ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য সিগারেটকে সব নেশার ‘মা’ বলা হয়। ইংরেজরা এদেশে প্রথম ধূমপানের প্রচলন করেছিল তাদের শাসনকালে। সেই বিষযুক্ত প্রচলন আজো আমাদের সমাজে রয়ে গেছে।
স্লো-পয়জোনের মত মারাত্বক বায়োলজিক্যাল অবনতি হচ্ছে এদেশ সহ বিশ্বের কোটি-কোটি মানুষের। অথচ,ইংরেজরা আসার আগে উপমহাদেশের লোকরা গাঁজা খেত। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এটা সত্যি,,গাঁজা আপেক্ষিক দিক থেকে সিগারেটের চেয়ে অনেক কম ক্ষতিকর।যদি নিয়ন্ত্রিতভাবে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার গাঁজা সেবন করা যায়,তবে তা সামান্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া দেহের জন্য বরং উপকারই বয়ে আনে।এছাড়া এটি সেবনে ধূমপানের নেশা চলে যায়।গাঁজা খেলে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়;ফলে তার চিন্তা শক্তি একটা অনন্য স্তরে প্রকাশিত হয়।চিন্তাশক্তির অস্বাভাবিক উন্নতি নেশাকাটার আগ পর্যন্ত থাকে।এসময় ব্যাক্তি বাহ্যিক জগত থেকে দূরে সরে যায় বলে বাইরে থেকে মাতালের মত দেখা যায়।
,
এখানে বলা হচ্ছে না গাঁজা খুব ভাল বা এটি খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করার প্রয়াস দেওয়া হচ্ছে না। শুধু এটা জানা দরকার,যারা চেইন স্মোকার তাদেএ জন্য গাঁজা মন্দের ভাল। তবে মেডিকেল সাইন্সের প্রণিত গাঁজা(মারিজুয়ানা) সেবনে বিশেষ কোন ক্ষতি হয়না।উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫% শিক্ষার্থী নিয়মিত মারিজুয়ানা বা গাঁজা (Weed) সেবন করে।তাদের ধারণা এতে তাদের পড়ালেখার চাপ কমে মস্তিষ্ক তাড়াতাড়ি কাজ করে।তবে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রায় নেই।

ব্রিটিশরা ১৮২৮ সালে সারা ভারতব্যাপী গাঁজা চাষ নিষিদ্ধ করে তামাক চাষের প্রচলন করে।বস্তুত,গাঁজা চাষ যেহেতু পূর্বে বাপ-দাদার সম্পত্তির মত ছিল;তাই ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল,এটি বন্ধ না করলে তাদের পুঁজিবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আর তাইতো,,সেই প্রাচীন থেকে আজ পর্যন্ত অনেক অর্থ শুধুমাত্র তামাকের দ্বারাই তারা লাভ করেছে।ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে যে কত শত কোটি টাকা মুনাফা নেয় তার ইয়ত্তা নেই।

সিগারেট ও মারিজুয়ানার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলে মারিজুয়ানা একটি ক্ষণস্থায়ী নেশা-অর্থাৎ মোটামুটি ইচ্ছা করলে ছেড়ে দেওয়া যায়। কিন্তু,সিগারেট ছাড়া অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আবার গাঁজার মধ্যে উল্লেখযোগ্য খারাপ দিক হল-সিগারেটের থেকে পাঁচগুণ বেশি ধোয়া দেহে প্রবেশ করায় কার্বন মনোক্সাইডের প্রবেশ বেড়ে যায় যা ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়াসহ আরো ক্ষতিকর রোগের কারন।

পরিশেষে এটাই সত্য-নেশা জিনিসটাই অস্বাভাবিক।সিগারট কিংবা গাঁজা দুটোই বেশ ক্ষতিকর।কিন্তু মানুষের নিষিদ্ধ জিনিসের আকর্ষণ সেই প্রজাতির উৎপত্তি থেকেই।সে হিসেবে নেশা মানুষ করবেই
এটা বন্ধ করা প্রায় যাবে না।তাই মন্দের ভালো হিসেবে সিগারেট থেকে গাঁজাই স্মোকারদের জন্য মঙ্গলজনক।

তাছাড়া,নিকোটিনের মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা আমাদের জিনকে আকৃষ্ট করে।চেইন স্মোকার হওয়ার কারণ এই জিনগত বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্য। এরা ইচ্ছা করলেও সিগারেট প্রায় ছাড়তেই পারে না।ব্যতিক্রম খুব কম।

নেশা কখনই বিলুপ্ত হবে না।তাই সবদিক থেকে বিবেচনা করে এটা সবার বোধগম্য; বাইরের দেশদের এত টাকা বিলিয়ে না দিয়ে নিজের দেশে বরং ‘মন্দের ভালো’র ব্যবহার করলে আপাত একটু ভাল ফল পাওয়া যায়।

[এটি শুধুমাত্র একটি গবেষণাভিত্তিক তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে গাঁজা খাওয়ার জন্য উৎসাহিত বা ব্যবসায়িক পাব্লিসিটির উদ্দেশ্য প্রণীত হচ্ছে না]