ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

khilgonstaff
আমার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় যে স্কুলে তার নাম বাস স্কুল। বাসের আকৃতির জন্য এই নাম। বাস স্কুল নামে খ্যাত এর আসল নামটা যে কি ছিল ছোট মাথায় তা তখন মনে রাখতে পারিনি । অবশ্য বর্তমানে তার নাম পূর্ব খিলগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বা তিলপাপড়া স্কুলে এই টাইপের কিছু একটা হবে। ওর পাশ দিয়ে অনেক কাল পরে মানে প্রায় ২৫-৩০ বছরতো হবে যাওয়ার সময় এমনি ধারার একটি নাম দেখলাম মনে হলো। সেখানে আমি প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়েছি। পরবর্তীতে তিলপাপাড়া ছেরে আমরা যথন খিলগাঁও সি ব্লকে আসি তথন খিলগাঁও ষ্ট্যাফ কোয়াটার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি হই। সেখানে আমার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। ষ্ট্যাফকোয়াটার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাইস্কুল এর ক্যাম্পাস ছিল একটাই। সকালে প্রাথমিক স্কুল আর এর পরেই হাইস্কুল শুরু হতো। আমি খিলগাঁও ষ্ট্যাফ কোয়াটার হাই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হলাম। নতুন সহপাঠি খুব একটা পেলাম না। যারা আমার সাথে প্রাথমিকে পড়েছে তাদের বেশীর ভাগই হাইস্কুলে দেখতে পেলাম। নতুন সহপাঠি না পেলেও পেলাম নতুন নতুন স্যার।
হেডু স্যার:
হেড স্যার কে আমার হেডু ডাকতাম। প্রাথমিক আর হাইস্কুলের হেডু স্যারের মধ্যে তেমন মিল না থাকলেও উভয়ের ছিল বিশাল এক ভুঁড়ি। আমার দেখা বেশীর ভাগ হেডু স্যারই দেখালাম ভুঁড়িওয়ালা। যেনো মনে হতে পারে ভুড়িঁ না হলে হেডু হওয়া যায় না। হেডু হবার জন্য ভুড়িঁ থাকাটা বাধ্যতামুলক।
হেডু স্যারকে খুব মনে পড়ছে। তার নামটা যেনো কি ছিল…………হাবিবুর রহমান না অন্য কিছু! মনে করতে পারছিনা ঠিক করে। তবে তার ছেলেদের মধ্যে একজনের নাম মনে আছে স্বজল। সে আমার ছোট ভাই সাঈদের সাথে পড়তো। হেডু স্যার আর আমারা থাকতাম আনসুর বিল্ডিংয়ে। স্যার থাকতো এক তলায় আর আমরা দু তলায়। আমাদের সাথে আরো এক স্যার দুতলায় থাকতেন তার নাম হলো মোসলেহ উদ্দিন স্যার।

 

