ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

মহিলার নাম সুমি। থাকেন সাতাইশ ঈদগাঁহ রোড, টংগী গাজীপুর। গত কিছুদিন হল তিনি ৮০ হাজার টাকা খরচ করে গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন। অবাক হচ্ছেন। অবাক হবারই কথা । সরকারিভাবে তো আবাসিক গ্যাস সংযোগ স্থগিত। তবে কিভাবে এই সংযোগ? মনে রাখতে হবে আমাদের দেশ দুর্নীতিতে চাম্পিয়ান। কাজেই এটা আমাদের দেশের জন্য কোন ব্যাপারই না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় শুধু সুমি নন এভাবে টংগী এলাকায় প্রায় ১১৫টি অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। রাতের অন্ধকারে সবাই যখন ঘুমিয়ে ঠিক তখনই বেশ কিছু লোক গ্যাসের পাইপ. রাইজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয়। তারপর শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। জানা যায়, এর সাথে জড়িত তিতাসের অনেক কর্মকর্তা। সরকার বলছে বর্তমানে যে গ্যাস মজুত আছে তা থেকে কৃষি ও কারখানা এগুলোকে গ্যাস দিয়ে যদি থাকে অতিরিক্ত আবাসিক ভাবে সরবরাহ করবে। তবে আবাসিক এলকায় দেয়ার মত অতিরিক্ত গ্যাস সম্ভবত থাকবেনা। এ পরিস্থিতিতে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিকরা নতুন গ্যাস সংযোগ পেতে বেশী টাকা ঘুষ দিয়ে অবৈধ সংযোগ নিচ্ছেন। যার পরিমান ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মত। দেখা যাচ্ছে গ্যাস অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা এই টাকা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে ভাগবাটোয়ারা করে গ্রুপ ভিত্তিক এহেন কাজ করছেন। এতে তিতাসের অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত বলে ধারনা করা হচ্ছে।

জানা যায় এ সংযোগে আপাতত বিল দেয়া লাগবে না । যেহেতু তা সরকারি ভাবে লিস্টেট না। তবে কর্মকর্তারা প্রাথমিক কাগজ-পত্র ঠিক করে তাদের সংযোগ দিচ্ছেন। পরবর্তীতে সরকারী ভাবে সংযোগ চালু হলে সেগুলো তারা পরিপূর্ণভাবে ঠিক করে হালাল বানিয়ে নিবেন। এহেন পরিস্থিতিতে সরকার এর উদ্দেশ্যে ব্যহত হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে সরকারকে আশু ব্যাবস্থা নিতে হবে। হয় তাদের আবাসিক সংযোগ চালু করতে হবে নয় অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে যারা বৈধ সংযোগ নিয়েছেন তাদের লোড শেডিং এর স্বীকার হতে হবে।