ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ব্লগার হত্যার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রথমে এগুলো জংগীদের কাজ। দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো এসব করছে। পরে বিদেশি হত্যার পর সরকার তা থেকে সরে বলছে দেশে কোন জঙ্গি নাই। তাহলে হ্ত্যা কারা করছে? রাজনৈতিক কালচারের দৈন্যদশার কারনেই কি? বিনা প্রমাণে তদন্তের আগেই এর দোষ পুরোটাই চোখ বুঁজে দেয়া হচ্ছে বিএনপি-জামাত জোটকে। কথা হল এই হত্যা তো সবার দ্বারাই করা সম্ভব। কিন্তু তদন্তের আগে মন্তব্য করে আসল অপরাধীরা আড়াল হয়ে যেতে পারে। কথা হল যেই হত্যা করুক যেই দলেরই হোক। যতবড় ক্ষমতাধর বা প্রভাশালী হোক তাকে সামনে আনতে হবে। সে যদি সরকারি দলেও হয় তবুও।সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

ইদানিং দেখা যায় সত্য উদঘাটনে যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওযা যায় আর বিশেষ কের সে যদি সরকারি দলীয় হয় তাকে আড়াল করার ট্র্যাডিশন শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে পত্রিকায় ছবি দেখলাম প্রশাসন একজন সরকার দলীয় প্রভাশালী নেতার সন্তানকে কিভাবে শেল্টার দিচ্ছে। এর ফলে ভিকটিম ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর বিচার সুষ্ঠ না হওয়ায় একই ক্রাইমের রিপিটেশন হচ্ছে। বিএনপি জামাত বা সরকারী দল বা জংগী যেই অপরাধী তা প্রমান করার আগে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। দেখা যায় সরকারের তরফ থেকে বা তার দলের পক্ষ থেকে আগ বাড়িয়ে একটা কমেন্ট করে ফেলে পরে এর জন্য ভোগতে হয়। জংগী্ আছে এই কথা বললে সরকার ভয় পাচ্ছে পাছে যদি বিদেশি শক্তিগুলো এসে এদেশে আফগানিস্তানের মতো জঙ্গি দমনের ছুতায় আসন গেড়ে বসে। আবার নাই বললে প্রশ্ন দাঁড়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো কে করছে? প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে দিনে দুপুরে। জনগনের কাছে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এই দোটানায় নাজেহাল হয়েই হয়তো কোন প্রমণ ছাড়া সরকার বারবার বিরোধি দলগুলোকে গৎবাধা দোষারোপ করছে। কিন্তু এতে কি কোন সুরাহা সত্যিই হচ্ছে রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল ছাড়া?

আসল অপরাধিরা এই কাদা ছোড়াছুড়ির সুযোগ নিচ্ছে নাতো? এখনই সময় ভেবে দেখবার। আমরা জনগন এখন বড়ই নিরপত্তাহীনতায় আছি। আইন-শৃংখলা অবনতি চরম আকার ধারন করেছে। দিপনের পর এবারে কে? আমি বা আপনি নন তো?  আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই তিনি যেন আমাদের নিরাপত্তা বিধান করেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি দান করেন।