ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আচ্ছা লম্বা দাড়ি রাখলেই কি কেউ হুজুর হয়? কিংবা হুজুরদেরই কি শুধু লম্বা দাড়ি রাখার অধিকার আছে? দাড়ি রাখা সুন্নাত। তাই যে কেউ দাড়ি রাথতে পারে। আমাদের সমাজে লম্বা দাড়ি রাখলেই তাকে সবাই হুজুর ডাকা শুরু করে। এতে নানা রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসার ছাত্রদের একচেটিয়া অধিকার যেন দাড়ি রাখা। স্কুল কলেজে পড়ুয়ারা দাড়ি রাখলেই সবাই কেমন করে যেন তাকায় । ভাবে ছেলেটা কি হলো। অল্প বয়সে এ কেমন পাগলামী। অথচ সেইম বযসের একটা মাদ্রাসার ছেলে দাড়ি রাখলে কেউ কিছু মনে করে না। তাদের ধারনা দাড়ি রাখবে শুধু মাদ্রাসার ছেলেরা। তাই যেই দাড়ি রাখুক প্রথশ দর্শনে তাকে মাদ্রসার ছাত্র মনে করে হুজুর বলে। ভাবে ওর মত আলেম দুইটা নাই। ইদানিং ছোট ছোট দাড়ি রাখা হয়। এতে কেউ হুজুর মনে করে না। কারন এটা অনেকটা ষ্টাইল হয়ে গিয়েছে। বরং ছোট ছোট করে দাড়ি বিভিন্ন ভাবে ছাটার ষ্টাইল এ একটা আভিজাত্য ভাব ফুটিয়ে তোলা চেষ্টা করা হয়। কিন্তু লম্ব দাড়ির ক্ষেত্রে দৃস্টিভংগি টাই হল মাদ্রাসার ছাত্র বা হুজুর। আবার ইদানিং লম্বা দাড়িওয়ালাদের নেগেটিভ ভাবেও দেখা হচ্ছে । যা সত্যই শংকার। লম্বা দাড়ি যাদের তাদের জংগী ভেবে আইনি জটিলতায় হেনস্তা করা হচ্ছে।

মাদ্রাসার ছাত্র না হয়ে অল্প বয়সে জেনারেল শিক্ষিতরা কেন দাড়ি রাখবে? এ প্রশ্নের উত্তর আগেই বলা হয়েছে নবির সুন্নত যে কেউ রাখতে পারে। কিন্তু কথা হল নবির সুন্নত রাখতে হলে তার সম্মান দিতে জানতে হবে। লম্বা দাড়ি রাখলাম কিন্তু তা নিয়ে অনৈসলামিক কাজ করলাম তা কি ঠিক? এতে কি দাড়ির সম্মান বা সুন্নতের সম্মান থাকলে। লম্বা দাড়ি যে কেউ রাখতে পারে তবে তাকে অবশ্যই দাড়ির সম্মান করত হবে। দাড়ি রাখার যোগ্য হতে হবে। দাড়ি রাখার আবার যোগ্যতা কি? হ্যা দাড়ি রাখতে হলে অবশ্যই দাড়ির হক আদায় করতে হবে। যে তা আদায় করতে পারবে সেই যোগ্য। দাড়ির হক কি? দাড়ি রেখে অন ইসলামিক বা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। দাড়ি যেহেতু রেখে সুন্নত করা হয়েছে তাই নবির দেখানো পথে ইসলামের অন্যান্য আমালে প্রতি বিশেষ করে ফরজ আমলগুলোর প্রতি বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। সহিহ ভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। সর্বোপরি ইসলামি জ্ঞান থাকতে হবে। তবেই একজন দাড়িওয়ালা সে মাদ্রাসাই পড়ুয়া হোক বা কলেজ ভাসিটি তে পড়ুয়া সে কখনো কোন পরিস্তিতে অস্বস্তিতে পরবেনা।

লম্বা দাড়ি রাখলে অনেক অটো উপকারিতা আছে। আপনি কোন খারাপ কাজ করতে যান। তখন বিবেক সচল হয়ে যাবে।
তবে তাদেরটা হবে যারা আস্তিক। যারা সুন্নতি তরিকায় বা সুন্নত হিসেব দাড়ি রেখেছে। যারা পরিবারের অমতে জিহাদ করে দাড়ি রেখেছে। দাড়ি রাখলেইতো হলো না তার যত্নের ব্যপার আছে। নানা সমস্য। এসব সহ্য করে যারো দাড়ি রেখেছে। যারা পারা প্রতিবেশী বন্ধু বান্ধবের নানা ব্যংগ বিদ্রুপ সহে দাড়ি রেখেছে। সর্বোপরি যারা আল্লাহকে ভালবেসে দাড়ি রেখেছে তারাই কোন খারাপ বদ কাজের ইচ্ছা করলেই পরক্ষনেই ফিরে আসে দাড়ির মর্যদা রক্ষায়। ভাবে দাড়ি রেখে এটা করা ঠিক না। ধরুন কেউ সিগেরেট খায়। লম্বা দাড়ি নিয়ে যখন সিগেরেট কিনতে গেছেন তখন আপনার মনে হবে লোকেরা আপনার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। একটা লজ্জা লজ্জা ভাব লাগবে। যদি আপনি সত্যিকার অর্থে সুন্নতের উদ্দেশ্যে দাড়ি রাখেন। দেখা যাবে আপনি যদিও সিগেরেট কিনেছেন কিন্তু সবার সামনে ধরাতে পারছেন না। কে জেন বাধা দিচ্ছে। এভাবে প্রতিটি বদ কাজ হতে দাড়ির কারনে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করবেন।

