ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

ঈদের টিকেট নিয়ে মহা-দুশ্চিন্তায় ছিলাম।পনেরো দিন আগে সাধারনত: রেগুলার টিকিট পাওয়া যায়। কিন্তু এবার কি হলো,সরি টিকিট হচ্ছেনা। ব্যাগটা হাতে নিয়ে বাজারের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বিড় বিড় করে বল্লাম,এবার ঢাকাতেই ঈদ করতে হবে । তেজপাতা-চিনি-বাইছা বাইছা কিনি।”সরি স্যার চিনি পাইবেন না,আমার কাছে সামান্য কিছু চিনি আছে, অনেক কষ্টে যোগাইছি,একদাম ৭৫ টাকা করে পড়বো।”বাসায়ফিরে এসে চেহারাটা ভালো করে আয়নায় দেখলাম কোথাও হতভাগা কথাটা লিখা আছে কিনা। ওয়াইফকেও বললাম। সে কিছু বল্লোনা,হয়তো দেখেছিল কিন্তু সাহস করে বলতে পারেনি।
জুম্মার নামাজের পূর্ব মুহুর্তে সংবাদ পেলাম,দুটা টিকিট আছে।
–কোথায় ?
–কামরাঙ্গীর চরে।
–ফাজলামো পেয়েছো ব্যাটা!এমনিতে মনটা খারাপ তার উপর নুনের ছিটা ফেলতে এসেছো?
–ফাজলামো না,ফাজলামো না, সাড়ে চারটার ভেতরে আসলে পাবেন,পার সিট দেড়শো টাকা কইরা বেশি লাগবো।

বাবু বাজার ব্রীজের নিচে থেকে ছাড়ে ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ যায় গাবতলী -আমিন বাজার পর্যন্ত। এনেক গাড়ি চলে,সোয়ারী ঘাট থেকে উঠলাম দশ টাকা টিকেট করে । ঈদের মার্কেট প্রচন্ড ভীড়,গাড়িও চলে মিরা বাই এর মতো হেইলা-দুইলা-ঝক্কড়-মক্কড়।এদিক ওদিক তাকালাম,ব্যাপারটা কি বোঝার জন্য। দেখেই তো আমার চু চড়কগাছ,সোয়ারীঘাট থেকে শুরু করে বেড়িবাধ হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা এক হাঁটু পরিমান কাদা অথচ এটা পাকা সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলে এ পথে। যারা ঢাকা শহরের উপর প্রভাব ফেলে না। বাবু বাজার ব্রীজ থেকে নিয়ে সোজা নামিয়ে দেয় গাবতলী। এ যাত্রীগুলো যদি গুলিস্তান রুট ব্যাবহার করতো তাহলে একেকবার জ্যাম ছাড়াতে কয়েকদিন করে সময় লাগতো । কেননা মাওয়া থেকে বাবু বাজার আসতে যতটুকু সময় লাগে বাবু বাজার থেকে গুলিস্তান তার চাইতে বেশিই সময় লাগে তা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন। দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি টু বঙ্গবাজার যে ফাইওভার হচ্ছে তার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।ঐ রুটে সাধারনত যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ এলাকায় বেশি জ্যাম হয় আর ঐ গাড়িগুলো গুলিস্তানের পূর্ব পাশ থেকে ছাড়ে বা পূর্ব পাশে এসে হল্ট করে।গুলিস্তানের ঐ অংশে জ্যাম হওয়ার আরেকটা অন্যতম কারণ সেখানে কোন বাস টার্মিনাল নাই ফলে গাড়িগুলো রাস্তা ব্লক করে প্যাসেঞ্জার তোলে।এখানে আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগে বঙ্গবাজার থেকে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি এই রুটে বর্তমানে কতটা গাড়ি গুলিস্তান ক্রস করে চলে?এর পরিমান যদি নগন্য হয় তাহলে যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ অথবা গুলিস্তান পূর্বপাশে জ্যাম কমবে কি?। যাহোক যা বলছিলাম ,সোয়ারীঘাট থেকে শুরু করে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত এ দু’কিলো রাস্তাতে আমি কোন সাইকেল,মোটরসাইকেল,রিক্সা বা পথচারী দেখিনি। যানবাহন বলতে ঝক্কড়-লক্ড় বাস আর লেগুনা গাড়িগুলা। অন্য যানবাহন চলার সাহস বা মতা নাই। অথচ গুরুত্বের দিক থেকে এই রাস্তাটা হওয়া উচিত হাইওয়ে অথবা ফাইওভার।এটা শুধু আমার নয় চলাচলকারীদেরও একই মত। আমি যে বাসটাতে গেলাম তা কোনমতে এই ভয়ানক রাস্তাটুকু পাড়ি দিলো বটে কিছুটা গিয়ে চাকা পাংচার হয়ে গেলো। গায়ে ছিটকে পড়লো কাদা। বিরক্তির ভাব নিয়ে কাদা মুছতে মুছতে মনে পড়লো ছোটবেলার কথা। এঁটেলমাটি দিয়ে গোল করে তরকারির বাটির মতো করে তৈরি করতাম। এরপর মাটির উপর উপুড় করে আছাড় দিতাম । পটাশ করে একটা শব্দ হতো আর ছিটকে পড়তো কাদা মুখে-শরীরে। খুব মজা লাগতো। টিকেট আগেই কাটা হয়ে গেছিল। যারা পারলো পরবর্তী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো আর আমি বীরের মতো লেজগুটিয়ে আরও এক কিলো রাস্তা হেঁটে উদ্দিষ্ট স্টপেজে পৌছলাম। আর মনে মনে বললাম,এত্তবড় ভয়ানক কাদা পার করতে মাত্র দশ টাকা,অথচ ১০ ফুট দৈর্ঘের রাস্তায় পানি জমলে পার করতে রিক্সাওয়ালা নেয় ৫ থেকে ১০ টাকা আর চীৎকার করে করে ডাকে,এই পানি পার,পানি পার।এবার তাহলে জিতেছি।খুশিতে বুকটা ভরে উঠলো। বাল্যকালের স্মৃতির ছায়াছবিটাও একবার দেখা হয়ে গেল বিনে খরচায়।