ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আত্ম বিশ্বাসী হওয়া ভাল। তাই বলে নিজের অবস্থান বিবেচনা না করে হওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। আমরা যারা জনগণ দিন আনি দিন খাই অবস্থা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে পাগল প্রায়। এর মধ্যে বিদ্যুত বিল আসছে অসম্ভব রকম বেশী। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা সর্বশান্ত।

২ টাকা ইনকামের সোর্স নাই ১০ টাকা খরচের স্বপ্ন। বলা হচ্ছে এক বেলা না খেয়ে পদ্মা সেতু করা হবে। খোঁজ নিয়ে দেখেন যারা এ কথা বলেন তাদের কেউ কি একবেলা কখনো না খেয়ে ছিলেন কিনা। আমরা জনগন খাইয়া না খাইয়া এমনিতেই থাকি। আমাদের কাছে ১টি দিন না খাওয়া কোন ব্যাপার না। কথা হলো আমরা তো অভাবের তাড়নায় এক বেলা না খেয়ে থাকি বা তার চেয়ে কম আধপেটা খেয়ে থাকি। কোন ফান্ড কালেকশনের জন্য না খাওয়ার সুযোগ কোথায়। যাক সে কথা, পদ্মা সেতু বিষয়ে আমাদের জনগনের মাঝে অতি আবেগ প্রবন দু’একজনের ব্লগে লেখা পড়ে মনে হলো এইটা হলো খুবই সহজ একটা কাজ বাঁশের সাঁকো তৈরীর মত। এক বেলা খাওয়া কম খেলেই ফান্ড যোগার হয়ে যাবে। ব্যাপারটা কি তাই? হ্যা সরকার বিশ্ব ব্যাংকের দ্বারা অপমানিত হয়েছে। আত্মসম্মান বোধ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন কমেন্টস করেছেন। কিন্তু সত্য তো স্বীকার করতে হবে। শোষিত নিষ্পেষিত জনগনের কাছথেকে কিভাবে আপনি ফান্ড জোগার করবেন। যাদের দিনে দু বেলা খাবার ঠিক করে জোটে না তারা কি করে আপনাকে ফান্ড দিবে। আপনাকে ফান্ড দিতে পারে আমাদের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী শ্রেনীর রাঘব বোয়ালরা। এজন্য তাদের একবেলা কম খাওয়ারও প্রয়োজন হবে না। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নমিনেশন পেপার ক্রয় করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন চালায়, ডোনেশন দেয় তাদের কাছে টাকা আছে। ভুখা জনগনের কাছে টাকা নাই।

আপনি ঘোষনা করুন না এবার আপনার দল থেকে তারাই নমিনেশন পাবে যারা পদ্মা সেতুর জন্য মোটা অংকের টাকা ডোনেট করবে। বলে দেখুন না। কি হয়। দুর্বল জনগনকে পেসার না দিয়ে সবলদের (যারা লক্ষ টাকা দিয়ে ব্যাংক কিনে ফেলেন) তাদের থেকে পদ্মা সেতুর টাকা কালেকট করুন। ইনশাল্লাহ আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসাবে পদ্মা সেতু আমরা তৈরী করতে পারবো।