লম্বা না খাটো ভাবার দরকার নেই। দাড়ি রাখা শুরু করুন সুন্নতের নিয়েতে। দাড়ি যদি প্রাথমিক অবস্থায় খাটোও থাকে একসময় তা লম্বা হয়ে যাবে। গাড়ী আগে লাইনেতো উঠান। এরপর ইঞ্জিন ছাড়লেই গাড়ি চলবে। দাড়ি রাখা নিয়ে একটা জাল হাদিস আছে স্ত্রীর নাকি অনুমতি নিতে হবে। যেখানে রাসুলের নির্দেশ আছে গোফ ছোট কর দাড়ি বড় কর। সেখানে স্ত্রী অনুমতি নেয়ারতো কোন জায়গাই নেই। অনেকে বিয়ের আগে লম্বা দাড়ি রাখতে চান না। রাখলেও ছোট বা ষ্টাইলী দাড়ি রাখেনে। বেশির ভাগই দাড়ি না রেখে বিয়ে করেন। যাদের দাড়ি ছারা বিয়ে করেন তাদের যুক্তি মেয়েরা দাড়িওয়ালা বর পছন্দ করে না। কথাহলো দাড়ি নবির সুন্নত । যে নবির সুন্নত পছন্দ করে না তেমন মেয়েকে কেন বিয়ে করতে যাবেন?
দাড়িতো খারপ কোন কিছু না। এটা অপছন্দ কেন করবে? আসলে শয়তান সেসমস্ত মেয়েদের মনে দাড়িহিনতায় সৌন্দর্য এমন পর্দা টেনে দিয়েছে। তাই দাড়ি ছাড়াই তাদের কাছে স্মার্ট মনে হয়। তারা জানেনা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুরুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট দিয়েছেন দাড়ি অথচ নারীদের দেন নাই। অর্থাৎ নারীদের দাড়ি নাই। দাড়ি না রেখে পুরুষ কেন নারী বেশ ধারন করবে। যে সব পুরুষ নারীর বেশ ধারন করে তাদের প্রতি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের অভিসম্পাত রয়েছে।

দাড়ি নিয়ে রাসুল সা. এর একটা ঘটনা বলি। একবার এক সাহাবীর একটি মাত্র দাড়ি উঠেছিল। তার মুখে আর কোন দাড়ি ছিল না। নবি সা. তার দিকে তাকিয়ে একবার মুচকি হাসলেন। এতে সাহাবী এক টানে দাড়িটি ছিরে ফেলেন। পরক্ষনে মহানবি সা. সাহাবিকে দাড়ি হিন অবস্থায় দেখে গোস্বা করলেন। তাকে বললনে সে কেন দাড়িটি ছিড়ল। তিনি বললেন হজুর আমি ভেবে ছিলাম আপনি আমার একটি মাত্র দাড়ি দেখে উপহাসচ্ছলে হেসেছেন। তাই আমি তা ছিরে ফেলেছি। আল্লাহর রাসুল বললেন যে, তিনি ঐ কারনে হাসেন নি। তিনি হেসেছন অন্য কারনে। তিনিতো আল্লাহর রাসুল। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা যা দেখিনা তিনি তা দেখতে পান। তিনি বল্লেন ঐ একটি দাড়িতে ৭০ হাজার জন ফেরশতা চুমু দিতে প্রতিযোগীতা করছে। কার আগে কে দেবে। তাদের এ কান্ড কারখানা দেখে তিনি হেসে ছিলেন।

এক দাড়িতে যদি ৭০ হাজার ফেরেশতা থাকে তবে এক গোছাতে কতজন থাকবে? একটু ভাবুন। আসুন দাড়ি রাখি। লম্বা রাখতে অসুবিধা হলে আপাতত ছোট করে শুরু করি। তবে তা যেন সুন্নতি নিয়তে হয়। মহান আল্লাহ আমোদে দাড়ি রেখে তার মর্যাদা রক্ষা করার তৌফিক দান করুন। আমিন