ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

কি হচ্ছে চারপাশে? দেশের অবস্থা দেখে সমাজ সংসার সব বিসর্জন দিয়ে বৈরাগী হয়ে যেতে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে। গুন গুন করে তাই গেয়ে উঠি-

আমার মনতো বসে না গৃহ কাজে সজনিগো
অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে
কি করিব কোথায় যাব
এ দুঃখ কারে জানাব
মনের মত মানুষ মিলে না…………..

মোসাহেবে ভরে যাচ্ছে দেশ। খালি পামপট্টি মারা। চাটুকারে ছেয়ে গেছে দেশ। সেই কবিতা ছোটবেলায় পড়েছিলাম মনে পড়ে যায়……

সাহেব বলেন চমৎকার……মোসাহেব বলেন হতেই হবে হুজুরের মত অমতকার ……।

এতো কোন দল বা গোষ্ঠীর চাটুকারি নয়, এতো ক্ষমতার চাটুকারি! একটি পুরনো প্রবাদ, অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। ভক্তি থাকা দরকার। কিন্তু কোন কিছু নিয়া বারাবারি ভাল না। পুলিশ এতটাই ভক্তি দেখাতে গেল যে একজনের চোখ নষ্ট করে ফেলল। উকিল সাব এতটা ভক্তি দেখালো যে, একজন নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হেনস্থা করে ছাড়ল।

অতি উৎসাহিদের কারণে আজ ৫৭ ধারার ফেরে সাংবাদিকরা। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এর পথ রুদ্ধ করার পায়তারা চলছে।

চিকনগুনিয়া রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে স্বীকার করছে না দুই মেয়র। উল্টো নিজদের দোষ ঢাকার জন্য বলছে ঘরে ঘরে যেয়ে মশা নিধন সম্ভব নয়। নিজের ঘারে দোষ নিলে যে ভোট কমে যাবার ভয়, তাই ফাউ পেচাল। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে যাওয়া। জলবদ্ধতা বলে কিনা ঘরবাড়ি করে জমি দখল হয়ে গেছে পানি যাবে কোথায়? জলবদ্ধতা হবেই। বাহ! কি সুন্দর দায় সারা কথা। আচ্ছা এ অবস্থা ওনারা মেয়র হবার আগেও তো ছিল। মেয়র হলে এগুলো নিরসন করে এদেশকে সিঙ্গাপুর বানাবেন এটা বলেই ভোট চেয়েছেন। এখন খালি উছিলা দিলে জনগণ মানবে কেন? মেয়ররা এখান কিছু হলেই সমাধানের চেয়ে উছিলা দেন বেশি। এই অতিরিক্ত ছেবলামি গুলা না করলেই কি নয়।

আবার নির্বাচন কমিশন কোন দলের সাথে না বসে অতি উৎসাহে দিয়ে দিল এক রোডম্যাপ। লাগিয়ে দিল গিট্টু আর সংশয়। আবার এদিকে এইচএসসির ফলাফলে পাসের হার কম। অতি উৎসাহে মন্ত্রী বলেন, এখন খাতা আগের চেয়ে ভাল করে দেখা হয়েছে। এই কথাটি কি না বললে হতো না। এখন তো মানুষ বলছে আগে তাহলে নরম করে যা ইচ্ছে তাই ভাবে খাতা দেখা হয়েছিল। ইচ্ছে করে গণহারে পাশ করানো হয়েছে যাতে জনগণ বুঝে যে শিক্ষাতে দেশ কত উন্নত! এ জন্যই তখন যারা জিপিএ-৫ পেয়েছিল তাদের মেধা, আই এম জিপিএ-৫ টাইপের।

বর্তমানে আসলে ক্ষমতার পূজা বেড়ে গেছে, মানবতা আর মানবসেবা গেছে মাটির নিচে দাফন হয়ে। রাস্তায় দেখালাম একটি এনার্জি বাল্ব এর এড সম্বলিত সাইনবোর্ড। তাতে লেখা- Leader not misuse power. এই টাইপের একটি কোটেশন। কথাটি ঐ সাইনবোর্ডেই রয়ে গেছে বাস্তবে তার দেখা নাই। এখন যত ক্ষমতার তোষামদি আর অপব্যবহার করা যায় ততই বড় নেতা হিসেবে নিজেকে জাহির করা যায়।

আমার মরহুম পিতার কাছে শুনেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর সময়ও এমন তোষামদে ভড়ে গিয়েছিল। তার খুব কাছের লোকেরাই তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এই তোষামদকারী চাটুকারদের হাতে তিনি নৃশংসভাবে নিহত হন। তিনি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন এত কাছের চাটুকার শ্রেণীর এসব লোক তাকে হত্যা করতে পারে? আবার ফিরে আসছে সেই খুনির দল। তাই সাবধানতাই কাম্য। সচেতনতাই কাম্য। সৎ অসৎ বাছাই না করে আমভাবে সবাইকে দিয়ে নৌকা ভারি করলে সেখানে সত্যিকারের সৎ মানুষ উঠার চান্স পাবে না। এইতো সময় ভাবার। তাই নয় কি?