ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

মা একটি মধুর নাম। বিশ্বের সবখানে মা শব্দটি একই রকম। ইংরেজী মাদার এ মা অক্ষরটি আগে উচ্চারিত হয়। কিংবা মম শব্দটিতে বাংলা ম এর দ্বারা । বাংলায় মা কে আমরা আম্মা বলি। আরবীতে উম্মুন। যে ভাষাতে যেভাবেই মাকে ডাকিনা কেন এই ডাকে মিশে রয়েছে মমতা আর ভালবাসা মাখা একটি মুখ। মহান আল্লাহ মা নামের এক মিষ্টিমধুর নেয়ামতের দ্বারা একটি বৈজ্ঞানিক সিস্টেমে মানুষের বিস্তার ঘটিয়েছেন। মানব শিশুকে ১০ মাস ১০ দিন মায়ের উদরে থাকতে হয়েছে। তার রক্ত দিয়ে পেটের ভেতরে সন্তানের বেরে উঠা। সন্তান যখন পেটে থাকে তখন মাকে চলতে হয় খুব সাবধানে। মা সচেতন থাকেন পেটের সন্তান যাতে কষ্ট না পায়। মা হয়ত খেতে বসেছে পেটের ভিতরে সন্তান লাথি মেরেছে। পেটে বেদনা শুরু হয়েছে। খাবার খাওয়া হয় না মায়ের। এ সময়টা মার কাটে সন্তানের মঙ্গল কামনায়। নিজের সুখ ভুলে যায় মা। জন্মানোর সময় কি বেদনা মাকে সইতে হয়। তা কেবল যারা মা হয়েছে তারাই বুঝতে পারে। পৃথিবীতে শিশু জন্মের পর মা সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে আগের সেই কষ্ট ভুলে যায়। সারাদিনের কাজ শেষে গভীর রাতে মা গেছে ঘুমোতে। ঠিক তখনি পেসাব করে সন্তান বিছানা নষ্ট করেছে। সন্তানের ঠান্ডা লাগবে মা তাই সুখের ঘুম ভুলে ভিজা বিছানা চেইঞ্জ করে। আসলে মা কে কতই না কষ্ট দিয়েছি। আল্লাহ পাক মানব শিশুর পহেলা খাবার হিসাবে মায়ের বুকে শাল দুধ দিয়েছেন । যাতে রয়েছে রোগ থেকে বেচে থাকার মহা ঔষধ। সেই দুধ খেয়ে বড় হয়ে আজ আমরা মাকে ভুলে যাই। বউ আর সন্তানের অসুবিধা হবে চিন্তা করে বৃদ্ধ মাকে ওল্ড হোম এ রেখে আসি। ভুলে যাই গায়ের চামড়া দিয়ে পাপসও যদি করি এ ঋন শোধ হবার নয়।

পশ্চিমা বিশ্ব ওল্ড হোমে থাকা মাতা পিতাকে বছরের এই একটি দিনে স্মরণ করতে মা দিবস আর বাবা দিবসের সুচনা করেছে। এই দিনে তারা ওল্ড হোমে যেয়ে পিতা মাতার সাথে সারাদিন সময় কাটাবে। গিফট দিবে। বাকি সারা বছর মা-বাবার কোন খোঁজ খবর নেয়ার প্রয়োজন তাদের নেই।

কিন্তু আমরা এই বিজাতিয় সংস্কৃতি চাই না। আমরা চাইনা মায়ের প্রতি ভালবাসা একটি দিনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকুক।