ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

বই পড়ার অভ্যাস আমার সেই ছোট বেলা থেকে। ভুত প্রেতের গল্প, ঠাকুমার ঝুলি থেকে শুরু করে সুকুমার রায়ের কবিতা, উপেন্দ্র কিশোর রায়ের গল্প এগুলো আমি ক্লাস থ্রী -ফোরে থাকতে পড়ে ফেলেছি। ইসলামী ফাউন্ডেশনর ইসলামিক বই নবীদের কিছ্চা কাহিনী, শিশু পত্রিকা আব্বা আমাদের জন্য পুরোনো বাজার থেকে প্রায় আনতেন। সেগুলোও পড়ে পড়ে বই পড়ার একটা আগ্রহ তৈরী হয় আমার মধ্যে। রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুর সিরিজ আমার প্রথম কিশোর সিরিজ। তারপর তিন গোয়েন্দা, গোয়েন্দা রাজু , মাসুদ রানা সিরিজ দিয়ে প্রবেশ করলাম বিরাট বই পড়ার ভুবনে। এরপর হুমায়ুন আহমেদের লেখার সাথে পরিচয় হল ১৯৯০ সালে। তখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি।

হুমায়ন আহমেদ এর কিশোর উপন্যাস বোতল ভুত দিয়ে আমার হুমায়ুন জগতে যাত্রা শুরু। এর পর একে একে ভুত ভুতঙ ভৌত, পুতুল আরো অনেক কিশোর সাহিত্য আমি পড়ি। কলেজে ভর্তি হয়ে হুমায়ুন আহমেদ এর প্রথম যে উপন্যাসটি আমি পরি তা হল বৃহন্নলা। এরপর একে একে দেবী , নিষাদ , দরজার ওপাশে, হিমু , দারুচিনি দ্বীপ সর্বশেষ ইন্টারেনেটে পড়ি হিমুর আছে জল আর হিমুর নিল জোস্না। পারিবারিক ব্যস্ততায় আর বই পড়া হয়ে উঠেনি। অফিসে বসে ব্লগে মাঝে মাঝে লেখা লেখি করি। এই চলছিল । হঠাত এ কোন খবর শুনলাম বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারটায়। আমি আছি তুমি আছ শুধু হুমায়ুন নাই। আর হিমু সিরিজ পাবনা। আর মিসির আলী পাবনা। আর পাবনা সেই পাগলাটে টিভি নাটগুলো। ভাবতেই কেমন যেন ভারাক্রান্ত হয়ে গেল মনটা।

আমার ছো্ট একটা পাবিবারিক লাইব্রেরী রয়েছে। যার বেশীর ভাগ বই হুমায়ুন আহমেদ নামের এই মজার একই সাথে অদ্ভুত মানুষটার। আমার এই যে লেখা লেখি হুমায়ুনের বই পড়ে সৃষ্টি হয়েছে বলা চলে। একজন লেখক একজন নাট্যকার, একজন নির্মাতা, একজন চিত্রকর, একজন কবি, এক অঙ্গে কত রুপ।

সত্যই বিরল। ক্ষণজন্মা এ মানুষটির প্রতি জানাই শেষবারের মত আন্তরিক শুভেচছা ভালবাসা।