ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রথমেই বলে নেয়া দরকার, একটা জামানা একাধিক যুগকে নির্দেশ করে। সেই হিসেবে আমরা এখন ‌‌’খুন’ জামানায় বসবাস করছি। খুন এখন সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। রাষ্ট্র চেষ্টা করছে। সামাজিকভাবে চেষ্টা করার হচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুই কাজ হচ্ছে না। সারাদেশে ‌’খুন’ একটা ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে। ভয়ঙ্কর ব্যধি। স্বাধীনতার পরে যতগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছে এ ব্যধি কেউ কমাতে পারেনি। সংক্রামক ব্যধির মতো খুন সমাজের অষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গেছে।

খুনগুলো কিভাবে হচ্ছে? এর কয়েকটা দিক রয়েছে। যেমন ব্যক্তিগত বিরোধ, সামষ্টিক বিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ এবং গুপ্তহত্যা ইত্যাদি। ব্যক্তিগত বিরোধে কেউ যদি আত্মহত্যা করে তাহলে সেটা খুনই ধরা যায়। তাছাড়া ব্যক্তিগত বিরোধে আত্মহত্যা ছাড়াই অহরহ খুন হতে হচ্ছে মানুষকে। স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে। স্ত্রী স্বামীকে। ছেলে বাবাকে হত্যা করছে। বাবা ছেলেকে। বন্ধু বন্ধুকে হত্যা করছে। এর উদাহরণ অনেক।

সামষ্টিক বিরোধে খুন হচ্ছে যেগুলো, সেগুলো রাজনৈতিক রূপ দেয়া যায়। দেখা যায় কোনো না কোনোভাবে সেটা রাজনৈতিক সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। দু’দল গ্রামবসাীর সংঘর্ষে যেসব খুন হচ্ছে তা রাজনৈতিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কারো মদদে হয়তো তা করা হচ্ছে। ক্ষমতাধর কোনো ব্যক্তির ইন্ধন তাতে রয়েছে। সে ব্যক্তি ক্ষমতাসীন হোক আর প্রভাবশালী হোক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এ পর্যায়ের খুনই বেড়েই চলেছে। খুন হচ্ছে গ্রামঘাট থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত।

রাজনৈতিক বিরোধের খুনের একটা দিক হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্কোন্দলে খুন। নেতা হতে না পেরে কিংবা নেতা হয়ে গেলে এ খুন হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তা না হলে এ ধরণের খুন বিভীষিকাময় হয়ে দাড়াচ্ছে। শিক্ষিত মানুষ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এরফলে অথবা রাজনীতিতে আসতে ভয় পাচ্ছে। আর এ কারণে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।

গুপ্ত হত্যার বিষয়টি বাংলাদেশে ছিলনা। কিন্তু পাকিস্তানের মেৌলবাদ বাংলাদেশে এসেছে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে টার্গেট করেছে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা। আইএস তাদের থাবা বিস্তার করেছে বাংলাদেশে। এর অবস্থা যে কত ভয়াবহ তা আমরা বুঝতে পারছি না। সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের জঙ্গি কানেকশন আরো ভয়াবহ হয়ে দেখা দিয়েছে। বেড়ে গেছে শঙ্কা। আরো কত খুন হতে হবে কে জানে।

কয়েকটা প্রবণতা বেড়ে গেছে এজন্য খুন হচ্ছে মানুষ :
১. খুনকে সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে ধরে নেয়া হচ্ছে
২. খুনের বিচার হচ্ছে না
৩. খুনিকে টাকা দেয়া হচ্ছে
৪. খুনের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাবানদের হাত রয়েছে
৫. শক্ত বিচার ব্যবস্থা নেই