ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

প্রিয় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্রাহ এর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম ‘উপদ্রুত উপকুলে’। এই মূহর্তে রুদ্র বেঁচে থাকলে কী লিখতেন জানিনা, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী,অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দাবীদার,গণতান্তিকও বটে! মার্কিন যুক্তরাষ্টের নিউইর্য়ক সিটি সত্যিই আজ উপদ্রুত,ঘূণিঝড় স্যান্ডির আঘাতে এই পর্যন্ত, ৪৫জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন,১৪ ফুট উচুঁ জলোচ্ছাসে ডুবে গেছে বাড়িঘর,অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্টান, ক্যাসিনো,সাবওয়ে, বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যুত বিতরন ব্যবস্থা, ধারণা করা হচ্ছে পাঁচকোটিরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে, এই স্যন্ডির আঘাতে।

আমরা যারা নিয়ত ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাসের মাঝে বসবাস করি,তাদের কাছে নিউইর্যকের এই ‘মহাবিপর্যয়’ খুবই স্বাভাবিক, আইলা আর সিডরের তান্ডবে এখনো বাংলাদেশ ধুঁকছে। বিরান হয়ে গেছে ফসলের মাঠ,নষ্ট হয়ে গেছে পানীয় জলের আঁধার, আক্রান্ত এই জনপদের মানুষগুলোর বেঁচে থাকার বিষয়টাই এখন প্রশ্নবোধক হয়ে আছে।

নিউইর্য়কের এই ঘূণিঝড় শুধু প্রাকৃতিক নাকি প্রকৃতির প্রতিশোধ! উন্নত বিশ্ব তাদের সুখ আর লালসার বিপরীতে য়ে পরিমাণ বিষাক্ত কার্বন নির্ঘমন করেছে, সেটার খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের মত দ্ররিদ্র দেশগুলোকে, ঋতুবৈচিত্র্য থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া সবকিছুতে এর প্রভাব দৃশ্যমান।

পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সামিটগুলোতে বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশগুলো সহমীয় মাত্রায় কার্বন নির্ঘমন এবং অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নির্ঘমনে দ্ররিদ্র বিশ্ব যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের দাবী কখনোই মানাতে পারেনি, তাছাড়া কোন মিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই সমস্ত সামিটগুলোর সমাপ্তি টানতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট তাদের এই বিপর্যয় অর্থ আর প্রযুক্তি দিয়ে হয়ত সহজে সামলে নিতে পারবে, কিন্তু স্যান্ডির এই আক্রমনকে তারা শুধু মাত্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখবে নাকি এর পেছনে পরিবেশের প্রভাবের কারণ খুজবে এবং সেমতে পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নিবে। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে এই ধরণের নানা বিপর্যয়ে সাধারণ এবং দ্ররিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খুব স্বাভাবিক, নিউর্য়কের ‘সাধারণ’ মানুষকে এর মাশুল গুনতে হবে। সে সাথে বাংলাদেশের যারা ওখানে আছেন, তারাও কমবেশী ক্ষতির শিকার হবেন। কেননা ইতোমধ্যে, একটি প্রাথমিক হিসেবে, ২০ বিলিয়ন ডলারের মত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে যুক্তরাষ্টকে, গত বছরের ‘আইরিন’ কারণে এর ক্ষতির পরিমান ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট তথা বিশ্ব অর্থনীতির তারতম্যের উপর বাংলাদেশের অথনীতির স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভরশীল। অনেক বাংলাদেশী যুক্তরাষ্টে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে বসবাসরত তারাও এর ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন, ফলে যুক্তরাষ্টের এই বিপর্যয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হবার কারণ আছে। দেশে দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের মাঝে যুক্করাষ্টের মোড়লীপনা আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ঘৃণা প্রতিবাদ আছে খুব স্বাভাবিকভাবে, কিন্তু টুইন টাওয়ার কিংবা স্যান্ডির মত প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়ে যুক্তরাষ্টের এই বির্পযস্ত অবস্থা নিশ্চয়ই কোন শুভবুদ্ধির মানুষ চাইবেন না। কেননা এতে সাধারণ মানুষই ক্ষতির শিকার হয় বেশী।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্টে বসবাসরত বাংলাদেশীদের ব্যপারে খোঁজখবর নিয়েছেন এই জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। একই সাথে বলা যায়, এই দূযোগের সময় বাংলাদেশের যুক্তরাষ্টের জনগণের পাশে থাকা দরকার সমব্যথী হয়ে. যুক্তরাষ্ট চাইলে, বাংলাদেশের সাথে দূর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে, বাংলাদেশের এই দূর্যোগ মোকাবেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। ঝড়, জলোচ্ছাস, খরা আর প্রকৃতির বিরুপতা( যেটা অনেকটা উন্নত বিশ্ব কর্তৃক সৃষ্ট) বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলদেশ এখনো প্রায় ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে টিকে আছে।