ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

যুদ্ধ বরাবরই অশান্তি। তারপরও সব ধর্মে যুদ্ধের বিধান রয়েছে। সত্যের পক্ষে অসত্য আর অশুচি ধ্বংসের জন্য। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ তেমনি একটি। যুগে যুগে অসত্যকে রুখতে ঐশ্বরিক দুত পাঠান স্রষ্টা। ইসলাম ধর্মেও তেমনি বদর -ওহুদ- খন্দক অনেক যুদ্ধ রয়েছে।

১৭ ই রমাজন । বদর যুদ্ধ । ৩১৩ জনের মোকাবেলায় ১০০০ জন।

১৭ ই রমজন। বদর যুদ্ধ হয়েছিল এ দিনে।

সর্বশক্তিমান স্রষ্টার মহান এক দুত ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মদ সা:। সব সময় সত্যের কথা বলতেন । সবাই তাকে ভালবাসতো। তাকে ডাকত আল-আমিন (বিশ্বাসী) নামে। সত্যের বানী প্রচার করতে যেয়ে তাকে এতোদিন যারা এতো ভালবাসত তার হয়ে গলে শত্রু। এজন্য তায়েফের ময়দানে তাকে নির্যাতিত হতে হয়েছে। ঐশ্বরিক ভাবে তাকে বলা হয়েছিল তিনি চাইলে দুটি পাহাড় একত্র করে নির্যাতনকারীদের খতম করে দেয়া হবে। তিনি কখনো অশান্তি চাইতেন না। তাই নির্যাতিত হয়েও তখন আল্লাহর কাছে নির্যাতনকারীদের যাতে ধ্বংস না করা হয় তার জন্য দোয়া করেছেন। বলছেন এরা অবুঝ।এদের হেদায়েত দেয়ার জন্য। এরা যদি শেষ হয়ে যায় তাহলে কার কাছে তোমার বানী প্রচার করব।

এই হেন নবী ১৭ই রমজান অসত্যের বিরুদ্ধে প্রথম অস্ত্র ধারন করলেন। কেন এই সংগ্রাম? তার কিছুটা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি (যতটুক আমি জানি)।

শান্তির বানী প্রচারে তার পদে পদে বাধা। মক্কার কুরাইশরা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করল। তিনি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করলেন। সেখানেও তাকে শান্তিতে থাকতে দিলনা ইহুদী নেতারা। তারা মক্কার মুনাফিক ও কাফের সরদারদের সাথে মিলে তারা নবীর বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র করতে লাগলো। মহান আল্লাহ তখন পবিত্র কোরআনে প্রথম যুদ্ধের আয়াত নাযিল করলেন। “যুদ্ধ করো তাদের সাথে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। আর সীমালংঘন কর না।”

কি সুন্দর আয়াত। সেলফ ডিফেন্স। কেউ আমাকে আক্রমন করলে আত্মরক্ষার খাতিরে আমি তার সাথে লড়ব। পাশাপশি সতর্কবাণী নিয়ম শৃংখলা মেনে সীমার মধ্যে থেকে তা করতে হবে।

ইসলামের নবী তাই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। কিন্তু একি ! তাদের ৩১৩ জন যোদ্ধার বিপক্ষে ১০০০ জনের এক বাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তরে প্রস্তুত কাফের কুল।

কিন্তু নবী পেলেন ঐশ্বরিক সাহায্য। ফেরেশতারা এ যু্দ্ধে ৩১৩ জনের সাথে একত্র হয়ে যুদ্ধ করেন।আর কাফেরদের দৃষ্ট ভ্রম হল তারা একজন ইসলামি যুদ্ধা কে বেশী দেখতে লাগলো। এতে তাদের মনে ভীতির সঞ্চার হল। তারা যুদ্ধে হেরে পলায়ন করল। আর এভাবে সত্যের পক্ষে প্রথম বিজয় অর্জিত হল।

সত্য সম উজ্জল। মিথ্যা বিলুপ্ত। মিথ্যা তো বিলুপ্ত হবারই- আল কোরআন।

অসত্যের অপপ্রচার আজো চলছে। বলা হয় ইসলাম তরবারির মাধ্যমে এসেছে। সত্যি কি তাই! কিন্তু ইসলামের নবী সা: এর জীবন পর্যালোচনা করে অনেক অমুসলিম মনিষী তাকে গ্রেট লিডার হিসেবে মুল্যায়ন করেছেন। তাকে একজন সংস্কারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার যুদ্ধ গুলো সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ ছিলনা। ছিল আত্মরক্ষা। তিনি যেচে কখনো যুদ্ধ চাননি। তাকে অসত্যের পূজারীরা যুদ্ধ করতে বাধ্য করেছে।

**তার রণ কৌশলে একটি অনতম দিক হল মানবতা বোধ। তিনি বলেছেন যুদ্ধের সময় যেন অসহায় নারী পুরুষ আর শষ্য ক্ষেত্রের বা সম্পদের যাতে ক্ষতি না করা হয়।
***তিনি বন্দিদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছেন। তাদেরকে অশিক্ষিত আরবদের শিক্ষাদীক্ষা দেবার কাজে নিয়োজিত করেন।
*** তিনি শান্তির জন্য একটি অসম সন্ধি করেন। যাতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম (শুরু পরম করুনাময় আল্লাহর নামে) বাক্যটি কাফেরদের শর্ত মতে কেটে দেন তিনি। কি চমতকার দৃষ্টান্ত।

বর্তমান যুদ্ধ আর জংগী্বাদের এ জমানায় ইসলামের নবী যুদ্ধ সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গী শান্তি প্রতিষ্ঠার এক অনুকরনীয় মডেল ।

ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। উপস্থাপন করা হচ্ছে ইসলামের যুদ্ধ গুলোকে। তাই বেশী বেশী করে অধ্যয়ন প্রয়োজন। আসুন আমরা ইসলামী বই বেশী বেশী পরি। আর ইসলামকে সঠিক ভাবে জানার চেষ্টা করি।

বর্তমানে আমরা কতো দিবসই তো পালন করছি। যদি আপনি সত্যের পক্ষে একজন হিসেবে নিজেকে মনে করেন তাহলে ১৭ই রমজানে সত্যের পক্ষে বদর পান্তরের এ যুদ্ধকে বদর দিবস হিসেবে স্মরণ করুন। এ যুদ্ধে শহীদদের জন্য দোয়া করুন।