ক্যাটেগরিঃ চারপাশে, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

২২ সেপ্টেম্বর আমাদের সময়.কম, বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর.কম ও অন্যান্য সংবাদপত্রে একটি সংবাদ ছাপানো হয়েছে, ঢাকার যাত্রাবাড়িতে, শিশু অপহরণের সন্দেহে একজন মহিলাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে, যে অভিযোগে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, অর্থাৎ শিশু অপহরণের দায়ে, সে শিশুটিকে পরে পাশের বাসায় খেলারত অবস্থায় পাওয়া যায়, কিন্তু ইতিমধ্যে, যা হবার তাই হয়ে গেছে, কিছু উন্মত্ত “মানুষে”র নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা আর অপরাধে বলি হয়ে যান ঐ মহিলা। পরে জানা যায় ।।ঐ মহিলার গ্রামের বাড়ী পটুয়াখালীর বাউফলে, এবং তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন, মাঝে মাঝে তিনি লঞ্চে ঢাকায় আসেন, ঢাকার রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন।

না, এই ঘটনাকে কেউ মর্মন্তুদ বলেননি, কেউ প্রতিবাদ করেনি, কারো চোখ সামান্য আদ্র হয়ে উঠেনি। ঐ সংবাদটুকু ছাড়া, কেউই তাঁর জন্য দু’লাইন ব্যয় করেনি, না সংবাদপত্রের পাতায়, না ফেসবুকে, না ব্লগে, এ সমাজে এমনও লোক আছে বরং উল্টো প্রশ্ন ছুড়বেন, তিনি রাস্তায় ঘোরাফেরা করবেন কেন? কেনইবা তিনি মানসিক ভারসাম্য হবেন? আর এরকম হলে তো, এই ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতা এক ধরণের চিন্তার বৈকল্য, শারীরিক অন্যান্য রোগের মতই একটি রোগ, সে অর্থে তিনি অসুস্থ ছিলেন, এই অসুস্থতার মারাত্বক দিক হলো, যে মানুষটি এই রোগে আক্রান্ত, তিনি তার জগৎ সম্পর্কে জানেন না, অথবা নিজস্ব এমন জগতে বাস করেন, যা বাস্তবে নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানূষ এরা। ঐ মহিলাটি, যখন উন্মত্ত “মানুষ” গুলো মারছে, তখন হয়তো তিনি বুঝতেই পারেননি, তাঁকে কেন মারা হচ্ছে , কেন তাঁর প্রতি নৃশংস আচরণ করা হচ্ছে, তিনি হয়ত এইটুকু বুঝতে পারছিলেন এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন।

এই পরিস্থিতি কীভাবে এড়ানো যেত, যখন একটি শিশু হারিয়ে গেছে তখন দায়িত্বশীল মানুষের কাজ কী ছিল, শিশুটিকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে দেখা,নিকটস্থ থানায় জানানো,সম্ভব হলে র‍্যাব এর সহায়তা নেয়া, কেননা ইতোপূর্বে অপহৃত অনেক শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সন্দেহ উদ্রেককারী মহিলাকে থানায় সোপর্দ করা,সম্মিলিতভাবে শিশুটির পরিবারকে শিশুটির উদ্ধারের ব্যপারে সহযোগিতা করা। তা, না করে ঐ সন্দেহভাজন মহিলার প্রতি সম্মিলিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, অতঃপর পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। হায় দায়িত্ববোধ! হায় সংবেদনশীলতা! মানুষ মানুষকে কত সহজে, কত কিছুর নামে, মেরে ফেলছে। পৃথিবীতে জীবজন্তুর হিংস্রতার চেয়ে মানুষের হিংস্রতা অনেক বেশী। তারপরও মানুষ নিজেকে সেরা বলে দাবী করে, মাকসুদা আমাদের কারো স্বজন হতে পারত, বোন হতে পারত, তাহলে কী আমরা এই মৃত্যুটা কী সহজে মেনে নিতে পারতাম, এইভাবে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম, আমি ঠিক জানিনা, মাকসুদা ক্ষমা করবেন! দুর্ভাগ্য আপনার, আপনি এই দ্বিপদী “মনুষ্য সমাজে” জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যারা আবার নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ দাবী করে!

***
ফিচার ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম