ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আমার বড় ভাই। যার জম্ম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে। দেশের সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধারা যখন দেশ থেকে হানাদার নরপশুদের হটাতে ব্যস্ত তখন আমার এই ভাইটি শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন নিয়ে তার জীবন সংগ্রাম। আমার মা থাকতেন ফেনী জেলার বিলোনীয়া বর্ডার এর কাছে তার শশুরবাড়িতে। বাবা চাকুরী করতেন ঢাকায় সোনালী ব্যাংকে এর পরিবাগ ব্রাঞ্চে। ২৫ শে মার্চের পরে সারাদেশে শুরু হয়ে গেল নরহত্যা। কারফিউ আর হানাদারদের ধরপাকড় বেরে গেলো। বাবা এসরেব কারনে গ্রামে তার পুত্র হবার সংবাদ পেয়েও যেতে পারেননি। এদিকে আমার এক চাচা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করায় হানাদারদের হাতে ধরা পড়ে নিখোঁজ। শোনা গেল তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। ভাই হত্যার প্রতিশোধ স্পৃহা বুকে নিয়ে আরেক চাচা চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধে। গ্রামের বাড়িতে এক দাদা ছাড়া পুরুষ কেউ নাই। বড়ই জটিল সময়। আমার ভাইকে মা না দিতে পারে খাবার, না দিতে পারে ঔষধ পথ্য। রোগে শোকে আর অনাহারে ভাইয়ের যুদ্ধের মাস গুলো যাচ্ছিল। মা দূরসম্পর্কের আমার এক চাচার কাছে গেল ভাইকে একটু ডাক্তর এর কাছে নিয়ে যাবার জন্য। সে পাত্তাই দিল না। অথচ সুসময়ে এরা কত আপন হয়ে এ পরিবারটির সাথে মিশে ছিল। মা সন্তানের চিন্তাই প্রায় দিশে হারা। কি আর করা দাদার পানি পড়াই একমাত্র ঔষধ।

এভাবে ভাইটি আমার খাবার আর চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সাথে সংগ্রাম করে করে ডিসেম্বর এর ৮ তারিখে মারা যায়। আর মাত্র ৮ টি দিনের জন্য সে দেখল না বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। ভাইয়ের মৃত্যু বার্ষিকী সমাগত । এদিনে সে অদেখা বড় ভাইটির প্রতি জানাই লাখো সালাম। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করি। মুক্তিযুদ্ধে কত জন কত ভাবে শহীদ হলো। আমার ভাইটিও অন্যরকম এক যুদ্ধ করে শহীদ হল। আমার এ নবজাতক ভাই এর এ যুদ্ধ বেঁচে থাকার যুদ্ধ । এই যুদ্ধে সে প্রানপনে লড়েছে ৮টি মাস। মাত্র অল্পের জন্য তার দেখা হলো না স্বাধীন বাংলাদেশ। জীবন যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হয়ে অমর হয়ে রইলো আমাদের পরিবারের মাঝে।

এ ঘটনাটি আমার মায়ের মুখে শোনা ৭১ এর এক মর্মান্তিক স্মৃতি। মা-আর বাবার একান্ত নিজস্ব কষ্ট ছিল এটা এতোদিন। পরবর্তীতে আমাদের পরিবারের । আশা করি এ কষ্ট এখন আমার সকল ব্লগার বন্ধুদেরও। আমার ভাইয়ের জন্য দোযা করবেন।

**** আমার ভাইটির নাম ছিল লিটন। বাবার তার নামে একটি দোকানের নাম করন করেন । লিটন ষ্টোর । যা বর্তমানে আমি চালাচ্ছি।