ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

আজ কিছু কথা তোর সাথে একেবারে ফ্রাংকলি বলবো সেটা হলো,”ইদ্দত” এ শব্দটার সঙ্গে তোর পরিচয় আছে কিনা ? আই মিন এ সম্পর্কে তোর জানা আছে কিনা ? ঐযে, হাজব্যান্ড সেপারেশনের পর মেয়েদের যে ০৩ মাস ১০ দিন পরবর্তি বিয়ে থেকে বিরত থাকা ইসলামের যে বিধান সেটার কথাই বলছি। আসলে এটার একটা সাইন্টিফিক লজিক আছে যেটা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে অথচ সেটা অনেকেই মানতে চায়না,পাশকাটিয়ে বিকল্প খারাপ পথ দেখায়। আর এটা মানে না বলেই বিশ্বে এইডস এর মতো অপ্রতিরোধ্য মরণ ব্যাধি দ্রুত গতিতে প্রসার লাভ করছে। কেনিয়ার মতো ক্ষুদ্র একটি দেশে প্রতি ০৭ জনে ০১ জন এ মরণ ব্যাধির ছোবলে কাতরাচ্ছে।

”এইডস এর জন্ম কিভাবে ?” এরূপ একটা প্রশ্ন করেছিলাম এইডস বিরোধী প্রচারের সাইনবোর্ড,লিফলেট,ব্যানার এবং প্রতীক বুকে বেধে নিয়ে বড়বড় যারা কথা বলে তাদেরকে । উত্তর দিতে পারেনি তারা। তবে তার সুষ্ঠু জবাব আমি পেয়েছি কোরআন থেকে।

এইডস এর পুরা রূপ হলো,এক্যুয়্যারড ইম্মিউন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম । এর অর্থ কি জানিস ? আমার কাছে মনে হয়েছে,অর্জিত অপ্রতিরোধ্য শারিরিক অসুস্থতাসমুহের সমন্নয় জনিত ঘাটতি । একজন স্ত্রীলোক হাজব্যান্ড থেকে সেপারেট হওয়ার পর ঐ হাজব্যান্ড এর রক্ত ঐ মহিলার শরীরে ০৩ মাস বিদ্যামান থাকে যেটা তিন মাসে তিনটি মিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্লিয়ার হয়ে যায়। কিন্তু যদি ঐ মহিলা উক্ত সময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে পুর্বোক্ত স্বামির রক্ত এবং পরবর্তী স্বামীর রক্ত একত্রে এসে উক্ত মহিলার শরীরে ভয়ানক রোগের সৃষ্টি করতে পারে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরেকটু ক্লিয়ার হবে,একই ওভারিতে যদি ”ও পজেটিভ” এবং ”এ পজেটিভ” রক্ত মিশ্রিত হয় সেটা কি এডজাস্ট হবে ? হবেনা। আর সেজন্যই ইসলামে ব্যভিচারকে হারাম ঘোষনা করেছে শুধু তাইই নয় এর ধারের কাছে যাওয়াও নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। এটা গেল একটা দিক মাত্র। এছাড়া সন্তানের পিতৃত্ব, নারীর সম্মান,সামাজিক বিশৃঙ্খলা এরূপ বহুবিধ কারন রয়েছে যার কারনে ইসলামে এরূপ সংস্পর্শ নিষিদ্ধ করেছে যার সবটা আমাদের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে বোঝা সম্ভব নয়। যেমন সম্ভব নয় একটা নরমাল ক্যালকুলেটর দ্বারা সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর এর কাজ করা। মানুষের জ্ঞানের পরিধি যে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেনা মুলত: সেখান থেকে অহির জ্ঞান শুরু হয়।

মজার বিষয় কি জানিস,ব্যাভিচারের শাস্তি আমাদের দেশে হয়েছে এমন কোন নজির নাই। ব্যাভিচার যাতে আরও বেশি বৃদ্ধি পায় সে জন্য শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে,এইডসকে আর নাই ভয় বাপের ব্যাটা কনডম লয়। ব্যাপারটা হয়েছে, অপরাধিকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে অভয় দেওয়া হচ্ছে,ভয় নেই তোমার এই লও সুরা(প্রটেকশান-কনডম)। দেশের প্রশাসন ব্যাভিচারী-ব্যাভিচারীনীদের খুঁজে পায়না ? নাকি তারাও এরই স্রোতে গা ভাসিয়ে চলছে ? তাহলে এইডস বিরোধী এমন প্রচারণার অর্থ কি ? এত অর্থ অপচয় কিসের জন্য ?

আচ্ছা বলতো,একটা চোর চুরি করে গোপনে পালিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু পালানোর সময় গর্তে পড়ে পা ভেঙ্গে গেল ফলে সে ধরা পড়ে গেল।এখন তার চুরির বিচার হবে ? নাকি পায়ের চিকিৎসা দিয়েই মাফ ? ৯৯% এইডস হয় অবাধ অবৈধ সম্পর্ক থেকে অথচ এই ব্যাভিচারকারী-কারীনীদের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হচ্ছে, এদের সাথে একই প্লেটে খেলে, একই পুকুরে গোসল করলে এইডস ছড়ায় না। খুব ভাল গবেষণা! গোপনে বা প্রকাশ্যে ব্যাভিচারের কারনে আজ তারা ভুক্তভোগী, আর এদের অপকর্মের সাস্তি না দিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। অথচ কোরআনে এর আইন তৈরি করাই আছে এদের শাস্তি দেওয়ার জন্য। কোনটা ভালো হলো ? ফসলের জমিতে যে গাছটা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত সেটাকে আদর করে লালন করা, চিকিৎসা দেওয়া শুধু অপচয়ই নয় আরও অধিক তির কারনও বটে। কথাটা শক্ত মনে হচ্ছে না ? কিন্তু এটাই বাস্তবতা। অসুস্থকে চিকিৎসা দেওয়া মানবিক দিক । কিন্তু এ অসুস্থতার পুর্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলা তার চেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব । সুতরাং আমরা এরূপ মানবেতর পরিস্থিতির মোকাবেলা করার পূর্বেই পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোকে সমুলে বিনাশ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হই তাহলে আমাদের অর্থ, শ্রম,সময় এবং টেনশন একদিকে যেমন কমে যাবে অপরদিকে শারিরীক সুস্থতা ও চরিত্র সুরতি হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে,”মানি ইজ লস্ট নাথিং ইজ লস্ট,হেল্থ ইজ লস্ট সামথিং ইজ লস্ট বাট ক্যারেক্টার ইজ লস্ট এভরিথিং ইজ লস্ট।” আর চরিত্রহীন একটা জাতি কোনদিনই মাথা তুলে দাড়াতে পারেনা। আমরা আমাদের দেশকে স্বাধীন করেছি,ইজ্জত-চরিত্র রা করবো বলেই,মৌলিক অধিকার(খাদ্য, চিকিৎসা ইত্যাদি) নিশ্চিত করবো বলে। আসুন আমরা এইডস থেকে মুক্ত থাকার আন্দোলনে সোচ্চার হই এবং সুস্থ-সুন্দর একটা দেশ গড়ে তুলি।