ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

বাসে করে সবাইকে যাতায়ত করতেই হয়। দেশের কজনেরইবা তৌফিক আছে প্রাইভেট হাকানোর। গাঁদাগদি করে মুড়ির টিন মার্কা বাসে চরে যাওয়া আসা এটা আমাদের নিয়তি যেনো। ঠিল মারে, আগুন লাগে, বোম মারে সবই এই বাসে। যত ক্ষোভ যেনো আমাদের মতো এই টাইপের লোকদের উপর। বাসের যাত্রিরা এখানে রাজনৈতিক জিম্মি হয়ে আছে। আবার বাসে ছাপোসা মানুষ তার সহায় সম্বল হারায়। পকেট মার, মলম পার্টি, চোখে বাম দেয়া পার্টি এরাও আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। এগুলো এখন নিত্যনৈম্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর চোরবাটপারদের হাতে আজ আমরা জিম্মি।

আচ্ছা এতো গেল বাস যদি রিক্সা করে যান তবে কি হয়? দেখা যায় অলিতে গলিতে ওৱ পেতে থাকা ছিনতাই কারীরা হামলে পরে। ছিনিয়ে নেয় সর্বস্ব। শান্তিতে নিরাপদেযে বাড়ীতে ফিরে যাব তার নিশ্চয়তা নাই। এখনেও জিম্মি। ইদানিং কার্ড এর মাধ্যমে টাাকা লেন দেন হচ্ছে তাই হয়তো টাকা ছিনতাই বা চুরি যাওয়ার ভয় কম । কিন্তু মোবাইল, গায়ের গয়না  বা অন্যকোন মূল্যবান জিনিস সেগুলোতো তাদের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছেনা । স্বপ্নগুলো সব চুরি করে নিয়ে যাছ্চে তস্করের দল। সত্যই আজ আমরা বড় অসহায়।

এইতো সেদিন আমার সুপ্রভাত বাসে আমার পকেট কেটে নিয়ে নিল আমার মাসের বেতনটুকু। আমার মেয়েরা প্রায় দেড়মাস হলো নানা বাড়ীতে। তাদের আনতে যাব এই পরিকল্পনা ছিল। কতদিন মেয়েদের দেখিনা। কিন্তু সব পরিকল্পনা মাঠে মারা গেল। পকেটমারের ব্লেডের খোঁচায়। দু:সময় যেনো আমার পিছু ছারছেনা।

এর শুরু হয় ২০০৬ সালে। আমি যে এন.জি.ও তে চাকুরী করতাম তার পতনের মধ্য দিয়ে। এন.জি.ও টি সরকারী নিষেধজ্ঞার কবলে পড়ে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় রোজি রোজগারের ধান্দা। আমি অন্যত্র চাকুরী চেষ্টা করি। এর মধ্যে বাবা ইন্তেকাল করলেন। আমার অবস্থা দিনকে দিন কাহিল থেকে কাহিল হতে লাগল। আত্মীয় -স্বজন বন্ধু বান্ধব সবাই কেমন যেনো দুরে সরে যেতে লাগলো। তাদের কথাবার্তা ব্যাবহারে বড়ই অচেনা মনে হতো তাদের। খুব বেশী প্রয়োজন না হলে কারো সাথে যোগাযোগ করতাম না। অনেকটা নিজের মাঝে নিজেকে নিয়ে বস্ত থাকা। এমনকি শশুর বাড়ী রসে হাড়ি সেখানেও তেমন যেতাম না। আমর শশুর বউ আর বাচ্চা কে নিয়ে যেতো। তখণ আমি তাদের আনার জন্য যেতাম।

নিজের অবস্থা পরিবর্তনে সচেষ্ট হলাম। বাবার পুরোনো দোকানটিকে ঘষে মেঝে ব্যাবসা শুরু করলাম। পাসাপাসি কোনমতে একটি চাকুরী যোগার করলাম নিকস্থ একটি গার্মেন্টেস এর এম.আই.এস অফিসার হিসেবে। গার্মেন্টস এর শ্রমিক মালিক দন্দ্বক্লীষ্ট পরিবেশে সেখানেও এক বছরের বেশী চাকুরী করা গেল না। অবশ্য সাথে সাথে আরো একটি প্রতিষ্ঠানে পেয়ে যাই ডাটা এন্ট্রীর কাজ। কিন্তু যার কপালে সুখ আল্লাহ লেখেনি সেকি তার স্বন্ধান সহযে পায়? এর মধ্যে জানা গেলো আমার পূর্বের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত প্রতিষ্ঠান এ চাকুরী করা কালে আমার নামে একটি মামলা হয়েছে। সেরের উপর সোয়া সের। এমনেই কষ্টে সৃষ্টে দিন চলে এরপর আবার নতুন ভাবে মামলা ঝামেলা। ল্যা ঠ্যালা সামলা। যাহোক জামিনে থেকে মামলায় হাজীরা দিচ্ছি এখনো। রায় কি হয় ? কবে হয় জানি না? হাতে টেনেটুনে মাসিক বেতনটা ছারা আর কোন সম্বল নেই। এভাবেই চলছে।

মেয়েগুলো আজ কতদিন হল দুরে আছে । মোবাইলে তাদের কথা শুনি। তাদের কাছে পেতে ইচ্ছে করে। আদর করতে ইছ্চে করে। বেতনটা পেলেই তাদের কাছে যাবো কত পরিকল্পনা আমার। এর মধ্যে যদি এমন অকস্মাত নিয়তির খরগ এসে পরলে কোথায় যাই?
মরার উপর খরার ঘা যেনো। মেয়েগুলোকে বলেছিলাম বাবা আসছি। ক্নিন্তু সে কথা রাখা হলো না বুঝি। ক্ষমা করে দে মা মনিরা!