ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বিমানবন্দর নিয়ে অবহেলা করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। যদিও এ নিয়ে তেমন কেউ ভাবেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী কোনো বিমান যদি অবতরণ না করে যদি ৩৭ মিনিট আকাশে চক্কর দিতে বাধ্য হয়, তখন ভাবনাটা এসেই যায়। এই অবহেলা কিসের ইঙ্গিত? ভাবা যায় অনেক কিছু।

এছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অবস্থাও আশঙ্কা করার মতো। রানওয়েতে শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগলও নাকি চরে (প্রথম আলো ১১ জুন ২০১৬)। বিষয়টি অবাক করার মতো। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কতটা অবহেলা করলে এগুলো হতে পারে। ওই খবরে বলা হয়েছে, প্রাচীরের তল দিয়ে তিনটি সুড়ঙ্গ পথও রয়েছে। যার মধ্য দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। কুকুর, গরু-ছাগল ঢুকে পড়ে। মানুষ বিমানবন্দরে ঢুকে ঘাষও নাকি কাটতে পারে। এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই।

৭ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী একটি বিমান শাহজালাল বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক নামতে পারেনি। রানওয়েতে ছিল কয়েকটি ধাতব পদার্থ। ওই ধাতদব পদার্থগুলো ছিল কিছুক্ষণ রানওয়ে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৭৭ এর। একটা বিমান রানওয়ে ছেড়ে গেল, আর কিছু ধাতব পদার্থ ইঞ্জিন থেকে খুলে পড়ে গেল। এটা কেমন হল? বিমানটিতে নিশ্চয় গুরুত্বপূর্ণ লোকজন ছিল। কিন্তু এ অবস্থায় বিমানটি উড়ানো হল কেন? আকাশে তো কোনো দুর্ঘটনায় পড়তে পারতো বিমানটি। এসব কিছুই ভাবা হলো না। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানওয়েতে নামতে পারছেন না, এ বিষয়টি খুব ছোটখাট? না হোক..কিন্তু ঘটনাটা যদি অন্য কিছু হয়ে যেত? তাহলে কি বলত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর জীবনের ওপর দিয়ে কিছু হয়ে গেলে তাদের কি বলার ছিল?

শাহজালালে ওই ঘটনায় দুই প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে (১০ জুন, প্রথম আলো)। ঘটনার পরই একজন কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়। আমরা মনে করছি সবই হল, কিন্তু দুর্ঘটনা যদি ঘটে যেত? তাহলে তখন হাউমাউ করে কোনোই লাভ হত না।

আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘটনায় শাস্তি হওয়া উচিত ছিল দৃষ্টান্তমূলক। যাতে দেশের ভিভিআইপি পারসনদের নিয়ে কেউ খেলা করতে না পারে।