ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আজ ব্লগ হোমে ঢুকে সাগর-রুনির সাদাকালো ছবিটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কেমন জানি মনে হল। ফিকে হওয়া পুরোনো সাদা-কাল ছবির যুগ। এর সাথে কেমন মনে হওয়ার কি আছে? আসলে ব্যাপারটা হল এতোদিন তাদের রঙিন ছবিগুলো দেখে দেখে একটা অভ্যস্ততা এসে গেছে। হঠাৎ সাদা-কালো ছবি দেখে তাই এমন লেগেছে। কিন্তু শুধু কি তাই? আর তাদের হত্যার তদন্তের সাথেই বা এই সাদাকালো ছবির কি সম্পর্ক।

সাগর -রুনি মারা গেছে আজ অর্ধ মাসেো সরকার পারেনি তার খুনিদের সনাক্ত করতে বা ধরতে বা হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে। শুরুতে এই হত্যার প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পজেটিভ। কিন্তু আস্তে আস্তে তা চলে যাচ্ছে নেগেটিভ আকারে। অনেকটা রঙ্গিন ছবি থেকে সাদাকালো ছবিতে যাওয়ার মত। আস্তে আস্তে দিন গড়াচ্ছে সাগর রুনির ঘটনা পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। রঙ্গিন থেকে সাদা কালো তারপর একদিন কালো ব্যচ ধারন করে তাদরে মৃত্যু দিবস নাকি বলব হত্যা দিবস পালন করব। তারপর পৃথিবী চলবে নিত্যনৈমিত্তিক। আমার কেমন লাগার আসল কারন হলো ফিকে হয়ে যাচ্ছে সাগর -রুনি হত্যার ঘটনা সাদাকালো ছবির মত। কেন এই শংকা।

কারন আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেডরুম পাহারা দেবার দায়িত্ব নাকি তার নয়। অথচ হ্ত্যার প্রথমে প্রতিশ্রুতি ছিল ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের খজে বের করার জন্য চেষ্টা করা হবে আর সে মতে একটি ভালো গতি নিয়ে কাজ চলছিল, কিন্তু হঠাত কি হলো এমন যে, প্রধানমন্ত্রীর মুখে হতাশার বানী।

এখনতো সন্দেহ দানা বাধছে সরকারের পরিচিত কেউ এর সাথে জড়িত নয়তো। যা সরকার জানে? যে কারনে সরকার বিব্রত।অনেক কিছুই হতে পারে। হয়তোবা জর্জ মিয়ার মত নাটক করে আসলা খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে।

সরকার এমন করবে ? করতে পারে, খুনিদের প্রতি এ সরকারের একটা সফট মানে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এর প্রমাণ -মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুনিদের ক্ষমা করে তাদের দ্বিতীয়বার খুনের সুযোগ করে দিয়েছেন। যে দেশে রাষ্ট্রপতি খুনিদের ক্ষমা করার জন্য নিবেদিত সেখানে খুনিরা সংশোধনের পরিবর্তে উৎসাহিত হবে এটাই স্বাভাবিক।

আমি চাইনা সাগর রুনির হত্যার তদন্ত ফিকে হয়ে সাদাকালো ছবির মত হোক। দেখতে চাই স্পষ্ট ঝলমল ছবি। যাতে ফুটে উঠবে প্রকৃত ঘটনা। আর চাই সরকারের আন্তরিক ভুমিকা। যাতে বেডরুম কেন পুরো দেশের সবার জান ো মাল নিরাপদ থাকে।

খলিফা উমর রা: এর একটা ঘটনা সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি- মরুপ্রান্তরে একটি তাবুতে এক বেদুঈন বধূর বাচ্চা হবে। খলিফা তখন প্রতিদিনের মতো রাতে প্রজাদের অবস্থা দেখার জন্য ছদ্ম বেশে বের হয়ে বেদুঈনের তাবুটি দেখে সেখানে গেলেন। বেদুইনের স্ত্রীর বাচ্চা হবে শুনে তিনি তার স্ত্রী বর্তমানে যাকে বলা হয় ফাষ্ট লেডি তাকে দাসি হিসেবে পাঠালেন ঐ বেদুইন বধূর কাছে। এ ঘটনায়
প্রেক্ষাপট বা কে কি তা বিবেচ্য নয় বিবেচ্য বিষয় হলো একজন রাষ্ট্র প্রধানের মানবতা বোধ আর দায়িত্ব বোধ।

আমাদের রাষ্ট্র প্রধানের কাছ থেকে কি আমরা একটু মানবিকতা, একটু দায়িত্ব বোধ আর পজেটিভ বক্তব্য আশা করতে পারিনা। সরকার সাগর রুনির আসল হত্যাকারীদের খুজে বের করে শাস্তি দিবে এটাই জাতির প্রত্যাশা।