ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

মা দিবসের দিন হয়তো পেরিয়ে গেছে।তারপরও আজ কিছু বলতে ইচ্ছে করছে….. এই ব্লগে এটি আমার প্রথম লেখা।তাই কোন ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

নাইট্রোজেনে মোড়া এই নীল পৃথিবীতে সবাই যখন নিজেকে নিয়ে বাঁচার গান গায়,,তখন একটি ভালবাসা গৌণ হয়ে যায়-তা হল মায়ের ভালবাসা।

সাধারণ দৃষ্টিতে, প্রিয়সখী মাকে না ভুলার প্রত্যয় কিছুটা হলেও দৃঢ় করে এই বিশ্ব মা দিবস। তাই জনপ্রিয়তার ফ্যান্টাসিতে সবাই আজ বিশ্ব মা দিবসকে স্বাগত জানায়।

হ্যা,মা শব্দটা যেকোনো ভাষায়ই মধুর।শব্দটির ছায়ায় এক নিরাপদ আশ্রয় ও ভরসার স্থান পাওয়া যায়। বাণিজ্যিক এই দুনিয়ায় একমাত্র নিঃস্বার্থ মানুষ মা। ‘মা’ নামক
মহিলা অন্যের বোন কিংবা বন্ধু হলেও স্বার্থবাদী হতে পারেন। কিন্তু ‘মা’ তকমা পাওয়ার পর সেই মহিলাটিকে দেখে যায় মানুষ কত পরিবর্তনশীল! মা নামের ছোট্ট এ শব্দটির বিশালতা
সত্যিই আকাশ ছোঁয়া।এককথায়, গোটা পৃথিবীর মানুষের সম্পর্কের প্রোটপ্লাজম হলেন মা।

মা দিবস বাস্তবায়নের অগ্রণী যে মার্কিন মহিলার অবদান অনস্বীকার্য, সেই আনা জার্ভিস কিন্তু নিজে কোনদিন মা ছিলেন না। কিন্তু তিনি তার মায়ের মৃত্যু স্মরণেই প্রথম এই চিন্তার অবতারণা
করেন।এই দিবসটির মূলমন্ত্র হলো মা,মাতৃত্ব, সন্তান-মায়ের বন্ধন আর পরিবার ও সমাজের প্রতি মায়ের অবদানকে একটি দিন স্মরণ করা অর্থাৎ, মায়ের বদ্ধতা যে শুধু সন্তানের কাছে তা নয়;গোটা পৃথিবীর এক ধ্রুবক মডেল হলেন মা।

এই মা দিবস কিন্তু মূলত পাশ্চাত্য সমাজের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারন, কারণ ওদের পারিবারিক বন্ধন এতই শিথিল যে বয়োঃপ্রাপ্ত সন্তানেরা পিতামাতাকে নির্বাসন দিয়ে স্ব স্ব পারিবারিক
জীবন গড়ে তুলতে ভালোবাসে। তাই এই দিনে অন্তত মায়ের সাথে দেখা করার বিবেকবোধ তাদের জাগ্রত হয়।

তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশ খারাপ লাগে।আজকের এই মা-দিবসকে ঘিরে আছে বিশাল এক বাণিজ্য।এ দিবসকে ঘিরে শুরু হয় হাজার sms,কার্ড, চকলেট ও উপহার সামগ্রী বাণিজ্য।সত্যি বলতে কি, ভালবাসার পরিমাপ কি কখনো মূল্যযুক্ত বস্তু দিয়ে করা যায়? বাকি ৩৬৪ দিনের ভালবাসা আমরা একদিনে শোধ করার চেষ্টা করছি। এমনকি আজকের দিনে মোবাইল অপারেটর আর টিভির এডগুলি এ বিষয়ে আমাদের ইমোশনকে ব্ল্যাকমিল করছে।

মা দিবসের বিস্তারের সাথে সাথে আজ নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটিও যেন বাস্তবের কাহিনী হয়ে উঠছে।আমরা বাঙালিদের আগে এই মা দিবসের প্রয়োজন না থাকলেও,আধুনিকতায় এসে
পরিবারের সাথে আন্ত:আনবিক দুরত্ব বৃদ্ধিই পাচ্ছে।তাই বোধহয় শুধু মা দিবস এলেই মায়ের প্রতি ভালবাসার বিস্ফোরণ হয়।

বাস্তবিক, মাকে ভালবাসতে সত্যিই কি মা দিবসের প্রভাব আছে? যদি থাকত,তাহলে বোধহয় বায়জীদ বোস্তামি আর ইশ্বরচন্দ্রের মাতৃভক্তি ইতিহাসে এত বিখ্যাত হত না।কই সেকালে তো মা দিবস ছিল না? বরং মা দিবসের ব্যাপ্তির সাথে সাথে ব্যাপ্তি ঘটছে বিদ্ধাশ্রমের,আর নৃশংসভাবে মাতা-পিতা খুনের।

আমার মতে ‘মা দিবস’ পালন মানে, মাকে ভালোবাসার জন্য আমরা একটি দিন নির্ধারণ করে দিয়েছি।

এতে কি ভালবাসা আজ আনবিক হয়ে যাচ্ছে না? হ্যা,মাকে ভালবাসার সবটুকু মহত্ব এভাবেই আজ শুধু একটি দিনের কাছে দ্রবীভূত হচ্ছে। যাহোক, গতিময় এই জীবনে নির্মম
বাস্তবতাই যেন সঙ্গী। তারপরও, মা তোমায় জানাই জীবনভর অকুণ্ঠ ভালবাসা। সেই সাথে সকল মাকে;বিশেষত পৃথিবীর সকল নিঃসন্তান আর সন্তানহারা মায়েদের। শুধু আজকের
জন্য নয়,সারাটি জীবন মায়ের পাশে থাকব-এই যেন হয় মা দিবসের প্রতিজ্ঞা।