ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পঙ্গু জীবনের অর্থ কী? এ জীবন নিয়ে কী করবে খাদিজা? তার আগের প্রাণবন্ত জীবন কি কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে? এসব প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। এর জবাব সরকারের বড় কর্তাদের কাছেও নেই। খাদিজার ডাক্তার এএম রেজাউস সাত্তার বলেছেন, এ ধরণের রোগীর অঙ্গহানি বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো বেঁচে থাকা (ইত্তেফাক ৯ অক্টোবর)।
এখন বিষয়টা নিশ্চিত- খাদিজা আর আগের জীবনে ফিরতে পারবেন না। তাকে বেঁচে থাকতে হবে পঙ্গু হয়ে। অন্তত ডাক্তারের কথা এটাই প্রমাণ করে। তাহলে খাদিজার স্বপ্নকে যারা হেলায় নষ্ট করে দিল, তাদের কি কোনো বিচার হবে না? হলেও খাদিজার জীবন কি আর ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে?

পত্রিকায় দেখলাম আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারণ খাদিজা আগের চেয়ে ভালভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন। এখনি বিদেশ না নিতেও বলা হয়েছে। অথচ উল্টোটা হওয়ার কথা ছিল। যেখানে একটি রোগীর চোখ মেলানো নিয়ে কথা উঠছে। হাত-পা অবস হয়ে রয়েছে। চোখ কয়েকবার খুলেছে বলে আর বিদেশ নিতে হবে না। এটা কেমন কথা? অথচ ডাক্তার বলছেন, এধরণের রোগীদের বেঁচে থাকা নিয়েই সংশয় রয়েছে (ইত্তেফাক)।

১৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়েছে। ডাক্তার বলছেন, খাদিজার হাত-পা অবস হয়ে রয়েছে। কয়েকবার! চোখ খুলতে পেরেছেন। অথচ তাকে নিয়ে কোনো মহলে কোনো উদ্বেগ দেখছি না। মেয়েটি হয়তো বেঁচে উঠবে (সবার প্রত্যাশা)। কিন্তু সেই বাঁচা কি আগের মতো জীবন। সেও একটা মৃতের মতো জীবন। সে জীবন আর আগের জীবনের অনেক ফারাক।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজাকে দেখতে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি খাদিজার চিকিৎসার ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন প্রয়োজন হলে তাকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। প্রশ্ন হল, একজন রোগী যখন আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা নেই, শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন, এক দুইবার চোখ খুলছেন, এ অবস্থায় কি বিদেশ নেয়ার সময় হয়নি? তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামলাকারী বদরুলের বিচারের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের মতোই এ হামলাকারীর বিচার হবে।

খাদিজার ডাক্তার বলেছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ৫ শতাংশ। এখন সে সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেড়েছে। তাহলে ৯০ শতাংশই সম্ভাবনা নেই। এ অবস্থায় সে রোগীকে বিদেশ নেয়া দরকার নয় উন্নত চিকিৎসার জন্য?
ওই ডাক্তার আরও বলেন, এ ধরণের রোগীকে চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা দেয়া দরকার হয়। কিন্তু খাদিজার চিকিৎসা আক্রান্ত হওয়ার ১২-১৪ ঘণ্টা পর শুরু হয়।