ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

‘প্রেম’-নামক স্বর্গীয় শব্দকে প্রশ্ন করার যোগ্যতা কারো নেই।কিন্তু যখন ভালবাসা দিবস হয় শুধু মাত্র প্রেমিকযুগলের চুমু খাওয়ার জন্য, ওদের আনন্দের জন্য;তখন মানতে হয় প্রেমের অপর নাম ‘ভালবাসার মোড়কে কামের আদান-প্রদান’। ভালবাসা দিবসের জনক ভ্যালেন্টাইন ভালবাসার জন্য ক্ষতবিক্ষত হয়েও হাসিমুখ ধরে রাখেন মানসিক জয়ের আনন্দে। তাই শারীরিক আনন্দ থেকে মানসিক আনন্দ জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বহুদুর।

 

ভালবাসা দিবসে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার নতুন ইভেন্ট ফেসবুকে খোলা হয়েছে। এরূপ চ-মার্গীয় প্রগতিশীলতা নিঃসন্দেহে নতুন আইডিয়া।কিন্তু এই ফ্যান্টাসিজমের ভেলায় গা ভাসিয়ে কেউ আর তৃতীয়বিশ্বের রূঢ় বাস্তবতায় চোখ বোলায় না।এদেশের অগণিত পথশিশু চুমু পাওয়া তো দূরের কথা;থোকায় থোকায় শুধু নির্যাতন আর নির্মম রসিকতা ছাড়া কিছুই পায় না।

 

তাই আসুন,অন্তত ভালবাসা দিবসে এই বঞ্চিত শিশুগুলোর মুখে হাসির ফুটাই। প্রেমিকাকে দেওয়া হাজারটাকা দামের গিফটের সামনে একটাকা দামের চকলেটের মূল্য হয়তো নগণ্য।কিন্তু একটি শিশুর অমূল্য হাসিমুখের কাছে হাজার টাকার বিলাসদ্রব্যগুলো সত্যিই হার মানে। দুনিয়াকে বদলানো কত মনিষী যে পথশিশু ছিলেন তা আমরা ইতিহাসকে নাড়া দিলেই প্রমাণ পাই।
আগামীর ভবিষ্যতদের মধ্যে সামান্যটুকু আনন্দ বিতরণ যে আগামীর পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার মত বিবর্ধকরূপে কাজ করতে পারে-সেটা অস্বীকার করার সাহস কার! আনন্দের সামগ্রী ত আনন্দেরই। হোক তা একটাকা দামের চকলেটও!সবাই যে যার বাড়ি,পাড়া,এলাকার অধিকারবঞ্চিত শিশুদের চকলেট,কেক বা যেকনো কিছু দিয়ে আনন্দদান করলে মন্দ হয় না!