ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

ঘরেবাইরে বাংলার মানুষের অযৌক্তিক আইপিএলপ্রীতি দেখে মুস্তাফিজ আর সাকিবদের প্রতি প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।অবশ্য এদের জন্যই বুঝতে শিখে গেছি বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রিকেটপ্রেমীরাও সহজাতভাবে স্বার্থান্বেষী। ভাগ্য ভাল,এই দুই প্লেয়ার না খেললে আইপিএলটা বাঙালী জাতিকে চোরের মত উপভোগ করতে হত! পণ্যপ্রথাকে পুঁজি করে রূপায়িত ক্রিকেটের এক বিতর্কিত রূপ আইপিএল; যে ক্রীড়া কিনা এই কয়েকদিনেই কেড়ে নিয়েছে ৮৯ কৃষকের টগবগে প্রাণ। মহারাষ্ট্রের গ্রামগুলোতে শুধুমাত্র পানীয়জল ও খাবারের তাড়নায় ৮৯ জন কৃষকের আত্মহত্যা এবং শতশত পরিবারের অঘোষিত জীবনহানি আমরা দেখার পরও কি আইপিএল বর্জন করতে পারি না শুধুমাত্র সাকিব-মুস্তাফিজদের জন্য?

ব্যাপারটা খোলাসা করা যাক। জুয়ার খেলা আইপিএলের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ লিটার জল যোগান দেওয়া হয়। অথচ মোদি সরকারের সেই “আচ্ছে দিন”এর ভারতেই অজস্র মানুষ পানির অভাবে নিজের প্রাণ আর ফসল নিজের হাতেই কোরবান করছে প্রকৃতির ভাঙ্গাগড়ার খেলায় পরাজিত হয়ে।আইপিএলীয় হেরোইনে জনগণকে বুঁদ করে রাখতেও চলে চমকপ্রদ বিজনেস পলিসি।সারাদিনে কাজ করার পর ক্লান্তদেহী মানুষরা গা এলিয়ে দেয় আইপিএলে।খেলা শেষ হলে ঘুমের সাগড়ে পাড়ি দিয়ে আবার সকালে কাজে বের হওয়া মানুষেদের সংখ্যা ভারতে সিংহভাগ।এই ছকে বাধা জীবনের গন্ডি পেরিয়ে তারা আর জানতে চায়না নিজেদের শোষিত হবার গল্প।পাশাপাশি কড়া মেকাপের আবরণে সজ্জিত সল্পবসনাদের অঙ্গভঙ্গি পুরুষদের সুপ্ত কামনাকে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিজমে ভাসিয়ে দেওয়ার কাজটাও অবলীলায় করে একটা আসক্তির জন্ম দিয়ে থাকে।ফেমিনিস্ট প্রিয়াঙ্কা-দিপীকারাও নারীকে পণ্য করার এই উৎসবে কম যান না।একই অঙ্গে দুই রূপ হায়! রেসলিং আর আইপিএলের মৌলিক তফাৎ দেখি নাতো!?

চিয়ারগার্লসদের মোহনীয় পোশাকের সাথে ক্রিকেট বলের হাই পারফরমেন্স দেখতে গিয়ে অবশ্য এগুলো ভুলে যাওয়ারই কথা।ভুলে যাওয়ার কথা যে দেশকে এক সিজনে গালি দিয়ে অন্য সিজনেই ওই দেশের প্রতারক ক্রীড়াকে নিজের মত আপন করে হটকেক বানানো।

এদেশের ক্রিকেটপ্রিয় দর্শকদের কাছে অনুরোধ,অন্তত নিজের দেশের খেলোয়ারদের এভাবে নিলাম প্রথায় বিক্রি হয়ে অমানবিক বিনোদন উপহার দেওয়ার জন্য যেন সাজেস্ট না করি।আমরা কি পারিনা মুস্তাফিজ-সাকিবদের এই খেলায় অংশ নেওয়ায় নিরুৎসাহিত করতে? পারি না কি নারীবক্ষ ইনভেস্টমেন্ট করে হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করা পুঁজিপতিদের সমূলে গুড়িয়ে দিতে? এখনই সময় এসব অমানবিকতার ক্রীড়াকে বর্জন করার, ঘৃণা করার।দিনশেষে জয় হোক সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার, অবসান হোক বিনোদনের নামে মানুষ খুন করার জঘন্য প্রয়াসের।