ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

৭ মার্চ ১৯৭১, আমাদের প্রিয় ভূখণ্ড তখনো পাকিস্তানের অধীনে। ’৪৮ পরবর্তী ২৩ বছরের শোষণ, নিপীড়ন আর অত্যাচারে মানুষের বুকে দানা বেঁধেছে মুক্তির স্বপ্ন। কিন্তু দেশ স্বাধীন করে ফেলার মতো দুঃসাধ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন হয় এক মহানায়কের। সে মহানায়ক তখন সারাদেশের প্রাণপ্রিয় মুজিব ভাই। হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা তার বাঁশির সুর দিয়ে বের করে এনেছিলেন সকল শিশুকে, আর মুজিব ভাই এদেশের সকল মানুষকে তাঁর বজ্রকণ্ঠ দিয়ে বের করে আনলেন মুক্তি সংগ্রামে। সারাদেশ একযোগে গর্জে উঠে বলল, বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।

একটি দেশের অধীনে থেকেও প্রকাশ্যে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ফেলা মানুষটি নিশ্চিতভাবেই যেকোন মুহূর্তে মৃত্যুর খড়গ মাথায় নিয়েই ঘুরেছেন। তাই তিনি সেখানেই শেষ নির্দেশনা প্রদান করে গেছেন। লক্ষ লক্ষ জনতা যখন মুজিব ভাইয়ের নির্দেশনায় আস্থা রাখার স্লোগানে সমাবেশস্থল প্রকম্পিত করে ফেলে, তখন মুজিব বললেন, হুকুম দিতে পারার মতো সময় তিনি না পেলেও যেন এদেশ থেকে প্রতিটি শত্রু বিতাড়িত করতে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যেন শত্রুর মোকাবেলা করে।

অস্ত্রহীন মানুষের জীবন মায়া ত্যাগ করে ভয়ডরহীন যুদ্ধে নেমে পড়ার যে প্রচণ্ড সাহস জেগে উঠেছিলো তাঁর সবটুকু কৃতিত্ব আমাদের মহানায়কের, আমাদের রাজনীতির মহাকবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তাইতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো আজ বলছে, এ বক্তব্য শুধু বাঙালির নয়, এটি পুরো বিশ্বের এক অনন্য সম্পদ, প্রামাণ্য দলিল।

গত ৪৭ বছরে আমরা তাঁকে কতটুকু ধারণ করতে পেরেছি? আমার দেশের একজন নেতা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরেও বলে গেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই।’ ভাবা যায়?

দু-বস্তা চাল আর দুইটা কম্বলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাওয়া বর্তমানের স্মৃতিভ্রংশ রোগ ভালো হোক। মনে পড়ুক, আমাদের এক মুজিব ভাই প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরো দেশটাকেই এনে দিয়েছিলেন।