ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

অহিংসা দিবস আজ। মহাত্মা গান্ধী অহিংস এক সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্বপ্ন কবে বাস্তবায়িত হবে জানিনা। হিংসা বিদ্বেষ যে ভাবে ধর্মে ধর্মে গোত্রে গোত্রে দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে লেগে আছে তাতে একটি অহিংসা দিবস কি পারবে এ স্বপ্ন পুরন করতে। তবে সাম্প্রতিক রামুর সহিংস ঘটনা প্রবাহের মাঝে এ দিবস আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে করি।

প্রত্যেক ধর্মমতের উপর শ্রদ্ধাশীল হবার উপর কিছুদিন আগে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম সকল ধর্মের প্রতি প্রত্যেক নাগরিককে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আজ আমি অন্য ধর্মমতকে কটাক্ষ করলে কাল আমার ধর্মমত আক্রান্ত হবে। আর এভাবে সমাজে ছড়িয়ে যাবে হানাহানি। রামু ঘটনাটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যা হয়েছে তা সত্যই দু:খজনক। কেন এমন হবে? ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যপার। কেউ ধর্ম না মানলে তার ধর্মমত অনুযায়ী মৃত্যু পরবর্তী জীবনে সে শাস্তি পাবে। এজন্য দুনিয়ার কোন লোক তাকে শাস্তি দিতে পারে না। মানুষ যত তার মতও তত আর যত মত তত পথ। যে পথ সঠিক তা ঢোল পিটিয়ে প্রচার করতে হয় না। তার ফলই বলে দেয় তা কতটুকু সঠিক। অপরের মত পথ আমার পছন্দ হয় না তাই বলে তাকে শায়েস্তা করতে হানাহানির পথ বেছে নিতে হবে? কোন ধর্মমতই এই ধরনের মানসিকতাকে বরদাস্ত করেনা।

ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননা করে নিঃসন্দেহে একটি জঘন্য কাজ করা হয়েছে। এতে ধর্ম মতকে কটাক্ষ করে হেয় করা হয়েছে। এই কাজটি যে করেছে সে যে অপরাধে দুষ্ট ঠিক তেমনি অপরাধে দুষ্ট তারা যারা রামুতে সংঘটিত হানাহানি লুটপাটের ঘটনার জন্য দায়ী। যে লোক এই কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারত তারা। তা না করে একটি গোষ্ঠীকে এভাবে আক্রমন কখনোই ঠিক নয়। নিরীহ বৌদ্ধ নাগরীকরা তো কোন অপরাধ করেনি। মায়ানমারে কয়েকদিন আগে নিরীহ মুসলিম নিধন যেমন সে দেশটির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে তেমনি বাংলাদেশের এ ঘটনাও দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিকভাবে।

পবিত্র কোরআনে আছে- যে বিনা অপরাধে একজন মানুষ হত্যা করল সে যেন পুরো মানবজাতিকে হ্ত্যা করল।

যে কোরআনের অবমাননার প্রতিবাদে হানাহানি হলো তা করে কোরআনের এই বাণীটিকে কি অবমাননা করা হয়নি? ও আমার ইসলাম প্রেমি ভাইরা একটু ভেবে দেখবেন কি?