ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বাজারে ঢালওভাবে ব্যাবসা করার সুযোগ দিয়ে একটা bubble সৃষ্টি করে ২০১০ এর ডিসেম্বরে ক্রেডিট রেশিও ৮২ তে নামিয়ে আনে । যথা সময়ে ব্যাংকগুলো বিরাট অংকের মুনাফা করে শেয়ার মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসে। বিপদে পরে ব্যাপক সংখ্যক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী । শেয়ার মার্কেটের পতন রোধের জন্য SEC পুনঃগঠন সহ সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা না থাকায় কোন উন্নতি হয় নাই।

ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন জন DG র মেয়াদ শেষ হয়। এই তিন ডেপুটি গভর্নরের ১ জন ২০০২ সালের BNP আমলে, ১ জন ২০০৬ সালের BNP র দ্বিতীয় দফার শেষভাগে এবং ১ জন ২০০৭ সালে কেয়ার টেকার সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ও কেয়ারটেকার আমলে নিয়োগ পাওয়াদের বাতিল করবে এমনটাই আশা করা হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে তা হয় নাই। বলা বাহুল্য তারা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্তে থেকে এই সরকার তথা দেশের বিপক্ষে কাজ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি বিশেষায়িত পদ। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এই পদের জন্য খুবই দরকার। কিন্তু ডঃ আতিউর রহমানের কোন প্রশাসনিক পদে চাকরি করার কোন অভিজ্ঞতা নেই।শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনি এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই তাকে বাধ্য হয়ে বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক আমলে নিয়োগ পাওয়া ডেপুটি গভর্নর ও অর্ধ ডজন কনসালটেন্টের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক পরিচালনা করতে হচ্ছে।

২০০৯ ও ২০১০ সনে কি কারনে ট্রেজারি বিলের রেট কমানো হয়েছিলো তা খতিয়ে দেখলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। সেই সময় কল মানি রেট ১% এ নামিয়ে আনা হয়েছিলো। টার্ম ডিপোজিট ৫/৬% এ নামিয়ে আনল। এ সবের মাধ্যমে মার্কেটকে অতি মূল্যায়নের দিকে ধাবিত করা হয়। পিডি ব্যাংকগুলো প্রতি সপ্তাহে ট্রেজারি বিলে বিনিয়গের ক্ষেত্রে লোকসান দিত আর এ লোকসান কাটিয়ে উঠার জন্য তারা স্টকে অতিরিক্ত পজিশন নিতে বাধ্য হয়েছিলো। যে মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হল তখনি সিআরআর বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরএ তারল্য সংকট তৈরি করে মার্কেটের লাগাম টানতে গিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বিসিয়েছে। ডিসেম্বরএ এসএলআর ছিল ১৯% ও সিআরআর ছিল ৬%। তার পূর্বে সিআরআর ছিল ৫. ৫%। তারল্য সঙ্কটের এটা একটা বড় কারন। ০.৫% সিআরআর কমালে ব্যাংকগুলোর কাছে ২৫০০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য থাকবে। তাতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। পিডি ব্যাংকগুলো গত ২ বছরে ট্রেজারি বন্ডে মার্ক টু মার্ক লোকসান দিয়েছিল। আর এই সিদ্দান্তগুল সদ্য অবসরে যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের।

এবার আসি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নরদের বিষয়ে। কয়েকদিন আগে সরকার সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরি , আবু হেনা রাজি হাসান ও নাযনিন সুলতানাকে তিন বছরের জন্য বাংলদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দেয়।

সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরি

শেয়ার মার্কেটের কেলেঙ্কারির জন্য নির্বাহী পরিচালক থাকা অবস্থায় অনেকেই তাকে দায়ি করেন। উনি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে প্রতি মাসে আইটেমওয়ারি রিটার্ন দাখিল করার বিধান চালু করেন। আর এ কারনে
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দীর্ঘ মেয়াদী কোন পরিকল্পনা করতে পারছে না ।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে এসইসি ও সরকারের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক single brower exposure limit adjustment এর সময়সীমা ২০১৩ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বারালেও এস কে সুর সাহেব এর মধ্যে “অতিরিক্ত পজিশন নেওয়া ব্যাংকগুলো নতুন করে পজিশন নিতে পারবে না ” এই শর্তটি জুড়ে দেন যা পুরো নির্দেশনাটাকেই বাতিল করে দেয়।

সুর সাহেবের নির্দেশনাতেই সিডিআর কমানো ও সিআরআর বাড়ানো হয় যা বাঙ্কগুলতে তারল্য সঙ্কট তৈরি করে।

নাজনিন সুলতানা

কম্পিউটার বিভাগের জন্য সৃষ্ট এক পদে নির্বাহী পরিচালক হিসাবে পদন্নোতি পেয়ে উনি এক বছর আগে অবসর গ্রহন করেছেন যদিও তার কম্পিউটারএর উপর কোন ডিগ্রি নাই।

তিনি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এর শ্যালক আব্দুল কাইউম মুকুলের স্ত্রি।

আবু হেনা রাজি হাসান
উনার ৬০% কিডনি অকেজো হবার পরও সুধুমাত্র আতিউর রাহমানের জামালপুরের লোক হবার কারনে উনি পদন্নোতি পান।