ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ইসালাম রাষ্ট্রধর্ম আছে। যেহেতু আছে তা বাতিল করতে হবে কেন? হঠাৎ করে কি এমন হল? ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বানিয়েছে রাজনীতিবিদরা। আবার তাকে বাতিল করতে চাইছে তারা। কিন্তু ইসলাম কি তাদের খেয়াল খুশির বস্তু? মন চাইল এই করলাম। মন চাইল ওই করলাম। ইসলাকে যে ভাবে হোক যার দ্বারা হোক একটা সম্মন এই দেশে দেয়া হয়েছে। তা ছিনিয়ে নেয়া হলে ইসলামকে অসম্মান করা হবে। ইসলাম কিন্তু শুধু মাত্র বাংলাদেশের ধর্ম নয়। এটা বিশ্বধর্ম। সুতারাং তাকে অসম্মান করলে শুধু বাংলাদেশের মুসলমানই রিঅ্যাক্ট করবেনা বিশ্ব মুসলিমও করবে। এ বিষয়টি আমলে রাখতে হবে আমাদের রাজনীতিবিদদের।

বাংলাদেশ কিন্তু ওআইসি ভুক্ত একটি দেশ। এটাও মাথায় রাখতে হবে। কোন মতে ডেম কেয়ার ভাব দেখানো ঠিক হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে বিদেশী চাপ উপেক্ষা করা হয়েছিল। তা সঠিক ছিল। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারো নাক গলানো উচিত নয় বলে আমরা মনে করেছি। কিন্তু ইসলাম ধর্মের সম্মানের বিষয়টি কিন্তু শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটা গোটা মুসিলম উম্মার বিষয়। ইসলামকে কোন অবস্থায় অসম্মান করার অধিকার কারো নেই। তাই এ বিষয়ে রাজনীতিবিদ সর্বোপরি সরকারকে ভেবে চিন্তে সতর্কতার সাথে এগুতে হবে।

হা, এটা বাংলাদেশের সংবিধানের বিষয়। তাই এটার রদবদল বাংলাদেশ সরকার করতে পারে। কিন্তু সেই বিষয়টি যখন সারা বিশ্বের কোন ধর্মের মান সম্মানের সাথে জড়িয়ে থাকে তখন তা হুটহাট করে বাতিল করা ঠিক নয়। এ বিষয়ে সরকার সবদিক বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে মনে করি।

ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম না থাকলেও ইনশাআল্লাহ এদেশে ইসলাম ধাকবে। কেউ ইসলামকে ধ্বংস করতে পারবে না। এটা সব মুসলমানই জানে। কিন্তু তাদের ক্ষোভ হলো ইসলামকে সম্মান দিয়ে তা কেড়ে নেয়া কেন? কেন ইসলাম নিয়ে নোংরা রাজনীতির খেলা? জিয়া বিমান বন্দর হল শাহজালাল রহ. বিমান বন্দর। কেন রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবাহার করা। এখন কেউ যদি শাহজালার রহ. এর নাম বাদ দিয়ে দেয় তাকে কি অসম্মান করা হবে না? কেন রাজনীতির দাবা খেলায় ধর্মকে ব্যাবহার করে ভলিবল খেলা হচ্ছে?

বাংলাদেশের বেশিরভাগ লোক মুসলামান। সেই বিবেচনায় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিল এরশাদ সরকার। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর আজ এত বছর ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে আছে। এটা এদেশের মুসলিম সমাজের মাঝে প্রথিত একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখন যদি আগপিছ না ভেবে একটি রিটের কারণে তা বাতিল করা হয় তাহলে  দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে দুঃখ দেয়া হবে। আর এর বিরুপ প্রভাবও পরতে পারে রাজনীতির দাবা খেলায়। একটি শ্রেণীর রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে এই ইস্যূ কাজ করবে। দেশ হয়ে যেতে পারে অশান্ত। শুধু শুধু এই রিস্ক কেন? কার স্বার্থে?

নতুন একটি প্রশ্ন ইদানিং ব্যাপক হারে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্লগে প্রচারিত হচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, এটা আমাদের সংখ্যা গরিষ্ঠের ভাষা। আদিবাসীদের নানা ভাষা রয়েছে। কিন্তু বাংলা বহুল প্রচলিত আর বেশিরভাগ লোকের ব্যবহৃত ভাষা। তাই এটি রাষ্ট্রভাষা। ধর্মের ক্ষেত্রে এটা ভাবছে না কেন? এখানেও রাজনীতির খেলা। ধর্ম আর ভাষা দুটোকে মুখোমুখি করে রাজনীতি শুরু হয়েছে। কথা হলো এই বিতর্কের সুযোগগুলো করে দিচ্ছে সরকার তাদের হুটহাট নেয়া পদক্ষেপের দ্বারা। অথচ একটু ভেবে চিন্তে কৌশলে কাজ করলে এসব বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। স্রষ্টার কাছে এই প্রর্থনা।