ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

৩.অতিথি পাখি পর্ব :
যাগো জানে পানি হুকাইয়া যায়(হাপানি),শাস নিতে কষ্ট অয় হ্যাগো তেলাপোকা চা-পাত্তির লগে সেদ্ধ কইরা খাওয়াইলে জানে পানি ফিইরা পাইবো। আচ্ছা থাক ঠিক আছে,তেলাপোকার কথা আর কমুনা বুছছি হ্যা তোর সতিনের লেহান,হ্যার কতা তোর কানে লাগে।

অবশেষে এবার ঈদ কাটলো তোর ওখানে। তোর ওখানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলনা।খবর পেলাম তোর বাসায় অসুস্থতার। ঈদের পরের দিন গেলাম,অনেকদিন পর কাছে পেয়ে কি অমন করে খাবার চাপালি ? নাকি আমাকে জোর করে খাবার চাপালে আমি অপমানিত বোধ করি তাই সেটারই প্রাকটিস করলি ? হ্যারে আমি কি কি খেতে পছন্দ করি তাকি ভুলে গেছিস ?

ঈদের দিন বিকেলে কে একজন খবর দিল,কালুহাটিতে হাজার হাজার অতিথি পাখি এসেছে। কালুহাটি রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার একটি গ্রাম। থানা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার পুর্বদিকে। শিক্ষার হার বেশ ভাল। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ সাবলম্বী হয়েছে কুটির শিল্প হিসাবে জুতা তৈরিকে বেছে নিয়ে। প্রায় ৪০-৫০ টি পরিবার জুতা তৈরি কারখানার সঙ্গে জড়িত। ওদের তৈরি জুতা আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা সহ সারাদেশে সাপ্লাই করা হয়ে থাকে। যাহোক বিকেল পাঁচটার দিকে সাংবাদিক আবু হানিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছুটলাম। গিয়ে দেখি সত্যিই অবাক করার মতো। হাজার হাজার পাখি প্রায় ৯-১০ টি গাছে বাসা বেধেছে শুধু তাইই না বাচ্চাও উঠায়েছে। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তাইনা কেননা যেখানে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে চিড়িয়া খানা তৈরি করেছি সেখানে যে যত সামান্য চিড়িয়া থাকে তা খাদ্যাভাবে আর রোগের প্রকোপে মৃত প্রায়। সেখানে একেকটা আম গাছের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে এক একটা বাচ্চা সহ পুরো দম্পতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার প্রফেসর ওমর সারের বাসার আঙ্গিনায় শুধু আমরা চারজনই না হাজার হাজার লোক আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছে এ বিরল দৃশ্য। পাখিগুলোর কি নাম জানিনা,কেউ কেউ বলছে শামুককূল। লম্বা পা ওয়ালা বেশ বড়,সাদা-এ্যাস কালারের সমন্বয় এর রং এদের। বিমানের মতো কোনটা উড়ছে আবার কোনটা নামছে বাচ্চার জন্য মুখে খাবার কিংবা বাসা বাঁধার খড়কুটা নিয়ে। মানুষের দিকে ওদের কোন ভ্রুপে নেই।বাসা বাধার জন্য আম গাছগুলো বা মালিক ক্ষতিগ্রস্থ বটে।সরকারীভাবে কোন সহযোগীতা দেয়া হয়েছে কিনা কিংবা সংরক্ষণের ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে কোন জবাব দিতে পারেনি এলাকাবাসী । তবে সাংবাদিক আবু হানিফকে পত্রিকায় রিপোর্ট লিখতে বললে তিনি জানান এ বিষয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। এলাকার লোকের কাছে থেকে জেনেছি পাখিগুলো নাকি এ এলাকায় কয়েক বছর থেকেই আসছে তবে এ বছর একটু বেশি। যখন আসে তখন তিন চার মাস করে থাকে। এসেই কোনমতে বাসা বেঁধেই ডিম পাড়ে। আর চলতেই থাকে বাসা বাঁধা। এক পর্যায়ে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। বাচ্চা যত বড় হতে থাকে বাসাও বড় করতে থাকে। তারপর একদিন বাচ্চা উড়তে শেখে,উড়তেই থাকে তাদের পিতা-মাতার সাথে,উড়তেই থাকে অনে-ক অনে-ক দূর,অনে-ক উপরে। জানিনা ওরা আর কখনো ফিরে আসে কিনা!

হা-হা-হা:! শুধুই কি বাচ্চা ফলানোর জন্য এ জগতে আসা ?