ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ভারত মানেই বিদ্বেষ আর পাকিস্তান মানেই প্রচ্ছন্ন প্রীতি- এই মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠা তরুণের সংখ্যা বাংলাদেশে দিনদিন না কমে বরং বাড়ছে।ফেসবুকে আমজনতার ক্ষমতায়নের প্রভাবে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশে বিচিত্র সব হুজুগের সৃষ্টি হচ্ছে।সম্প্রতি ভারতের সাথে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির জের ধরে দেশবিক্রির হুজুগ আসায় আলোচনায় আনতে হয়, ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু বাংলাদেশের সাথে না; আছে চীন,আমেরিকা, রাশিয়া, শ্রীলংকা, মালদ্বীপসহ অনেক দেশের সাথেই। তারমানে এই দাঁড়ায় না ভারত এই সব দেশকেও কিনে নিয়েছে!আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিসরে বাংলাদেশ এখনো বড় কোন শক্তিতে পরিণত হয়নি। ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সের সিম্পল নিয়ম হলো,হয় শোষণ করো নয়তো শোষিত হও।বাংলাদেশ ২য় দলে।এইদিক থেকে ভারত আমাদের উপর অভিভাবকত্ব করবে এটাই স্বাভাবিক।আশার কথা হল, সংস্কৃতিগত ও ঐতিহাসিক মিল থাকায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কটা রাজনীতির বাইরে নৈতিকতার উপরও ভর করে আছে। তাই প্রতিবেশী দেশের প্রতি আমেরিকা, রাশিয়া কিংবা চীন যে চরম সুবিধাবাদী আচরণ করে সেই আশংকা থেকে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও মুক্ত।

বৃহৎ স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করাটা যদি প্রতিভার কাজ হয় তবে বাংলাদেশ সেখানে বিরাট প্রতিভাবান। বাংলাদেশ একসাথে ভারত,চীন,আমেরিকা ও রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক রাখছে। এক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্র হবার সুফল হল,বাংলাদেশের সিরিয়া কিংবা পাকিস্তানের মত পরিণতি না হওয়া।ভারত নিজের স্বার্থেই সর্বাত্মকে চায় বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ বিস্তার না করুক। অথচ আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর দেশই জঙ্গীজাল বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দখল করতে আপ্রাণ প্রয়াসী। বাংলাদেশে যদি জঙ্গীবাদ চরমদশা ধারণ করে এবং তা সরকারের ঊর্ধ্বে চলে গেলেই আমেরিকা-রাশিয়ার মত শক্তিধর রাষ্ট্র কথিত ত্রাণকর্তা হয়ে দেশরক্ষায় তাদের সেনাবাহিনী প্রেরণ করবে।বাংলাদেশ নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে আবার রাশিয়া আর আমেরিকার লড়াই হবে।মাঝখানে এই লড়াইয়ে প্রাণ নাশ হবে নিরীহ মানুষগুলোর।প্রতিবেশী রাষ্ট্র বিধায় এই লড়াইয়ের লোকশান বহন করতে হবে ভারতকেও!

তাই দিনশেষে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়য়েরই উইন উইন সিচুয়েশন বজায় রাখতে যেখানে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, সেখানে দেশবিক্রির দোহাই দিয়ে হাপিত্যেশ করা জনগোষ্ঠীর জন্য একঠোঙ্গা করুণা উপহার দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই।

পাকিস্তানের প্রতি প্রচ্ছন্ন প্রীতির প্রসংগে আসা যাক,এই পাকিস্তানের প্রতি আহ্লাদী মনোভাবের জন্য দায়ী আমাদের নড়বড়ে সংবিধান।ইচ্ছামত পরিবর্তবশীলতার সংবিধানে মুজিব পরবর্তী শাসনে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি টেনে আনা হয়। জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির শুরু তখন থেকেই।ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সচল রাখতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবাধে বিচরণ করতে দেওয়া হয়।মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, তাদের হাতে দুই দশক ক্ষমতার বড় অংশের দায়ভার ন্যস্ত থাকায় এই বিশ বছরে বড় হতে থাকা একটি প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু ভুলে পাকিস্তানপন্থী মনোভাবে বাড়তে থাকে।তারা সাম্প্রদায়িক হয়,ভারত মানেই হিন্দু আর হিন্দু মানেই বিদ্বেষ-এই টাইপের ফ্যাক্টর অবচেতনভাবেই মাথায় নিয়ে বড় হতে থাকে।এই অবচেতন অসুস্থ চিন্তাচেতনার রেশ এখনো কাটেনি। ফলস্বরূপ আজকের অবস্থা।

অবশ্য তরুণদের কিছু অংশে ‘নেই কাজ ত খৈ ভাজ’ এর তাগিদে সাইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স রাখতেও একদেশের প্রতি ঘৃণা ও আরেকদেশের প্রতি ভালবাসা চলে আসে। তাই অনেকে না বুঝে হয় ভারত না হয় পাকিস্তান নিয়ে দড়ি টানাটানি করতে থাকে। যে কোন একপক্ষ ধরতে হবে বলে কথা!