ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

বর্তমানে বার্মার মুসলমানরা নির্যাতিত। তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। জাতিসংঘ থেকে তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এর তরফ থেকে এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। এটা কি ঠিক হল? ৭১ এ আমরাও নির্যাতিত অবস্থায় এভাবে ভারতে শরণার্থি হয়েছিলাম। আমাদের মহানবী সা: নিজদেশে নির্যাতিত হয়ে মদিনায় হিজরত করেন। নির্যাতিত মানবতাকে সহানুভূতি জানানো তাদের দু:খে সহযোগিতার হাত বাড়ানো সবারই উচিত। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে ৭১ এর কথা স্মরণ করে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেচে থাকতেন তবে তিনিও মানবতার পক্ষে থাকতেন বলে আমার বিশ্বাস। এটাকে কেউ সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক লেখা ভাববেন না। আজ যদি মুসলমান ছাড়া অন্য কোন সম্প্রদায়ও নির্যাতিত হত তার বিষয়টাও একই রকম মত হত। মজলুম সে যেই ধর্মের বা গোত্রের হোক না কেন মানবিক দৃষ্টি নিয়ে তার পাশে এসে দাঁড়ানো সবার উচিত। একবার গৌতম বুদ্ধকে এক লোক খুব গালাগালি করতে লাগল। তিনি মনোযোগ সহকারে তার সেসব গালি শুনলেন কিন্তু প্রতি উত্তর দিলেন না। তখন সে লোকটি তাকে বলল, কি ব্যাপার আমি আপনাকে এতগুলো গালি দিলাম আর আপনি একটাও প্রতিউত্তর করলেন না। তিনি বললেন , ধর তোমাকে কেউ কিছু দিল আর তুমি গ্রহন করলে না তবে জিনিসটি কার থাকল ? সে বলল, আমি গ্রহন না করলে তা যে দিবে তারই থাকবে। এই যে তুমি আমায় এতো গুলো গালি দিলে তা আমি গ্রহন করলাম না। এভাবে বুদ্ধ ধর্মের প্রান পুরুষ গৌতম বুদ্ধ মারামারি সহিংসতা এড়িয়ে চলতেন। সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। মানবিকতার কথা বলে। কাজেই মানবিকতা কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারেনা। আপনি যে ধর্ম বা গোত্রের হন না কেন সবার আগে আপনি মানুষ তারপর মানুষ হিসেবে আপনার ধর্ম। মোট কথা বার্মার যে সমস্ত নাগরিক বাংলাদেশে নির্যাতিত হয়ে আসছে তাদের প্রতি সরকারের পজেটিভ হওয়া উচিত ।