ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গতবার গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর হেরে যাওয়ার  প্রধান কারণ ছিল হেফাজতে ইসলাম। এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। এবারের নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হন তারও প্রধান কারণ হবে হেফাজতে ইসলাম। তবে আমার পর্যবেক্ষণে  আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তার প্রতিদন্দ্বী হাসান সরকারের  তুলনায় কৌশলগত দিকে দিয়ে ‘কাঁচা’ ।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থীরা ও ‍ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা ভোটের ধারা অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন; প্রচারপত্র বিলি করছেন। এরমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের আওতার বাইরে এমন প্রতিশ্রুতিও আছে।

নির্বাচন পদপ্রার্থীদের কাছে থেকে এবারের প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

(১) আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ বিশ্বমানের স্কুল, কওমী মাদ্রাসা, কলেজ ও প্রযুু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও গরীব আর মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি
(২) সিটি কর্পোরেশনের চারদিকে বিশেষ করে তুরাগ ও চিলাই নদীকে ঘিরে রাস্তা নির্মানসহ গাজীপুর টু ঢাকা রেলের ডাবল লাইন স্থাপন ও সিটিতে সিটিবাস চালু করা। এছাড়া ওয়ার্ড ভিত্তিক রাস্তা প্রশস্ত ও নির্মাণ করে যানজট নিরসন, টঙ্গী থেকে রাজেন্দ্রপুর প্রয়োজন মত ইউলোপ নির্মাণ করা, ফুটপাত নির্মাণ ও পার্কিং ব্যবস্থা করা।
(৩) জানমালের নিরাপত্তায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন
(৪) ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশ চালু করে জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
(৫) সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া
(৬) স্বাস্থ সেবায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ফ্রি মেডিকেল সেন্টার স্থাপন
(৭) বাজারগুলোতে ভেজাল মুক্ত দ্রব্য সামগ্রী নিশ্চিত করা সহ বাজারের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর করা
(৮) নগরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৮টি জোন স্থাপন
(৯) ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে অপসারণ
(১০) সিটি কর্পোরেশনের  আওতায় মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়, কবরস্থান, খেলার মাঠ , পার্ক এবং কমিউনিটি সেন্টার নির্মান
(১১) সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত জনকল্যাণকর নিরাপদ গাজীপুর প্রতিষ্ঠা করা
(১২) ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসন
(১৩) সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠা, হকারদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান
(১৪) বৃক্ষ রোপন করে সবুজ বনায়ন করে রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধন ও মশক নিয়ন্ত্রনে পদক্ষেপ গ্রহণ
(১৫) ওয়াইফাই জোন স্থাপন ও কর্পোরেশনের সকল সেবা ডিজিটালাইজেশন করা

সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমান তালে ছুটে যাচ্ছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। চলছে মিছিল। চলছে মাইকিং,  “…যাবে যাবে যাবে গো…… যাবেগো। ১৫ তারিখ সারাদিন……মার্কায় ভোট দিন।”

৫১ নং ওয়ার্ড গাজীপুর সিটির একটি উল্লেখযোগ্য ওয়ার্ড। টঙ্গী জোনের এই ওয়ার্ডটিকে ঘিরে সবসময় সবার কৌতুহল একটু বেশি। এই ওয়ার্ডের নানা সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে মাদক ব্যবসা ও এর বিস্তার ভয়ংকর রূপ লাভ করছে। তাই অত্র এলাকার জনগণকে এখন এই মাদকের বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। নির্বাচিত করতে হবে এমন দক্ষ লোক সাহসি লোক যে এর বিস্তার রোধ করে যুব সমাজকে সঠিক পথে আনতে পারবে।

৫১ নং ওয়ার্ডের জনগণের তাই সঠিক নেতা নির্বাচনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দক্ষ ও যোগ্য দেখে পক্ষ নিতে হবে তাদের। যাকে যোগ্য মনে হবে তার জন্যই হোক জনগণের রায়।



নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা। কে হতে পারে কে হবেন কাউন্সিলর? একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কমিশনার মুজিবর রহমান  না কি
মনের সাদা মানুষ মুস্তফাজামান খান?  না কি সবাইকে অবাক করে দিয়ে জয়ের মালা গলায় পড়বেন যিনি উদিয়মান তরুণ আমজাদ হোসেন? না কি  সমাজকর্মী মাসুম বিল্লাহ বিপ্লব?

ভোটারদেরই বেছে নিতে  হবে লাটিম, ঠেলাগাড়ি, টিফিনবাটি আর ঘুড়ি মার্কা থেকে। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধিরা যেন তাদের দেওয়া ওয়াদার বাস্তাবায়ন করেন –  নাগরিক হিসেবে এটাই প্রত্যাশা।