ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নির্বাচন এখন আর কোন উৎসব নয়। এ যেনো যন্ত্রণা। একতরফা একটা বিষয়। বড়ই জটিল করে ফেলেছে রাজনৈতিক নেতারা। চারদিকে শুধু কাঁদা ছোড়াছুড়ি আর জোর জবরদস্তি। পরিত্রাণ কোথায়?

আমার দুটি মেয়ে। পিঠা পিঠি দুই বোন। তাই দুটোর মাঝে ঝগড়া ফ্যাসাদ লেগেই থাকে সারাক্ষণ। এ ওকে চিমটি কাটে না হয় খামছি না হয় কামর বসিয়ে দেয়। কখনো চুলোচুলি করতে দেখেনি অবশ্য। এর একটি কারণ হতে পারে চুলিচুলি করার মতো ওদের এখনো চুল হয়নি। হলে হয়তো তা আর বাদ থাকতনা এটা বলা যায়। এর কারণ মেয়ে মাত্র চুলচুলি করবে এটাই নিয়ম। যেখানে বড়রা হরহামেসা চুলচুলিতে লিপ্ত আর ওরাতো ছোট। ও! আমার কথাটা হয়তো অনেকে বুঝতে পারলেন না ঠিক করে। বড়রা কিভাবে চুলাচুলি করে?

তাদের কি পোলাপানের মত সেন্স কম? এর উত্তরে আপনাদের বলছি দেশের দুই নেত্রীরে দেখে কি বুঝেন না! আপনারাকি বলতে চান দুই নেত্রীর সেন্স নাই! ভাই এই কথাটা বিরোধী নেত্রীর বেলায় ঠুস করে বলে ফেলছেন কোন সমস্যা নাই কিন্তু সরকারী নেত্রীর বেলায় একটু সাবধানে! বলতো যায়না কখন কোন ঝামেলায় পরে যান।

আমার মেয়ে দুটি অবুঝ শিশু। তাই বলে আমাদের নেত্রীরা মহিলা হলেও অবুঝতো না। তারা কেন নিজেদের মধ্যে অবুঝ নাদানদের মতো কামড়া-কামড়ি করবে। শিশু করে খেলনা বা চকলেটের জন্য আর তারা করছে ক্ষমতার জন্য। যে যাকে যেমনই ইচ্ছা চিমটি খামছি মেরে যাচ্ছে। শিশু খামছি দেয় নখের দ্বারা আর তারা খামছি দেয় কেউ প্রশাসনিক ক্ষমতা দ্বারা আবার কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচী দ্বারা। শিশুদের খামছা-খামছি তেমন মারাত্মক হয় না সাধারণত। কিন্তু রাজনৈতিক খামছা খামছি বড়ই সাংঘাতিক। এতে প্রাণ যায় নিরীহ মানুষের। ভোগান্তি হয় নিরীহ মানুষের।

আচ্ছা বলেনতো দেশে এমন কয়জন আছে যে কোন না কোন দলকে ভোট না দেয়। বা কোন কোন না কোন দলকে সাপোর্ট না করে। হয়তো কেউ সক্রিয় কেউ মনে মনে কোন না কোন দলের সাপোর্টার। সবাই একটি দলকে সাপোর্ট করবে এটাকি কোন কথা হলো। এখন সরকারী বলেন বা বিরোধী বলেন সবাই যদি তার নিজের দল ছারা অন্যদের সহ্য করতে না পারে এটাকি ঠিক কাজ হবে? সরকার বিরোধী সাপোর্টারদের জেল জরিমানা দিয়ে ভোগান্তিতে ফেলে আর বিরোধীরা সরকারকে টলাতে সরকার ও তার দলের উপর চরাও হয়। সে সক্রিয় কি সাধারণ সমর্থক হোক। এটা কি ঠিক কর্ম?

সাধারণ জনগণ আজ এই দুই রাজনৈতিক ধারার কাছে জিম্মি। তারা কোন দিকে যাবে? দেশের সংবিধান তাদের তাদের পছন্দমত দল বা প্রার্থীকে ভোট দেবার অধিকার দিয়েছে। এটাতো পাপ না। তবে কেন দুই পক্ষ তার বিপরীত সমর্থকদের উপর অমানবিক আচরণে লিপ্ত? আজ রাস্তায় বের হতে হয় শংকিত মনে। শংকিত পদযাত্রা হরহামেশা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বিকার হবার শংকায় থাকে মন। কখন কোথায় নিসংসতার স্বিকার হতে হয়। গাড়ীতে থাকলে পেট্রোল বোমার ভয় আর রাস্তায় থাকলে সরকারী বাহিনির হাতে হেনস্তা হবার ভয়। যারা বোমা মারে তারা কান্ড ঘটিয়ে চলে যায়। স্পটে তারা থাকে না। কিন্তু সাধারন মানুষ যে এ ঘটনার কিছুই জানেনা সেখানে তাকে অজথা হেনস্তা হতে হয় সরকারী বাহীনির হাতে। বিশেষ করে যাদের কাঁধে ব্যাগ থাকে বা যাদের মুখে দাড়ি বা মাথায় টুপি আছে তাদের প্রতি সন্দেহ বেশি। নিরাপত্তার জন্য এসব ঠিক আছে। কিন্তু সংবিধানে দেয়া নাগরিকের স্বাধীন চলাফেরার অধিকারকে এভাবে হরহামেসা বাধগ্রস্ত করার অধিকার কি প্রশাসনের আছে?

দিনের পর দিন এভাবে দু’ধারার কাছে হেনস্তা হতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। দেশের সব মানুষ তো বোমাবাজ নয়। সন্ত্রাসী নয়। গুটিকয়েকের জন্য বেশিরভাগ মানুষ কেন ভুগবে? কেনইবা বিরোধীরা সরকারকে ঘায়েলের জন্য নিরিহ মানুষদের বলির পাঠা বানাবে? টোপ হিসেবে ব্যাবহার করবে?

রাজনৈতিক নেতাদের বেশীর ভাগেরই ছেলেমেয় বিদেশে সেটেল। সন্তান সন্ততি নিয়ে তাদের কোন টেনশন নাই। বিদেশে তারা পড়াশুনা চাকুরী-বাকরী করছে। এদেশে পড়াশুনা কাজবাজ করছে সাধরণ জনগণের ছেলেমেয়ে। রাজনৈতিক নেতারা আজ তাদের বলির পাঠা বানিয়ে ময়দান দখলের চেষ্টা করছে।

আমার বড় মেয়েটার একবার অসুখ হলো। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো আমারে ছোট মেয়েটি তার জন্য মন খারাপ করেছিল। হাসপাতালে বোনকে দেখতে যাওয়ার জন্য আকুল হয়েছিল। এ অবুঝের মাঝে যতই চুলাচুলি হোক তাদের মধ্যে ছিল একটা অদৃশ্য মায়া। এক অদৃশ্য টান। প্রশ্ন জাগে আমরাকি তবে অবুঝ শিশুদের থেকেও অবুঝ হয়ে গেলাম। এতো বুঝদার হয়েও কেন আমাদের মাঝে টান আর মায়া নেই। কেন নেই একজনের প্রতি আরেকজনের শ্রদ্ধাবোধ। সব জায়গাতে খালি অপকৌশল। পরাস্থ করার মানসিকতা। শিশুদের চুলাচুলি শেষ হয় কিন্তু তাদেরটা কবে শেষ হবে আল্লাহই ভালো জানেন।