ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কি বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি? আজকের ২৬/০৭/২০১৫ বাংলাদেশ প্রতিদিন এর প্রথম পাতার প্রধান শিরোনামের নিচে দেখুন। হেড লাইন- কোন অর্থ ফেরত পাননি ডেসিটিনি যুবকের গ্রাহকরা আলী রিয়াজ  এ রিপোর্টটি করেছেন। তাতে বলা হয়- যুবকের ৩ লাখ গ্রাহক সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ফেরত পাননি এক টাকাও।

কেন লোকজন সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে? এর কারন জানতে হলে সংবাদের পরবর্তী অংশটি লক্ষ্য করুন। সেখানে বলা হয়েছে-
জানাগেছে বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাৎ করলেও সরকারের জিম্মায় রয়েছে ৫০০০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে সিলড হিসেবে আছে ২০০ কোটি টাকা এবং ঢাকা ও ঢাকার বাইরে রয়েছে জমি, কল-কারখানা ও ভবন। যার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তার কোনো সমাধান হয়নি।

এই রিপোটের তথ্য মতে যুবকের সকল টাকা পয়সা জমি জামা সব সরকারী জিম্মায়। যুবকের পরিচালক আর কর্মকর্তাদের কাছে কোন কিছু নাই। সরকার তাদের জিম্মায় থাকা টাকা আর জমিজমা থেকে গ্রাহকদের কিছু এখনো দেয়নি। রিপোটের মর্মার্থ এটাইতো না কি?

যুবকের কাছে সরাসরি ধর্না দিয়ে কিছুই পাইনি এমন হয়নি কখনো।  হয়তো চেয়েছে কামান পেয়েছে সুচ। তবুও পেয়েছে। এমন হয়েছে যারা যুবকের কর্মকর্তাদের কাছে পেয়েছে তারা তাদের পাওনা উদ্ধার করতে পেরেছে । যাদের সে সুযোগ নেই তারাই হতভাগা। যুবক প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ এক টাকাও পায়নি একথা বললে তা মনে হয় ঠিক হবে না।কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কিছুই এখনো পাইনি এটা ঠিক।

সরকার শুধু কমিশন আর কমিশন করে

গ্রাহকরা ফাও ফাও দৌড়ে মরে

তবুও টাকা পায় নারে

রিপোটের শেষ আংশে লক্ষ্য করুন, যেখানে বলা হয়েছে-
দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন যুবকের গ্রাহকরা : যুবক সম্পর্কিত সরকার গঠিত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে যুবক। এ টাকা নেওয়া হয় ৩ লাখ ৩ হাজার ৭০০ গ্রাহকের কাছ থেকে। গ্রাহককে এসব টাকা ফেরত দিতে ও সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য যুবকে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করে কমিশন। দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত করে ২০১৩ সালের জুনে কমিশনের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে ওই প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। ২০০৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক তদন্তে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ সংগ্রহের ঘটনা বেরিয়ে আসে। ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়সীমা ২০০৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু যুবক টাকা শোধ করেনি। পরে গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা পরিশোধ ও হয়রানি বন্ধ, সম্পত্তি হস্তান্তর স্থগিতাদেশ ও প্রশাসক নিয়োগ করে স্থায়ী সমাধানের জন্য ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদকে চেয়ারম্যান করে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১১ সালের মে মাসে সাবেক যুগ্ম-সচিব রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় যুবকবিষয়ক স্থায়ী কমিশন। এ কমিশনের দায়িত্ব ছিল যুবকের সম্পদ আয়ত্তে নিয়ে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের। কিন্তু আইনি জটিলতায় তা করতে সমর্থ হয়নি কমিশন। শেষে ২০১৩ সালের জুনে যুবকে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে যুবক কমিশন।

দেখুন এই অংশে বলা হচ্ছে যুবক গ্রাহকদের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। এই টাকাই তাদের দায়। এবার সংবাদের প্রথম অংশে যান সেখানে আছে সরকারের জিম্মায় আছে ৫০০০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

জিম্মা থেকে আত্মসাৎ বিয়োগ দিলে থাকে ২৬১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত। অর্থাৎ
দায় পরিশোধের পর আারো উদ্ধৃত্ব থাকে। তাহলে টাকা আত্মসাৎ করল কিভাবে। সবটাইতো রইলো বোনাস সহ।
তাই রিপোর্টটির সূত্র ধরে এখন যদি বলা হয় যুবক দায় মুক্ত। তা কি ভুল হবে। দায় এখন সরকারের। কি বলেন?