ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

ব্লগ আর সামাজিক মাধ্যম যে সময়ের হাতিয়ার। তার গর্জন এবার তা প্রমান করল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে ব্লগ আর সামাজিক মাধ্যমগুলো। পক্ষে বিপক্ষে চলছে হরদম সাইবার যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ আমারা দেখিনি। তাতে অংশ গ্রহনের সৌভাগ্য হয়নি। দেশে মুক্তিযুদ্ধকে জানার একটা আবহাওয়া তৈরী হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্লগারদের ভুমিকা সত্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

কাদরে মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে ব্লগারদের এ আন্দোলন এখন মুক্তির গন আন্দোলন। এই আন্দোলন নিয়ে জামায়াত-বিএনপি ১৮ দল একদিকে আর আ: লীগ আর বাম দল একদিকে। দুটি ধারা দু ভাবে এ আন্দোলনকে দেখছে। আ:লীগ এ আন্দোলনের পরিপূর্ন ফায়দা নিচ্ছে। বি.এন.পি নিশ্চুম অস্পষ্ট। জামায় আছে তাদের স্ব রুপে মাঠে। শুধু মাঠে বলি কেন আছে অন লাইনেও। আমাদের সহ ব্লগার রাজিব নিহত হয়েছে। বড়ই দু:খজনক। এটা সাইবার যুদ্ধেরই ফসল কিনা পুলিশ তা তলিয়ে দেখছে। এ যুদ্দের আরেক জন যোদ্ধা তরিকুল ইসলাম শান্ত । ওনার কাটুন এর আমি একজন ফেন। ভালই লাগত তার পটলা ক্যবাল। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় শোকেহত হয়েছি। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

শাহবাগ নিয়ে পক্ষে যেমন প্রচরানা আর সর্তক বার্তা আছে । তেমনি বিপক্ষেও আছে নানা প্রচারনা ও উদ্যোগ। সম্প্রতি থাবা বাবা (রাজিব) এর ইসলাম বিরোধী লেখা ব্লগ ও কমেন্টস নিযে তার মৃত্যুর পর হইচই পড়ে গেছে। এতে কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে কিছু সমমনা ব্লগার। এমনি ১৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে। এ তালিকা প্রকাশ কি ঠিক হল? এতে করে বিপক্ষ জেনে গেল তাদের নাম ও পরিচয়। ফলে তাদের টার্গেট করে তার এখন আগাবে। বিষয়টি সত্যই আশংকাজনক।

আমি একজন মুসলমান। আবার শহীদ পরিবারের সন্তান। আমি আমার ধর্মকে যেমন ভালবাসি। ভালবাসি এ দেশকে। আমার পরিবার থেকে আমাকে এ শিক্ষাই দেয়া হয়েছে। শিক্ষা দেযা হয়েছে অন্য ধর্ম জাতিও গোষ্ঠিকে সম্মান করতে। একতরফা বা গোরামি শিখায়নি। আমি র্ধমী গোরমী বা অন্ধ দেম প্রেমিক নই। আমি একজন সচেতন মুসলমান সচেতন দেশপ্রেমিক হতে চাই। এমনকি সে মতে চলি। আমার দৃষ্টিতে ব্লগে আল্লাহ ও রাসুলে উগ্র সমালোচানা করা ঠিক নয়। কেউ নাস্তিক হলেই উগ্রভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে ধর্মপ্রান মুসলমানের মনে আঘাত লাগে এমন ঠিক নয। স্বাধীন মত শালীন ভাবে প্রকাশ করা যায়। ইসলামী মনা ধর্মপ্রান লোকদের শাহবাগে আনার জন্য ধর্মীয় কিছু প্রোগ্রাম সেখানে রাখা দরকার ছিল। যেমন -কোরাআন পাঠ, ইসলামী রনসংগীত, গীতা পাঠ, ত্রীপিটক পাঠ, বাইবেল পাঠ । সেখান থেকে মানবতা বিরোধীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বাণীগুলো পাঠ করা । কিন্তু তা করা হয় নি। এতে করে তাদের সাথে গ্যাপ তৈরী হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কিন্তু কোরআন তেলওয়াত করা হতে। বাংলাদেশের হাক্কানি আলেমদের জন্য এখানে একটা পরিবেশ দরকার ছিল। কারন তার নাচ-গান পরিবেশ পছন্দ করবেন না। তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের পক্ষে রাখা দরকার ছিল। তা হয় নি । ফলে বাংলাদেশেরে কাওমি আর আলিয়া মাদ্রসার ছাত্ররা এই আন্দোলন থেকে দুরে রয়ে গলে। তার এ আন্দোলনের স্বাদ পেলনা । বিপক্ষ তো এ সুযোগ নিবেই। তাই সবাইকে নিযে বুদ্ধি পরামর্শ করে আন্দোলন করুন। শুধু ছাত্রলীগ আর বামদের দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। আমার চাচার মাত মাদ্রাসার ছাত্রও যেমন ছিল তেমনি আমার শহিদ আরেক চাচার মত কলেজের ছাত্রও ছিল।

আল্লাহর রহমত ছারা কোন আন্দোলন সফল হতে পারে না। তাই তার রহমতের প্রত্যাশায় মাদ্রাসাগুলোতে যেয়ে যেয়ে তাদের মাঝে দেশ প্রেমের সংগ্রামী দাওয়াত পৌছাতে হবে। নাস্তিকতাকে উস্কিয়ে নয় স্রষ্টা আর সৃষ্টির প্রেম দিয়ে মানবিক ভাবে এ আন্দোলকে সফল করতে হবে।

সকল রাজাকারের ফসিঁ চাই- কোন দলে তাদের ঠাই নাই- যেই দলে আছে রাজাকার-এইবার সেই দল ছাত্র ।