ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমাদের রক্তারক্তি দেখে দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধীরা হাসে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বশেষ ষষ্ঠ দফায়ও ১২ জন নিহত হয়েছে (২৯ মে ২০১৬, যুগান্তর)। আমরা এমন হয়ে গেছি যে, নিজের ভাইকে হত্যা করে ক্ষমতায় যেতে চাই। আমরা বাবাকে হত্যা করে শক্তি অর্জন করতে চাই। আমরা প্রতিপক্ষকে হত্যার করে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান চাই। যাই হোক এটা সভ্য সমাজের কোনো পদ্ধতি কিংবা দৃশ্য হতে পারে না।
আমরা কি প্রমাণ করিনি আমাদের রক্তে কলুষতা মিশে আছে? আমরা কি দেখাইনি যে মানুষ হত্যা করে সমাজের শাসক হতে কতই না সহজ? আমরা কি আমাদের বিবেককে সান্ত্বনা দিতে পারব? না কখনও তা নয়। কারণ বিবেকের প্রশ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমরা আমাদের বাঙালিপনাকে বিসর্জন দিয়ে আমরা হত্যার রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছি। আমরা আমাদের জ্ঞাতি সম্পর্ককে, মনুষ্যত্ববোধ ও মানবতাকে অস্বীকার করে আমাদের হাতকে মানুষের রক্তে রঞ্জিত করেছি। আমাদের জবাব দেয়ার কিছুই নেই। আমাদের জাতিবোধকে আমরা ঘৃণা করতে শিখেছি। নতুন প্রজন্মকে শেখাচ্ছি।

ছয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় ৩৪ জনের বেশি লোককে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছি। আচ্ছা যারাই এর জন্য দায়ী তাদের কি কোনো রক্তের সম্পর্কের কেউ নেই? আমরা যদি অনুধাবন করতাম যাকে হত্যা করছি, কিংবা যে হত্যার শিকার হচ্ছে- সে তো আমার ভাই, কিংবা বাবা হতে পারত। কিংবা সহিংসতা সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করে এর সুফল কতদিনইবা ভোগ করা যাবে- কিংবা যাদের দ্বারা ব্যবহার হয়ে মানুষের রক্তে জমিন ভিজিয়ে দিচ্ছি-এর ফলাফল ভাল কিছু হতে পারে না।

আমাদের অনুভূতি শক্তি লোপ পেয়েছে। আমরা জঘন্য জীব হয়ে প্রভু সেজে বসে আছি। আমরা একবারও দেশ ও স্বাধীনতার ফলাফলের কথা চিন্তা করবো না? আমরা কি ভাববো না- একাত্তরে যারা বাঙালির রক্তে জমিন ভিজিয়েছিল, একইভাবে নিজেরাই মানুষের রক্তে জমিন ভেজাচ্ছি? দেশবিরোধীরা তো হাসছে আমাদের কর্মকাণ্ড দেখে।

মানুষ হত্যা বাংলাদেশে এত সহজ হয়ে গেছে? রক্তের দাম এতো কমে গেছে? মানুষের কান্নার দাম এতো কমে গেছে? সহানুভূতির স্তর এতো নিচে নেমে গেছে? ক্ষমতা পেতে কিংবা দুদিনের প্রভাবশালী হতে মানুষ হত্যা করতে লোক জড়ো করতে হবে? বিশাল গাড়িবহর সাজিয়ে নেতাদের স্বাগত জানাতে হত্যার আশ্রয় নিতে হবে? তাহলের আমাদের জাতীয় স্বপ্নগুলোর কি হবে? নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, মূল্যবোধ, বিশ্ববুকে উন্নত দেশ ইত্যাদি স্বপ্নের কি হবে? আমরা কি একটুও পারিনা অন্তত হত্যা বন্ধ করতে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে? আমরা মানুষের রক্তের দাম কি দিতে পারি না?

মানুষ হত্যার চেয়ে তো জঘন্য কাজ আর নেই এটা তো আমরা জানি। আমরা শিক্ষাগ্রহণ করি মানুষের জন্য উপকারে লাগতে। যদি তাই না হয়- এত প্লান-পরিকল্পনা করে লাভ কি? স্বাধীনতার ৪৫ বছরে আমরা যা অর্জন করেছি- তা কি কঠোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুফল ভোগ করতে পারি না? তাহলে সরকার কিংবা আইনি প্রতিষ্ঠান কিংবা কৌশলী জনগোষ্ঠী কেন দরকার। দেশের জন্য তো? তাহলে আমরা হত্যার মতো বিষয়কে এতো গুরুত্বহীন করে দিচ্ছি? আমাদের জবাব দেয়ার কিছু আছে? নেই । নেই। নেই। আমাদের সব অর্জন ব্যর্থ করতে আমরা নিজেরাই পথে নেমেছি। এর থেকে কি রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই? আছে। আমরা নির্বাচিত হয়ে প্রভু সেজে বসব না। আমরা যদি শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু) কিংবা হক সাহেব (একে ফজলুল হক) হতে পারি তবেই আমরা সে উদ্দেশ্য সাধন করতে পারব। আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। মানুষকে গোলাম বানানোর প্লান বাদ দিতে হবে। তাহলেই আমরা হয়ে উঠবো একটা সভ্য সমাজের অংশ। নইলে নয়।