ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
09_Electricity-crisis_011114_0004

গত ১/১১/২০১৪ রোজ শনিবার সারাদেশে হয়ে গেল বৈদ্যুতিক মহা বিভ্রাট। বেলা ১১টা কি সাড়ে ১১টা হবে সেই যে চলে গেল বিদ্যুত আর আসার নাম  নেই। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। না বিদ্যুতের দেখা নাই। ফলে জন জীবনে নেমে আসল চরম দুর্গতি। সবচেয়ে যে সমস্যাটি বেশী প্রকট হয়ে উঠেছিল তা হল পানির সমস্যা। পানির ডেকচি বা কলস বা বালতি হাতে দৌড়দৌড়ি করছে মানুষ। এদের বেশির ভাগই গার্মেন্টস কর্মী। অফিস থেকে বাসায় এসে পানি না পেয়ে তারা পড়েছে বেকায়দায়। কোথায় পাবে পানি? সবারই তো একই সমস্যা। বিদ্যুত নাই, তাই ট্যাংকিতে পানি তোলা হয় নাই। মহ সমস্যা। সারাদিন পরিশ্রম করে এসে দৌড়াও আবার পানির তালাশে। সারা রাস্তায় পানির জন্য হাহাকার। যেন মহরম মাসে আবার কারবালার দ্বিতীয় পর্ব মঞ্চায়িত হচ্ছে। কী যে জনদূর্ভোগ তা না দেখলে বিশ্বাস করার যায় না। মোবাইল নেটওয়ার্ক তেমন কাজ করছে না। মোবাইলে চার্জ নাই। চার্জ যদিও থাকে ব্যালেন্স শেষ। নেটওয়ার্ক সমস্যা তাই লোডও বন্ধ। মোবাইল কোম্পানিগুলোর টাওয়ারগুলো বিদ্যুতের অভাবে ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল একে একে। মানুষের মনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। নানা শংকা।

একই দিনে আবার বেগম খালেদা জিয়া নাটোরে জনসভায় ভাষণ দেবার কথা। অযাচিত বিদ্যুত বিভ্রাট এর কারনে এ ঘরনার সাপোর্টারদের মনে উদয় হল নানা প্রশ্ন। তবে কি বেগম জিয়ার ভাষণ যাতে সারা বাংলার মানুষ না দেখতে পারে/ শুনতে পারে তাই সরকারের পক্ষ থেকে এটা বিদ্যুত বিভ্রাটের নাটক নয়তো? আবার পরদিন রবিবার জামাতের এক নেতা মীর কাশেম আলীর রায়। সাধারন জনগনের মনে শংকা ছিল এটা কি তাদের কোন নাশকতা নয়তো? আবার কেউ কেউ ভাবছেন রাতের আধারে সামরিক কোন ক্যু হচ্ছে না তো? এটা একটা আজব দেশ। এদেশে সব সম্ভব।

ঘটনা যা জানা গেল তা হল ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্রে প্রথমে বন্ধ হয়। পড়ে কাপ্তই কেন্দ্র। কি কারনে কি হল তা জলপনা কল্পনায়ই আপাতত সিমাবদ্ধ। তদন্ত করা হচ্ছে। রিপোর্ট বের হলে জানা যাবে। মূল ঘটনা। কিন্তু রিপোর্ট যাই হোক আমাদের মনে একটা শংকা থেকেই গেল। বিদ্যুত বিভ্রাটের কারনে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশকে এনালগ বানাতে খুব বেশী সময় লাগেনি। সারাদেশ তখন এনালগ বাংলাদেশ। মানুষ খুঁজছে চাপকল। পুকুর। খুঁজছে মোমবাতি। হারিকেন। অন্ধকারে ঢেকে গেছে সারাদেশ। চলে না এসি, চলে না টিভি, চলে না ফ্রিজ। ফটোকপি আর কম্পিউটার নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারনে মানুষ প্রায়ই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কয়েক ঘন্টায় এই অবস্থা দেশের। বিদ্যুতের অভাবে প্রায় পংগু হতে বসেছিল বাংলাদেশ। এখানেই শংকা। বাংলাদেশকে অকেজো করা কত সহজ। দুই বিদ্যুত কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিল আর দেশটা যেন হয়ে গেল অন্যরকম। এ যেন অচেনা এক বাংলাদেশ। এ দুর্বলতা দেশের শত্রুদের হাতিয়ার হয়ে যেতে পারে। যে ভাবে রেললাইন উপরে ফেলা হয়, বাসে রেলে আগুন দেয়া হয়, বাসে বোমা মারা হয়, সে রকম নাশকতা যদি বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটোর উপর এসে পড়ে? এ শংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সরকারের উচিত হবে এ মুহূর্তে দেশের বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। এসব জায়গায় দক্ষ ও বিশ্বস্ত লোক নিযোগ দেয়া। আর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অনুরোধ আপনারা এসব গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে রাজনীতির বাইরে রাখুন। তবে জন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।