ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

Untitled1

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমারা। পেয়েছি একটি সার্বভৌম। পেয়েছি একটি মানচিত্র, পেয়েছি জাতীয় পতাকা। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত আমাদের এই বাংলাদেশ।

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ১১ নভেম্বর এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে। এ সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার অসহযোগিতা ও ঔদাসীন্য প্রকট হযে ওঠে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে। মুজিবের সাথে গোলটেবিল বৈঠক সফল না হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান ২৫শে মার্চ গভীর রাতে মুজিবকে গ্রেপ্তার করেন এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসাবে বাঙালিদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ শুরু করে।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর এই নারকীয় হামলাযজ্ঞে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় দালালদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। গণহত্যা থেকে নিস্তার পেতে প্রায় ১ কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোট জীবনহানির সংখ্যার হিসাব কয়েক লাখ হতে শুরু করে ৩০ লাখ পর্যন্ত অনুমান করা হয়েছে। দুই থেকে চার লক্ষ নারী পাকিস্তানী সেনাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়।

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। এর প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দিন আহমদ। এই সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিলে। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ৯ মাস পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরূদ্ধে লড়াই করে। মুক্তি বাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভারতের সহায়তায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পরাভূত করে। মিত্রবাহিনী প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা’র কাছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পাকিস্তান বাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজী ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পন করেন।

Untitled

আর এই আত্মসমর্পন এর মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় বিজয়ের। প্রতি বছর ১৬ ই ডিসেম্বর এই দিনটি বাঙালি জাতি বিজয় দিবস উদযাপন করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পর বিজয়ের আনন্দটা অনেকটাই কমে গেছে। কিছু বছর আগেও দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি/বেসরকারি অফিস এবং বিভিন্ন স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান গুলু জাতীয় পতাকায় শুভিত করতেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান। চারিদিকে বিজয়ের এক উল্লাস ছিল, বিজয়ের গান, স্লোগান, আনন্দ মিছিলে মুখরিত হতো আকাশ বাতাস। আজ যেন সেই বিজয়ের বাধভাঙ্গা উল্লাস মানুষের মাঝে অতীত।

আজ/ বর্তমান সময়ে বিজয় দিবস মানে হচ্ছে সরকারি ছুটির একটি দিন। যে দিনটি উদযাপন করা হয় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোন পার্ক, সিনেমা হল কিংবা কোন বিনোদন কেন্দ্রে। আমরা হয়ত অনেকটাই জানি জাতির ইতিহাস সম্পর্কে। এইভাবে চলতে থাকলে মনে ভয় হয় ১৪৬ বছর পর বাংলাদেশ কিভাবে স্বাধীন হয়েছিল, কে ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, কিভাবে শুরু হয়েছিল কিভাবে শেষ? জানবে তো পরবর্তী প্রজন্ম?