মোসলেহ উদ্দিন স্যার: গাযের বর্ণ কাল। কাল বলাটা কি ঠিক হলো! এটাকি গুরুকে হেয় করা হয়ে গেলো নাকি! উজ্জল শ্যাম বর্ণ বলা যেতো। তা যাই হোক ওনার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও। রসিক মানুষ। তবে বেতটা মাঝে মাঝে বেরসিক হয়ে যেতো। বেশীর ভাগ সময় ইংলিশই ক্লাসই নিতেন। আমার প্রতি তার খুব বিরক্ত। কারান ক্লাসের সবচেয়ে নির্বোধ টাইপ অকাল মূর্খ টাইপ ছাত্র ছিলাম আমি। আমরা মনে হয় এমন দিন নাইযে আমি ওনার ক্লাসে ধোলাই হইনি। এতো কিছুর পরও আমি বুঝতে পারতাম স্যার আমাকে খুব ভালবাসেন। ক্লাস শেষে ভালভাবে পড়াশুনা করা জন্য বুঝাতেন। অবশ্য সেটাকি স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ার হিংস ছিল কিনা বলতে পারবো না। স্যারের কথা খুব মনে পড়ে। স্যারর সাথে একই বিল্ডিং এ থাকায় পারিবারিক ভাবেও আন্তরিকতা গড়ে উঠেছিল। সেটা আরেক কাহিনি। অন্য কোনদিন বলা যাবে।
সালাম স্যার: গায়ের বর্ণ কি বলব বুঝতে পারছি না। অংক আর বিজ্ঞানের শিক্ষকতো তাই ওনার আশে পাসে আমার থাকা বারন। আমি ওনার কাছে থেকে ১৪ হাতের বেশী দুর থাকার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তার বেতের চুম্বকিয় আকর্ষন আমাকে ঠিকই তার কাছে নিয়ে আসত। আমার নামে কোন মো: নাই। কেন..? এই সালমা স্যারের শান্তীর বানীর জন্য। নাইনের পরিক্ষ চলছিল। হঠাৎ কিছু ফরম দেয়া হলো আমাদের। স্যার সে হল গার্ড দিচ্ছিলেন।
স্যার বললেন, এটেনশন প্লিজ- কিছুক্ষনের জন্য সবাই লেখা বন্ধ কর।
কেন স্যার? বললাম আমি
এতো কথা জাইনা কাম নাই তোর । যা করতে বলছি কর। খালি পেচাল পারে। বেতের বারি না খাইতে চাইলে চুপ কইরা যা বলি শোন।
এইটা হইলো তোদের রেজিষ্ট্রেশন ফরম। মনযোগ সহকারে পড়ে এটা ফিলাপ করো সাবই। আর শুন নামটা খুব ভেবে চিন্তে লিখবা। এই নামেই তোমাদের এস এস সি সার্টিফিকেট হবে। সংক্ষিপ্ত মো: এইটা কেউ লিখবানা লিখলে পুরাটা লিখবা।
স্যার মো: সংক্ষিপ্ত লিখলে সমস্যা কি?
আবারো পেচাল পারে! যেই ভাবে লিখতে বলছি সেই ভাবে লেখ। আর যদি মোহম্মদ লিখতে না চাস লিখবিনা। মোহম্মদ লিখতেই হবে এমন কোন নিয়ম নাই।
কি কন স্যার। আমরা হইলাম নবির উম্মত তার নাম শুরুতে না লিখলে পাপ হইবো না!
কে কইছে তোরে। মোহম্মদ না লেখলেও তুই নবির উম্মত লেখলেও উম্মত। আর এখন দিতাছস পরিক্ষা কথা বইলা সময় নষ্ট না কইরা শুধু মুল নামটা লিখ।
স্যারের ধমক খেয়ে সেদিন মো: লিখতে সাহস হলো না আর।

(আমার নাম আবু তালেব স্বপন। এছাড়া আমর আরো অনেক গুলো ছেলেবেলার নাম আছে। যেমন- মরা, বুতা, পাগলা, মোল্লাসাব, তালিবালি এই টাইপের নামগুলো আমার খেতাবী নাম। আমারা ঢাকা শহরের খিলগাঁয়ে সেই ছোট বেলা থেকে বর্তমান নিবাস টংগী আসা আগ পর্যন্ত ভারাটিয়া হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় ছিলাম। প্রত্যেক এলাকায় জুটত প্রচুর নতুন নতুন বন্ধু। কিছু এলাকার বন্ধু কিছু স্কুলের বন্ধু । আমার এই নামগুলো তাদের দেয়া উপহার। এই প্রত্যেকটি নামে কত স্মৃতি জড়িযে আছে। আছে কত মজার ঘটনা। আছে কত ইতিহাস।এখনও আমি অনেক নামে পরিচিত। ছদ্ম নামও আছে। ব্লগে আতা স্বপন। কিন্তু কোনটাতে মোহম্মদ নাই।)

(চলবে)