ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

ঈদে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পারল না সরকার। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বহু ঘোষণা দিয়েছেন কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। গত ঈদে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, পথে ঘাটে যাত্রীদের সমস্যা লাঘবে নানা ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছু ব্যবস্থা নেয়াও হয়েছিল। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। আমি ঢাকা-খুলনা রুটের কথা বলছি। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় এক দুঃসহ যন্ত্রণা থেকেই যায়।
মন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন, পথে পথে থাকবে যাত্রীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা। কিন্তু তা চোখে পড়েনি। বলেছিলেন জ্যাম থাকবে না। কিন্তু তিন হাত এগোতে আধাঘণ্টাও লেগেছিল। সে কি এক যন্ত্রণা। বাড়ি যাব কি ঢাকা ফিরে যাব সে চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমার মতো অনেকেই এরকম চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু ঢাকা ফেরাও যে যাবে না, কিংবা প্রায় অসম্ভব তাও জানত সবাই।
অমাাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে দিন দিন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যাওয়া যাওয়া বোধ হয় অনেক দূর। আমাদের গাড়িগুলোর অবস্থাও খুব বেশি চেঞ্জ হয়নি। ঈদের সময় সেই পুরনো গাড়িতে রং করে পথে নামানো হয়। গতবার ঈদে একটা গাড়ি পেয়েছিলাম সোহাগ পরিবহনের। সামনে লেখা সোহাগ। কিন্তু পথে দুটি জানালা খুলে পড়ে গিয়েছিল। যদি বৃষ্টি হতো, তাহলে অন্তত ১০০ কিলোমিটার পথ ভিজে ভিজে আসতে হতো। ভাগ্য ভাল সেটা হয়নি। কিন্তু রোদের যে কড়াকড়ি ছিল তাতে ছিল দোজখের ওম। আমার পাশে বসা নারীটি অন্তত ১০০ কিলো রোদ বাতাসের সঙ্গে লড়াই করে গাবতলি নেমেছিল। অবশ্য অনেক হেল্প পেয়েছিলেন তিনি আমার কাছ থেকে।
যা বলছিলাম, ঈদের সময় ঢাকা থেকে বাড়িতে যেতে যদি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যেত তাহলে কত ভালই না হতো। সরকার কিন্তু সেটা পারে। গাড়ি মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাল গাড়ি সরবরাহ করা যায়। কিন্তু জ্যাম কেমন করে সামলানো যাবে? তাও হয়তো অনেকাংশে সম্ভব। যদি ফেরি ঘাটে পর্যাপ্ত ফেরি চলাচল থাকে তাহলে অনেকাংশে কমে যাবে জটের বিড়ম্বনা।
এবার আসি রাস্তাঘাটের বিষয়ে। রাস্তাঘাটের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়তো অল্প সময়ে সম্ভব না, কিন্তু এ সরকার যদ্দিন ক্ষমতায় রয়েছে, এ সময়ের মধ্যে রাস্তাঘাটের অবস্থা ভাল করা যেত। ঈদের আগে রাস্তায় পটি মেরে ফলাফল উল্টো হয়। পরের ঈদের সময় সেগুলো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। দক্ষিণ-পশ্চিমের রাস্তাঘাটের অবস্থা যাচ্ছেনাতাই। গাড়িতে বসে মনে হয় কোনো চৈত্রমাসের ঢিলা ওয়ালা জমির ওপর দিয়ে গাড়িটি যাচ্ছে। বাচ্চা থাকলে তো কথাই নেই। গাড়ি থেকে নেমেই ডাক্তার। তবে ভাল ডাক্তার ওই সময় পাওয়া সম্ভব না।

আমাদের দেশের মানুষ অন্য দেশের চাইতে সহনশীল বলা যায়। তা না হলে এক সমস্যা কিভাবে তারা মুখ বুজে সহ্য করে? ফেরিতে টয়লেটের অবস্থা ভয়াবহ। লাইন ধরে টয়লেটের কাজ সারতে হয়। মহিলাদের জন্য এটা জাহান্নাম বলা চলে। কিন্তু কখনও কোনো সাধু ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম না, এর পরিবর্তন হওয়া দরকার। মাননীয় মন্ত্রী ফেরির টয়লেট উন্নত করতে মালিকদের নির্দেশ দিন প্লিজ।