ক্যাটেগরিঃ সাম্প্রতিক

জংগী দমনে সরকার বর্তমানে কঠোর অবস্থানে আছে। কঠোর হোক বা নরম সরকার কিন্তু জংগী তৎপরতা বিরুদ্ধে তাদের অনেকটা সফলতা দেখাতে পেরেছে। এর কারন হতে পারে ঠান্ডা মাথায় বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত গ্রহন। হুটহাট কোন কিছু না করা। যার প্রমান গুলশান ঘটনায় পাওযা গেছে। খুব ঠান্ডা মাথায় প্ল্যান করে গুছিয়ে এ্যাকশন নেয়া হয়েছিল। তাইতো খুব কম সময়ে এই সমস্যাটির সমাধান করা গেছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের আশার চাহিদাটাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করি সরকার ঠান্ডা মাথায় সবদিক বিবেচনা করে জংগী বিরোধী এ অভিজান অব্যাহত রাখবেন। কারো দ্বারা প্ররোচিত বা আবেগ তারিত হয়ে বা তরিঘরি করে কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন কাজ যেন না করেন। এতে্ একশ্রেনীর সুযোগ সন্ধানী গোষ্ঠি লাভাবান হয়ে যেতে পারে।

সরাকার জংগী খুজছে সুযোগ বুঝে শত্রু যা আছে তাদের দেই জংগী বলে ধরিয়ে। এমনটা হলে সত্যই দু:খজনক হবে। সম্প্রতি পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে এটা জংগীরা দেখতো বা এর বক্তা ডা: জাকিরের বক্ত্যব্য তারা শুনত। যা তাদের জংগী কাজে উৎসাহ দিয়েছে বলে অনেকে মত দিয়েছেন। কথা হল সরকার কি ডা: জাকির বা পিস টিভির কোন অনুষ্ঠান বা ডা: জাকিরের বক্ত্যব্য কোড করেছেন। যা জংগীদের উৎসাহ দিয়েছে? যদি সরকারের কাছে প্রমান থাকে তবে পিস টিভি বন্ধ ১০০% ঠিক । কিন্তু যদি তা না থাকে বা কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এটা করেনে তবে তা হবে দু:খজনক। ইসলাম ধর্ম আছে ইনশাআল্লাহ থাকবেও। কিন্তু কালক্রমে এতে সৃষ্টি হয়েছে নানা দল। নানা মতাদর্শের। শিয়া সুন্নি, আহলে হাদিস, সুফিবাদ, পিরবাদ, লা মাজহাবী, ভান্ডারি এই টাইপ নানা দল। জে এমবির পর ইদানিং জংগীদলের উত্থান হয়েছে।

কথা হল জংগী দলগুলোকে মদদ দিচ্ছে কারা? শিয়া সুন্নি, আহলে হাদিস, সুফিবাদ, পিরবাদ, লা মাজহাবী, ভান্ডারি এই টাইপ নানা দল গুলো? আগে বলা হতো মাদ্রাসাগুলো জংগী তৈরির কারখানো। এখণ দেখা যাচ্ছে আসল কারখানা হলো প্রাইভেটা ভার্সিটিগুলো। যাতে পড়াশুনা করে সব বড় বড় রাঘব বোয়োল আর হোমরা চোমরা টাইপ কোটিপতি বাবা মার সন্তান। তারাই জংগী হচ্ছে। আর এরা এমন ব্রেন ওয়াশ আর ট্রেনিং করা যারা নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করে ঢুকে যেতে পারে যে কোন জায়গায়। এটা কি শুধু কোন বক্তৃতা শুনেই সম্ভব। এতো রিতিমত একটা চর্চা ও শাররীক কসরতেরও বিষয়। কাজেই এর উৎস মুল খুজতে হলে সরকারকে গোয়েন্দা নজরদারী চালাতে হবে নিরপেক্ষ হয়ে। সরকারী বা বিরোধী দল হিসেব করে নয়। বা কোন ধর্মীয় দল বা ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। নয়তো শিয়া সুন্নি, আহলে হাদিস, সুফিবাদ, পিরবাদ, লা মাজহাবী, ভান্ডারি এই টাইপ নানা দল নিজেদের একে অপরের কাদাছোড়াছুরিতে সরকারকে সামিল করে মিসগাইড করতে পারে ।

আমি আজ পর্যন্ত পিস টিভিতে কোন জংগী উস্কানী মুলক কথা দেখিনা্ই। দেখেছি ইসলামের যৌক্তিক ব্যাখ্যা শুনে অনেক কে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে। দেখেছি মাজার পুজা আর শিরকের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যখ্যা। দেখেছি কিভাবে কোন বিজ্ঞাপন ছাড়া একটি শালীন চ্যানেল চালানো যায়। দেখেছি অনেক বুজর্গানে দ্বীনের ইসলামিক জ্ঞান গর্ভ অনুষ্ঠান। যার থেকে ইসলামী মাসলা মাসায়েল সম্পর্কে জেনেছি।

আচ্ছা কেউকি বলতে পারবেন এই টিভীর কোন অনুষ্ঠানটি জংগীদের উৎসাহিত করলো? আমিতো দেখি নাই। তাই কেউ দেখলে একটু জানান। আমিতো দেখেছি এই টিভীতে জংগীবাদের করা সমালোচনা করতে। গুলশানের ঘটনার জংগীরা এই টিভির জনপ্রীয় বক্তা ডা: জাকির নায়েকের বক্তিতা শুনতো। কথা হলো এই বক্তিতা শুনে কেউ তো জংগী হবার কথা নয়। জংগীরা শুনতে পারে তার কথা। কিন্তু তাদের জংগী হবার জন্য ডা: জাকিরের বক্তব্যগুলোকে দায়ি করা কতটা যুক্তি যুক্ত? যেখানে তার বক্তব্যের কোথাও জংগী দের উৎসকে দেবার কিছুই দেখা যায় না। বাংলাদেশে ডা: জাকির নায়েককে সরকারী -বিরোধী উভয় দলের অনেক সমর্থকরাই পছন্দ করে। তাই বলে কি তারা সবাই জংগী? শুধু শুধু বাংলাদেশের কিছু পীর আর মাজার পুজারী কথিত আলেমদের কথায় মিস গাইডেড হয়েই কি এই কাজ করা হয়েছে? এটা নিযে আরো ভাবতে পারতো সরকার।

সরকারের কাছে একটাই দাবি জংগী তৎপরতার সাথে পিস টিভী জড়িত থাকলে তা বিস্তারিত ভাবে প্রমান সহ জাতির সামনে উপস্থাপন করুন। কিভাবে ? টিভীর কোন অনুষ্ঠানে? কার ব্যক্তব্যে মনে হলো এটা জংগীদের মদদ দিচ্ছে? এগুলো একটু জানান সবাইকে। আমরাও চাই জংগীদের চিনে রাখতে । আমরাও চাই তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক। আর যদি পিস টিভীর বিরুদ্ধে তেমন কোন প্রমান না থাকে তবে অনুগ্রহ করে পুনরায় চালু করে দিন চ্যানেলটি। একটি সফল উদ্যোগ সুযোগ সন্ধানীদের কারনে কলংকিত হচ্ছে কিনা একটু ভাবুন। হে আল্লাহ তুমি আমার দেশ ও দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দান করো। তুমিই একমাত্র নিরাপত্তা দাতা।