তারা এমনিতেই অন্তত দুই বছরের সেশনজটে আটকে আছেন। এখন পরীক্ষা স্থগিত মানে নিচের সব সেশনের পরীক্ষা পেছাবে। ফলাফল- আরো লম্বা সেশনজট।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটা উদ্বেগ ছড়ালেও এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্যটা বড় আতঙ্কের। তিনি পরীক্ষা স্থগিতের অনিবার্য কারণটা বলেছেন গণমাধ্যমে। উপাচার্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজ টোয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ‘ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কারাগারে থাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘আমাদের কন্ট্রোলার সাহেব গ্রেপ্তার, উনি পরীক্ষার মূল ব্যক্তি। উনার জামিন বা মুক্তি না হলে আমাদের জিম্মায় পরীক্ষা নেওয়া কঠিন।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতো একজন শিক্ষাবিদ কী বার্তা দিচ্ছেন? তিনি কি বলতে চাচ্ছেন- দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে মুক্তি না দিলে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তার জন্য লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থামিয়ে দেওয়া হবে, জিম্মী করা হবে শিক্ষার্থীদের?

আচ্ছা অন্য কোন কারণে- ধরা যাক অসুস্থতা বা মৃত্যুজনিত কারণে যদি ওই কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকতেন তাহলে কী পরীক্ষা বন্ধ থাকতো? এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কী একজন কর্মকর্তার জন্য বন্ধ থাকে! একজন দুর্নীতি করবেন, তাতে কপাল পুড়বে, স্বপ্ন ভাঙবে লাখো শিক্ষার্থীর- এটা কেমন নৈতিকতা?

কেন গ্রেফতার হয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান? বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তার সঙ্গে মামলার আসামি আরো ১২ জন।

সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণনিয়োগ’ পাওয়া ১৬৯ জন কর্মচারিকে ‘অবৈধভাবে’ সিলেকশন গ্রেড দিয়ে সরকারের এক কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় মামলায়। দুদক ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েই আসামিকে গ্রেফতার করেন।

তাহলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করা হল কেন? শিক্ষার্থীদের দোষটা কোথায়? যদি তাই না হয়,  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নষ্ট করবেন না।