ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

পুরষ যেমন মানুষ নারীও তেমন মানুষ। দুয়েরই মানবিক অধিকার বা চাহিদা সমান। আবার দুয়েরই আলাদা আলাদা স্বত্তা গত কিছু অধিকার আছে। পুরুষের অধিকার যেমন আছে তেমন নারীরও স্বত্ন্ত্র অধিকার আছে। নারী বর্তমানে তার স্বতন্ত্র অধিকারতো পাচ্ছেই না পাশাপাশি মানবিক অধিকার থেকেও হচ্ছে বঞ্চিত। নারী কে?
নারী- আমার কন্যা। নারী- জায়া। নারী – আমার জননী। প্রত্যেকটি সৃষ্টিরই একটি উদ্যেশ্য আছে। নারী সৃষ্টিরও আছে। নারী যদি পুরুষের মতো হত সেকি নারী থাকতো?
নারী মানুষ । নারী নারী। পুরুষ নয়। নারীকে পুরুষের অধিকার নয় নারীর অধিকার দিতে হবে।নারী একটি সত্তা । পুরুষ একটি স্বত্তা। যারা একে অপরকে ছাড়া পরিপূর্ন নয়। সনাতন ধর্মে বোধহয় এজন্য নারীকে পুরুষের অর্ধংগীনি বলে।অর্থাৎ পুরুষ অর্ধেক বাকিটা নারী দ্বারা পূর্ণ হয় । তবেই সে পুরুষ হয়ে উঠে। কর্তৃত্বশীল হয়। নারীর প্রেরনাই পুরুষের পুরুষ হয়ে উঠা। নারী বিদ্বেষে পুরুষালি শরিরে যে, সে পুরুষ নয় সে শয়তান। কাজী নজরুল যথার্থই বলেছেন-
এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান
চির কল্যানকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী
অর্ধেক তার নর।

কোন কালে একা হয়নিক জয়ি
পুরষের তরবারী
প্রেরনা দিয়েছে শক্তি দিয়েছে
বিজয়ী লক্ষি নারী।

ইসলাম ধর্ম বলে পুরষ নারীর পোষাক। নারী পুরুষের পোষাক। একে অপরের পরিপুরক। একজন ছাড়া অন্য মূল্যহীন। এ সম্পর্কটা দেহ আর আত্মার মত। আত্মা স্রষ্টার কাছে আছে যখন দেহে ঢুকে তখন দেহ প্রান পায়। আবার দেহ থেকে আত্মা চলে গেলে দেহ মাটিতে খায়। বলতে পারেন কে বেশী কর্তৃত্বশীল। দেহ না হলে আত্মার সাথে পরিচয় ঘটতনা। আবার আত্মা না থাকলে যত প্রীয়ই হোকনা তাকে চলে যেতে হয় দুরে বহুদুরে। একে অপরের পরিপুরক। নারী পুরুষের সম্পর্কও তাই।

নারী – মানুষ। অবশ্যই। মানুষের যে অধিকারগুলো আছে সব তার প্রাপ্য। এখন যদি বলা হয় নারী মানুষ তখনই হবে, যখন সে পুরুষের অধিকারগুলো পাবে। তবেই সে মানুষ। এটা কি যুক্তিযুক্ত? নারীকে তার অবস্থানে যে যে অধিকার রয়েছে তা যথাযথ ভাবে দিতে হবে। এটাই যুক্তিযুক্ত নয়?
আসল হল প্রত্যেকের অবস্থান অনুযায়ী ক্ষমতায়ন। এটা প্রকৃতগত ব্যালেন্সসিং এর জন্যও দরকার। কম্পিউটারের কথাই চিন্তা করুন যেমন প্রোগ্রাম সেট করা হয়েছে এর বাইরে কাজ করা যায় না। করতে গেলেই হ্যাঙ্গড। স্রষ্টা এতো বড় দুনিয়া সৃষ্টি করলেন তার প্রোগাম মত। তবে এর বাইরে যাবার ক্ষমতাও কিছু দিয়েছেন। আবার বলেও দিয়েছেন বাইরে গেলে বিপত্তি হবে। হয়ও তাই।
ভালাবাসায় এ পৃথিবী সৃষ্টি। নারী পুরুষের ভালবাসার ঐক্যই প্রজম্ম তৈরী করে। যা করলে এই ভালবাসা ব্যহত হয় সে কাজ পুরুষ ও নারীর জন্য নিষেধ করা হয়েছে। যা কল্যানকর তা করতে দেয়া হয়েছে। আমারাই কি নারী কি পুরুষ আপেক্ষিক ভাবে বুঝে নেই নিজেদের কল্যান। স্রষ্টার নির্দেশনা না মেনে। ফলে বিপথে যাই।
পুরুষ প্রভু নারীর অন্য ধর্ম গ্রন্থের কথা জানিনা তবে ইসলাম তা কখনো বলেনি। হ্যা তাকে কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে। তাই বলে প্রভু নয়। কর্তৃত্ব হিসেব করলে নারীই বেশী বিষয়ে পুরুষের চেয়ে কর্তৃত্বশীল। আগে পুরুষ সৃষ্টি হয়েছে বলে সে প্রভু এটা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম বলে নারী পুরুষের পোষাক পুরুষ নারীর পোষাক। এর অর্থ একজন আরেকজনরে পরিপুরক। একজন ছাড়া আরেকজন অসম্পূর্ন। আপনার ডান হাত আর বাম হাত দুটোই আছে। বাম হাতের কাজ গুলো ডান হাতে করতে গেলে একটু সমস্যা। করা কিন্তু যায়। বাম হাতে করাটাই ভাল। আবার ডান হাতের কাজ বাম হাতে করতে গেলেও তাই। আপনিকি আপনার যে হাত দিয়ে ময়লা ধরেন তা দিয়ে খাবার খাবেন? আবার দুটো হাত মিলে যখন কোন কাজ করে তখন তা শক্তির সৃষ্টির করে। দুহাতে কাজ সহজ হয়ে যায়। বলতে পারবেন কে বেশী কতৃত্বশীল? ডান না বাম। দুটোই তার স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্ব মহিমায় উজ্জল। কাউকে কেটে বাদ দেয়া বা ছোট করা যায় না। নারী পুরুষের ভাবনা বা বিষয়টিও ঠিক তেমনই। আকলমান কে লিয়ে ইশিারায় কাফি। যে বুঝদার সে কখনো নারীকে ছোট চোখে দেখেনা। দেখতে পারে না। কারন নারী কে ছোট করলে তার জম্মকেই ছোট করা হয়। নিজেকে অপমান করা হয়। কন্যা জায়া জননী এদের মাঝে যে স্রষ্টা কত বড় নেয়মত রেখেছেন তা যদি না লায়েক গর্বিতরা জানতো তাহলে সারাক্ষণ নারীর কল্যানেই নিবেদিত থাকতো। তাদের নির্যাতন করতো না। কন্যা হলে ইসলাম বেহেশত দেয়। স্ত্রী কাছে যে উত্তম সে বেহেশত পাবে। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। এর অর্থ সুখ শান্তির কৃর্তুত্ব নারীরই কাছে। আল্লাহ সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন।