ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি পঙ্গু হতে চলেছে? না একেবারে পঙ্গুত্ববরণ করেছে? তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘নিরাপত্তা, স্বাধীনতাসহ সবকিছু ছেড়ে দিয়ে যদি আমরা উন্নতি করি, তবে সেই উন্নতি দিয়ে কী করব? উন্নতির সঙ্গে অংশীদারত্ব ও অংশগ্রহণ না মেলাতে পারলে সেই উন্নতির সুফল কেউ পাবে না।’ (প্রথম আলো অনলাইন, ২৪ এপ্রিল ২০১৬)
তিনি একটি ভয়াবহ ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনীনৈতিক সংস্কৃতি পঙ্গু হলেই কেবল এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এদেশর জাতীয উন্নতির পেছনে রাজনীতি একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে। অবকাঠামো উন্নয়নের পেছনে কাজ করে সুষ্ঠু এবং প্রাণবন্ত রাজনৈতিক অবস্থা। মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। নিজের এবং অপরের কাজ ঠিক মতো করতে পারে মানুষ। কিন্তু এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে এটা কি দেশের জন্য শুভ হবে?

আমাদের দেশে সব সময় প্রতিহিংসার রাজনীতি চলে আসছে। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে প্রতিদিন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। মানুষ আতংক নিয়ে বসবাস করছে। নিজের ঘরেই নিরাপত্তাহীন বোধ করছে। এই অবস্থার একমাত্র কারণ দেশে সমান অধিকারের রাজনীতি নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ নেই। নেই কোনো জাতীয় নেতা। যার আহ্বানে সাধারণ মানুষ একত্রিত হবে। কিংবা সরকারের সহযোগিতা করবে। এই জাতীয় নেতা তৈরি হতে পারছে না এজন্য যে, স্বাধীনতার পর বন্ধুত্বসুলভ রাজনীতি নেই, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার রাজনীতি নেই।

মানুষের মত ভিন্ন হতে পারে। কাজ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাই বলে পেশীশক্তির বলে ভিন্নমতকে দমন করা সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। আমাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে এটা মানি। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নানা সমস্যা থাকবেই। কিন্তু বাংলাদেশ আর সেই পর্যায়ে নেই। বর্তমানে এদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। সবই ঠিক আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বন্ধুত্বতার দিকে মোটেই নজর দিচ্ছেন না। তিনি তার দলের নেতাকর্মীদেরকে মানুষকে ভালাবাসা শেখাচ্ছেন না। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতে শেখাচ্ছেন না। এটা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি ঘটনা নেই যেখানে সরকারপন্থীরা বিরোধীদের সংগে আপসরফামূলক কাজ হয়েছে। বরং ভিন্ন মতকে বার বার উপেক্ষা করা হচ্ছে। বার বার ভিন্নমতকে কারারুদ্ধ করা হচ্ছে। এটা ভীষণ ভয়ংকর একটা দিক। যার কুফল এদেশের জনগণকেই বয়ে বেড়াতে হবে।