ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

5424_675565972584172_4167918039718292793_n

আপনি যদি কখনো দেখেন আপনার সামনে একজন লোক আরেক জন লোককে খুন করলো বা খুনের চেষ্টা করলো, তারপরও আপনি ঐ লোকটিকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারবেন না যদি না এবং যতক্ষন না ঐ অপরাধীর কৃত অপরাধটি উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার করে চুড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। অনেক সময় আমরা যা দেখি তা ঘটে না আবার যেটা ঘটে সেটা দেখতে পাইনা। এজন্যই বাংলাদেশি আইন আপনাকে সেই অধিকার দেয়না। কারণ বাংলাদেশি আইন মূলত: কমন ল সিস্টেম নির্ভর। আমাদের আইন বলে যে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃত বিচারে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নিরাপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। তার অর্থ হলো যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরাপরাধ।

আমাদের আইনি ব্যবস্থা অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধীর মধ্যে সুস্পষ্ঠ সীমা রেখা টেনে দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্পর্শকাতর বিভিন্ন ঘটনায় আটককৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে আটক করে ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করে বা না করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করাটা যেন একটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে আটক করে জেএমবি, ডাকাত, খুনি, চরমপন্থি ইত্যাদি লেবেল তাদের বুকে ঝুলিয়ে দিয়ে গণমাধ্যমে তাদের বিচার করা হচ্ছে। এতে করে ঐ অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃত বিচারে দোষী সাব্যস্থ হওয়ার আগেই কোটি কোটি মানুষের কাছে অপরাধী হিসেবে গন্য হচ্ছেন।

সাধারণ মানুষ তাদেরকে গালি দিচ্ছে বা ঘৃণা করছে। অথচ প্রকৃত বিচারে দেখা গেছে এই সকল অভিযুক্তদের অনেকেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পেয়ে গেছেন। বিষয়টি মানবাধিকারের চরমলঙ্ঘণ হলেও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কোন উচ্চবাচ্য নেই। নেই সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ। এসব বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্বেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কে বুড়ি আঙ্গুল দেখিয়ে একটি মহল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে অনবরত মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। আমরা কম বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের কথা প্রায়শ:ই শুনে থাকি। এমনকি হতে পারে না যে, আপনি চাঁদা দিলেন না বা আইনশৃঙ্খলা  বাহিনীর চাহিদা পুরণ করতে পারলেন না বিধায় আপনাকে গ্রেফতার করা হলো আর গণমাধ্যমে আপনাকে উপস্থাপন করে বুকে লিখে দেয়া হলো যে আপনি একজন চরমপন্থি? আপনাকে গণমাধ্যমে কিছু বলারই সুযোগ দেয়া হলো না আপনার আত্মপক্ষ সমর্থনে অথচ আপনার বিচার হয়ে গেল! কোটি কোটি চোখের সামনে আপনার বিচার হলো। দোষ না করেও আপনি দোষী হয়ে গেলেন। কে চরমপন্থি আর কে ভাল, কে খুনি আর কে ভুক্ত ভোগি এটা নির্ধারণ করার জন্যই তো আদালত।

আবার উল্টোটা ভেবে দেখুন, এই সকল অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বা গণমাধ্যম তাকে পূণরায় গণমাধ্যমে তুলে ধরে বলেন না- এই ব্যক্তি আসলে নিরাপরাধি। সে কথিত অপরাধটি করেনি। ফলে নির্দোষী হওয়া সত্বেও সারা জীবন এই অভিযুক্ত ব্যক্তি সমাজের চোখে একজন অপরাধীই হয়ে রয়। বিষয়টি বড্ড অমানবিক। অচিরেই এমন অমানবিক কর্মকান্ড বন্ধ হোক সাধারণ মানুষ হিসেবে এটাই আমাদের কামনা।