ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

যদি মনে করেন আগের বিচার আগে হবে, তাহলে যুদ্ধাপরাধির বিচার তো’ আরো পঁয়ত্রিশ বছর আগে হওয়া দরকার ছিল। এখন কেন এতদিন পর হচ্ছে। কার শরীরে এতদিন পর এলার্জি দেখা দিল। বিশ্বের গরীব দেশ গুলো যখন ধনী রাষ্ট্রের গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা চল্লিশ বছর আগের একটি বিচার নিয়ে মগ্ন আছি এবং দেশ যে রসাতলে যাচ্ছে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমার থেকে তো’ মনে হয় বর্তমানে এদেশের কোন অভিবাবক আছে কিনা?

আমরা এসব যুদ্ধাপরাধীর কে সাথে ৯৬-এ নিয়ে অসহযোগ আন্দোলন সহ আরো কঠোর কর্মসূচি নিয়ে একই মঞ্চে, কাধে কাধ মিলিয়ে রাজনীতি মাঠ উত্তপ্ত রেখেছিলাম আমাদের কি বিচার হওয়া উচিত মনে করেন না? তারা যুদ্ধাপরাধী, তারা রাজাকার, তারা আল-বদর, তারা রগ কাটা দল এতো দোষ জেনেও কেন আমরা ৯৬-এ তাদের কে নিয়ে এত আন্দোলন করলাম, জাতি আমাদের কে কি কোন দিন ক্ষমা করবে? আমরা তো’ সবচেয়ে বড় অপরাধী।

এসব যুদ্ধাপরাধীদের কে আমরাই বাংলাদেশে রাজনীতি শিখিয়েছি ৯৬-এ রাজপথে নামিয়ে। আমরাই সবচেয়ে বড় অপরাধী। জাতির উচিত, ওদের বিচার না করে আমাদের বিচার করতে।

আমরা যদি জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এর মত একটি স্থাপনা তৈরী করে প্রতি বছর ১৬ই wW‡m¤^i ঐ স্থাপনা যেয়ে জুতা নিক্ষেপ করি, তাহলে মনে হয় তারা সহ তাদের বর্তমান ও ভষ্যিত প্রজন্ম লজ্জা পাবে। জাতীর কাছে তারা মাথা উচুঁ করতে পারবে না।

বিশ্বজিৎ- এর হত্যাকারীরা আমাদের রাজনীতি দলের সক্রিয় কর্মী, দিনের আলো মত তা’ পরিস্কার। তারপরও আমরা নিলর্জ্জের মত তাদেরকে বাচাঁনোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমরা জানি হত্যাকারী সে হত্যাকারী, সে যে দলের লোক হউক। হউক সে একজন মন্ত্রীর ছেলে, এমপির ছেলে, চেয়ারম্যানের ছেলে, বিএনপির নেতার ছেলে, আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে, জামাতের নেতার ছেলে তার বিচার হতেই হবে। আমরা কেন এত পার্থক্য করি। আপনি মনে করেন যুদ্ধাপরাধীর বিচার আগে হবে, খুব ভাল কথা। তাহলে কি বিশ্বজিৎ-এর বিচার জন্য বিশ্বজিৎ-এর মা-বাবাসহ এদেশের জনগণ কতদিন অপেক্ষা করবে? তার কোন উত্তর দিবেন।

ধন্যবাদ।